Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

৪০ বছরের রেকর্ড ছাড়াল অগ্নিকাণ্ডে দুর্ঘটনার সংখ্যা

আপডেটঃ 6:23 pm | November 29, 2018

বাহাদুর ডেস্ক

রান্নার ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বাড়ছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার। এ সুযোগে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে মানহীন এলপিজি সিলিন্ডার। আর মানহীনতার কারণে বাড়ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। তাই রাজধানীতে নতুন আতঙ্কের নাম সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। তবে এটির মান যাচাই বা নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো সংস্থা। হযবরলভাবে চলছে এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদন, সরবরাহ, বিক্রি ও ব্যবস্থাপনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগুনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে কয়েক বছরে শীত মৌসুমে এ দুর্ঘটনার সংখ্যা গত ৪০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তাই ব্যবহারকারীদের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শ, পাইপলাইন ও সিলিন্ডার গ্যাসের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপকরণগুলো নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।

গবেষকরা বলছেন, একেকটি এলপিজি সিলিন্ডার হতে পারে একেকটি সিলিন্ডার বোম। সিলিন্ডারের মানহীনতার কারণে ঘন ঘন ঘটছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা, যাতে ঘটছে প্রাণহানি। তবে এটির মান যাচাই বা নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো সংস্থা। দেশে প্রতি বছর ৬ লাখেরও বেশি মানুষ আগুনে পুড়ে হতাহত হন। যাদের বেশিরভাগই রান্নার গ্যাস থেকে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও অন্য হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আসা রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই রান্নার গ্যাসের অনিরাপদ ব্যবহারে পরবর্তী অসতর্কতা ফলে দুর্ঘটনার শিকার। প্রতিষ্ঠানটির জরিপ মতে, আক্রান্তদের মধ্যে বছরে কমপক্ষে ২ হাজার জনের মৃত্যু হয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও কর্মক্ষমতা হারান অনেকে।

শীত মৌসুমে তাপমাত্রা কম থাকায় আগুনের ব্যবহারও তুলনামূলক বাড়ে। গত কয়েক বছরে বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস সংকট মোকাবিলা ও বাইরের দোকানপাটে সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিরাপদভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, গ্যাস বার্নে গত ৪০ বছরে এত দুর্ঘটনা দেখিনি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ৮০টি। ২০১৬ সালে বেড়ে হয় ১৩১টি। আর গত বছর ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকা- হয়েছে ৭৯টি।

শুধু বাসাবাড়ি কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে নয়, বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডার যানবাহনেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটিতে পৌঁছেছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার ও নানা ত্রুটির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। তবে মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা কমাতে পারে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা।

সবশেষ গত সোমবার কারওয়ানবাজারে ইটিভি ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর টাওয়ারের পেছনের গলিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর ইটিভি ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয়তলায় আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাড়ির দেয়াল ধসে সাত বছরের এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এই ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ ছয়জন দগ্ধ হন। আহতরা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এর আগে ৬ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় নবীনগর হাউজিংয়ে একটি টিনশেড ঘরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হন স্বামী-স্ত্রী। ভোর ৫টায় হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটার সময় দুজনেই ছিলেন ঘুমন্ত অবস্থায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হলে ওই দিনই মারা যান স্বামী সাইফুল ইসলাম।

এদিকে গত ১ নভেম্বর বিমানবন্দর সড়কে পিকআপ ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। ওই ঘটনায় যানবাহন ও আশপাশের থাকা আটজন দগ্ধ হয়ে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন।

চলতি মাসেই শুধু রাজধানীতেই চারটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন আর দগ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছেন ১৩ জন। এভাবেই প্রতি মাসে সারা দেশেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এসব বিস্ফোরণে হতাহত হলেও এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

এসব বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, গ্যাস খাতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। এলপিজি বেসরকারি খাতে দিয়ে দেওয়ায় কোনো নজরদারি বা হস্তক্ষেপ নেই। কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো চলছে। গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

ঘন ঘন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের প্রতিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এই বিষয়টি দেখভাল করবে বিস্ফোরক অধিদফতর কিন্তু তারা তাদের কাজটি ঠিকমতো করছে না। এক্ষেত্রে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) অধীনে নির্দিষ্ট করে কোনো বিভাগ করে শুধু এলপিজি সিলিন্ডারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email