Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ-সহযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ (ভিডিওসহ)

আপডেটঃ 7:54 pm | January 04, 2019

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। এমন সৎ, নিষ্ঠাবান নেতা আওয়ামী লীগে বিরল। প্রকৃতপক্ষে একজন মেধাসম্পন্ন রাজনৈতিক ছিলেন সৈয়দ আশরাফ।

কথাগুলো বলছিলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সহযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে লড়েছেন, ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন একসঙ্গে, চেয়েছিলেন একসঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে- কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি নাজিম উদ্দিনের।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজনৈতিক সঙ্গীর মৃত্যুর খবর শুনে এই অপ্রাপ্তির কথাই বলছিলেন তিনি। তার স্মৃতিচারণে আসে একাত্তরের কথাও।

নাজিম বলেন, আমরা বিএলএফে (মুজিব বাহিনী) যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। রাজ্জাক ভাইয়ের (প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক) নেতৃত্বে বিএলএফ করেছি। আমরা রংপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত এলাকায় ছিলাম।

নাজিম বলেন, ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছি। চার বছর আমরা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা এক সঙ্গে ছয় দফা, ১১ দফা আন্দোলন করেছি।

তিনি বলেন, আমি ছিলাম সভাপতি। বয়সে আমার আড়াই বছরের ছোট হলেও চলতাম বন্ধুর মতো। কোনো সময় আমাকে নাম ধরে ডাকেনি আশরাফ। দেখা হলেই বলত, ‘আমার নেতা আসছে’।

ছাত্র আন্দোলনের কথা স্মরণ করে নাজিম বলেন, খেয়ে না খেয়ে রাজনীতি করেছি। অনেক সময় দুজনের কারও কাছেই টাকা ছিল না, দলের দুঃসময়ে পালিয়ে বেড়াতে হতো, আত্মগোপনে দুজন একসঙ্গে ছিলাম অনেক দিন। তাই বাড়ি থেকে টাকা আনতে যাওয়ারও সুযোগ ছিল না।

আশরাফের ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রসঙ্গে নাজিম বলেন, ছাত্রজীবনে সে মেধাবী ছিল। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সময় ইন্টারমিডিয়েটে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ত সে।

তিনি বলেন, তার বাবা প্রথমে চাইছিল না, কিন্ত আশরাফের আগ্রহ ও আমাদের সবার চাওয়ার কারণে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়েছিলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যখন আব্দুল জলিল গ্রেফতার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে আশরাফুলের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছিল। পিতার মৃত্যুর পর সৈয়দ আশরাফুল যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন।

লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ যুব লীগের সদস্য ছিলেন। আশরাফুল ফেডারেশন অব বাংলাদেশি ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এফবিওয়াইইউ) এর শিক্ষা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে আশরাফুল দেশে ফিরে আসেন এবং জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

২০১৫ সালের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী করেন। এক মাস এক সপ্তাহ দফতরবিহীন মন্ত্রী থাকার পর ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন।

এরপর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফ। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকায় বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথগ্রহণ করতে পারেননি।

শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে তিনি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। বুধবার স্পিকারের দফতরে তার ওই চিঠি পৌঁছে। এ বিষয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘উনার চিঠি পেয়েছি। উনি দেশে ফিরে আসার পর শপথ নিতে চান। আর এমনিতেই ৯০ দিন সময় উনি পাবেন।’

এর মধ্যেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

Posted by Tanjeer Ahmed Rajib on Saturday, January 5, 2019

Print Friendly, PDF & Email