Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

আ.লীগের একক আজম, বিএনপির একাধিক প্রার্থী

আপডেটঃ 7:53 pm | October 30, 2018

বাহাদুর ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামালপুর-৩ আসনে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সভাসমাবেশ গণসংযোগ, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ নানান কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ মেলাতে শুভেচ্ছা বিনিময়, সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কোনো কমতি নেই তাদের। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে জামালপুর-৩ আসনে একক প্রার্থী নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসন। নির্বাচনী লড়াইয়ে বিগত দিনে একবারও টিকতে পারেনি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপি। এ আসনে মূলত আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির। তবে দলীয় কোন্দলে জর্জরিত বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করলে আবারও হাতছাড়া হতে পারে এ আসনটি।

আওয়ামী লীগ থেকে গত পাঁচবারের নির্বাচিত টানা এমপি মীর্জা আজম বর্তমান সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী। ১৯৯১ থেকে আসনটি তার দখলে। প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয় পান এই হেভিওয়েট নেতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ আসনের আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী। এদিকে জাতীয় পার্টি এ আসনে একবার নির্বাচিত হলেও বিএনপি কখনো নির্বাচিত হতে পারেনি। তবু আশা ছাড়েনি দলটি। এ আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপির ৫ প্রার্থী মাঠে তৎপর রয়েছেন। এ জন্য দলীয় কেন্দ্রে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন একক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

সংসদের ১৪০ নম্বর নির্বাচনী এলাকা জামালপুর-৩ আয়তন ৪৭৮.৪২ কিলোমিটার। মেলান্দহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭ হাজার ৮৯৩ ও মহিলা ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০।

আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির শক্তিশালী ৫ নেতার মনোনয়ন লড়াইয়ে বিভক্ত স্থানীয় সংগঠন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির জলবায়ুবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও মাদারগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ফায়েজুল ইসলাম লান্জু, সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার দৌলতুজ্জামান আনসারী। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির নেতা মীর সামসুল আলম লিপটন, ইসলামী আন্দোলনের মেলান্দহ উপজেলা শাখার সম্পাদক মাওলানা বোরহান উদ্দিন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

৮০-পরবর্তী নির্বাচনী ইতিহাস অনুসন্ধান করে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আট দলের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার প্রয়াত শফিকুল ইসলাম খোকা নির্বাচিত হন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২৭ বছর ধরে জামালপুর-৩ আসনটি নিজের দখলে রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মীর্জা আজম। ২৬ বছর বয়সে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী খায়রুল বাশার চিশতীকে পরাজিত করে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া প্রবীণ নেতা আবদুল হাই বাচ্চু, ২০০১ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খোকা এবং পরবর্তী সব নির্বাচনে ৯০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রনেতা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। একাধারে ৫ বার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় মীর্জা আজমের প্রতি শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষেরও আস্থা রয়েছে।

নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে এখনো। আবার দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে অনেক নেতা। মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌর প্রশাসক আতাউর রহমান আবু তালুকদার, মেলান্দহ পৌরসভার সাবেক মেয়র হাজি দিদার পাশাসহ বিএনপির কয়েক শ নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এ ছাড়া গত পৌরসভা নির্বাচনে মাদারগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোশারফ হোসেন লেমন তালুকদার গোপনে মনোনয়ন প্রত্যহার করে ঢাকা চলে যাওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনটিতে জয় নিশ্চিত করতে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের পরিবর্তে নতুন মুখের প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি।

ভোটাররা বলছেন, যিনি সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত মেলান্দহ মাদারগঞ্জ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং বেকার সমস্যাসহ এই আসনের মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, তাকে এবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাক ও মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, তিনি এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি মেলান্দহ মাদারগঞ্জ উপজেলার নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে হলে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানী জানান, মেলান্দহ মাদারগঞ্জ বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হলেও যোগ্য প্রার্থী না দেওয়ায় বারবার আসনটি হাতছাড়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনটি উদ্ধারে প্রার্থী নির্বাচনে দলটি এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না। এবার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি অবশ্যই নির্বাচিত হব এবং মেলান্দহ মাদারগঞ্জ উপজেলার বেকার সমস্যাসহ এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখব।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির জলবায়ুবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানান, ২০০১ সালে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ভোট পেয়ে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হই। পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে মনোনয়ন দিলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে জয়লাভ করতে পারিনি। বর্তমানে মেলান্দহ মাদারগঞ্জে কোনো দ্বন্দ্ব-কলহ নেই। আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হলে আর আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

আওয়ামী লীগের একক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম জানান, আমি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আমার এলাকার ভোটারদের আমি মনিব হিসেবে মানি। তাদের উন্নয়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এ আসনে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি। এ আসনে ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও জেলায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান ও প্রক্রিয়াধীন। আমার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পাব এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব।

জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মীর সামসুল আলম লিপটন এ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে সিপিবি নেতা ও যুব ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও এটা এখনো অমীমাংসিত বলে জানান তিনি।

 

Print Friendly, PDF & Email