Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

বিদেশি বিনিয়োগে ব্যাপক সাড়া

আপডেটঃ 12:01 pm | February 05, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

অর্থনৈতিকভাবে দেশকে শক্তিশালী করতে গড়ে তোলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতোমধ্যে ৫ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এসব বিনিয়োগ দিয়ে মূলত স্টিল, বিদ্যুৎ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, ইমারত সরঞ্জাম, রং এবং পেট্রো কেমিক্যাল পণ্যের কারখানা গড়ে তোলা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি ১২টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি জমি বরাদ্দের ইজারা চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের অনেককেই ভূমিসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি আরো ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাইপলাইনে রয়েছে। সূত্র জানায়, প্রায় ৫ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ দিয়ে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে। সেখানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিদেশি যে ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এগুলো হচ্ছে জাপানের বিশ্বখ্যাত নিপ্পন স্টিল কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি ইমারত নির্মাণসামগ্রী হিসেবে ফেব্রিকেটেড স্টিল উৎপাদনে ৫৯ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। মালয়েশিয়ার ইয়নমেটাল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড স্টিল র‌্যাক উৎপাদনে ৯ মিলিয়ন ডলার, চীনের বড় প্রতিষ্ঠান বেইজিং জেনইয়নকনস লিমিটেড ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩০৪ মিলিয়ন ডলার, চীনের আরেক বড় প্রতিষ্ঠান হ্যাংজো জিনজুন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ইউরোশিয়া ফুড প্রোসেজ লিমিটেড খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ৩০ মিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরভিত্তিক এডিবেল ওয়েল লিমিটেড ফুড পার্ক গড়ে তুলতে ৪০০ মিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব-আমিরাতের প্রতিষ্ঠান আরব-বাংলাদেশ ফুড লিমিটেড হিমায়িত খাদ্যশিল্পে ১২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার, ভারতের শীর্ষস্থানীয় রং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান পেইন্ট রং উৎপাদনশিল্পে ২৬ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস্ স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনে ১৩ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়ার মার্চেন্ট মেলবোর্ন লিমিটেড ৩ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আস্ট-বাংলা এক্সেসরিজ লিমিটেড গার্মেন্ট এক্সেসরিজ উৎপাদনে ১২ দশমিক ১৫ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সুপার পেট্রো কেমিক্যাল লিমিটেড পেট্রো কেমিক্যাল পণ্যের কারখানায় ২ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান মোট ১ হাজার ৮১০ একর জমি ইজারা নিচ্ছে। যার অধিকাংশ মিরসরাই ও মহেশখালীতে। আগামী বছরের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তা ছাড়া চীন, জাপান ও ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত আলাদা অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশে শিল্পায়ন, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন এবং রফতানি বহুমুখীকরণ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেজা ২০৩০ সাল নাগাদ দেশব্যাপী ৭৫ হাজার একর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ করছে। এর মাধ্যমে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি এবং ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে। বেজা এ পর্যন্ত মোট ১৯টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাক-যোগ্যতা সনদ প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৭টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত সনদ দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৭টি শিল্প স্থাপন হয়েছে এবং আরো ১৭টি শিল্প স্থাপনের কাজ চলছে। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট ২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে এবং ২০ হাজার ২৭৬ জনের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান বড় বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এখন বাংলাদেশে আসছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে তাদের এই আগ্রহ বাংলাদেশের অর্থনীতির অমিত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেজা পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তার সভাপতিত্বে হয় প্রথম পরিচালনা পরিষদের বৈঠক। বর্তমানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ শেষ করতে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (পর্যায়-১)’ শীর্ষক একটি প্রকল্পও হাতে নেয় সরকার। ইতোমধ্যেই বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল নীতি-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল বিধিমালা, ২০১৪ সংশোধন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email