Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

আইনশৃঙ্খলার বরাদ্দ সমন্বয়ে হিমশিম ইসি

আপডেটঃ 3:35 pm | November 30, 2018

বাহাদুর ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে ১২ কোটি টাকা বেশি চেয়েছে পুলিশ সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা খাতের পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাখা বরাদ্দের পরিমাণ ৪১২ কোটি ২০ লাখ; যার মধ্যে পুলিশ চেয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। তাদের চাহিদার মধ্যে শুধু পানি বাবদ রয়েছে সাড়ে ৮ কোটি টাকা। অথচ এ বাহিনীর জন্য রাখা বরাদ্দের পরিমাণ দেড় শ কোটির বেশি।

একই চিত্র বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির চাহিদাতেও। এ বাহিনীর জন্য রাখা বরাদ্দ ১৫ কোটি টাকার মতো। কিন্তু তারা চেয়েছে ৭২ কোটি টাকার বেশি। একইভাবে আনসার ভিডিপির সদস্যরা চেয়েছে ১৫৮ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে দেখা গেছে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার এ বাহিনীর চাহিদা ৬৫৪ কোটি টাকার বেশি, যা মোট বরাদ্দের দেড়গুণ। নির্বাচন কার্যক্রম শুরুর সময়ে বিভিন্ন বাহিনীর এই চাহিদা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা খাতে বরাদ্দ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ দফতর থেকে তাদের চাহিদা পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, ক্ষেত্রবিশেষে এসব বরাদ্দের চেয়ে বেশি। এখন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করে এগুলো মেটানোর চেষ্টা করবে ইসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা দেখে বিস্মিত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো জানেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মোট বরাদ্দ ৭৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালনায় ৩১২ কোটি টাকা বাকি টাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। আইনশৃঙ্খলার পক্ষ থেকে আসা চাহিদা পুরো নির্বাচনের বরাদ্দের কাছাকাছি। র‌্যাব ও সেনা বাহিনী চাহিদা দিলে মোট বরাদ্দের মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলার বরাদ্দ সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার আইনশৃঙ্খলার মধ্যে আনসার, ব্যাটালিয়ান আনসার ও ভিডিপির সদস্যদেও জন্য বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি। এ বাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকার বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পুলিশের। এর পর সেনা, র‌্যাব ও বিজিবির।

নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের পাহারায় থাকে পুলিশ সদস্যরা। ভোটের আগে-পরে চার দিনের জন্য তারা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কেন্দ্র পাহারায় থাকেন আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা। আর কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে সেনা, র‌্যাব ও বিজিবি।

তবে, ইতোমধ্যে ব্যয়ের অগ্রিম চাহিদা চেয়ে পুলিশ, আনসার ও বিজিবিকে চিঠি দিয়েছে ইসি। পুলিশের দেওয়া চাহিদা ৪২৪ কোটি ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫০ টাকা। এর মধ্যে দৈনিক ভাতা (টিএ-ডিএ) বাবদ ১৫৫ কোটি ৩১ লাখ, যানবাহন ও জলযান বাবদ ৮৮ কোটি ৬৮ লাখ, জ¦ালানি বাবদ ৩৮ কোটি ২২ লাখ, অন্যান্য ৩২ কোটি ১৫ লাখ, আপ্যায়ন বাবদ ২৪ কোটি ৭৫ লাখ, খাবার পানি ৮ কোটি ৬৫ লাখ এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম বাবদ ৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।

আর বিজিবি চেয়েছে ৭২ কোটি ৯৭ লাখ ৯ হাজার ৭৬২ টাকা এবং আনসার দফতর থেকে চেয়েছে ১৫৮ কোটি ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা। এখনো র‌্যাব ও সেনা বাহিনী তাদের বরাদ্দ চেয়ে কমিশনকে তাগিদপত্র দেয়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গত ২৮ নভেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা শেষ হয়েছে। আগামী ২-৩ ডিসেম্বর এসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। আর ৯ তারিখ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email