Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

এমপি মনোনয়নবঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর ফেসবুকে স্ট্যাটাস ॥ ‘আমার ফাঁসী চাই’

আপডেটঃ 4:29 pm | February 10, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট ও ভাগ্যহতের মর্মবাণী ‘আমার ফাঁসী চাই’। এমন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাজনীন আলম। উপনির্বাচন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নৌকা প্রতীক’ বঞ্চিত হন তিনি। পরবর্তীতে সংরক্ষিত আসনে এমপি’র মনোনয়নপত্র জমা দেন। এবারও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনে ৪১জনের তালিকাও নেই তিনি।
এ প্রসঙ্গে নাজনীন আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার স্বামী ফেরদৌস আলম জানান, তার স্ত্রী নাজনীন আলম হাসপাতালে গেছেন। তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত, হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের বারবার আশাহতের বিষয়টি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
‘আমার ফাঁসী চাই’ মর্মে ফেসবুক মন্তব্য তাদেরই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন আমার স্ত্রী ও আমি বঙ্গবন্ধু’র আদর্শের মানুষ। সাধারণ মানুষের সুখেদু:খে মিশে আছি। দলের জন্য জীবনের যা অর্জন ছিলো সব দিয়ে দিয়েছি। এরপরেও আমরা কী পেলাম!
বারবার মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় শনিবার রাত ৭টা ১১মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন ‘আমার ফাঁসী চাই’। ফাঁসির কারণ হিসাবে ভুল ও অপরাধের ৯শর্তের বর্ণনাও দেন তিনি। মাত্র এক ঘন্টায় দুই তিনশ’র অধিক ফেসবুক ব্যবহারকারী ‘কষ্ট ও ভালোবাসা’র বাটনে ক্লিক করেন। মন্তব্য করেছেন ৭২৩জন। শেয়ার করেছেন ১০৯জন।
নাজনীন আলম (ঘধুহরহ অষধস) এর ফেসবুকের মন্তব্য পাঠকদের জন্য হুবহুব তুলে ধরা হলো।
‘আমার ফাঁসী চাই..!!
১) কেন হাই কমান্ডের আশ্বাসকে সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম!
২) এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার প্রয়োজন কেন অনুভব করেছিলাম!
৩) এমপি/সিনিয়র কোন নেতার পরিবারের সদস্য কেন আমি হলাম না!
৫) কেন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি পয়সা রোজগারের ধান্ধা করিনি!
৬) কেন দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে দিনে দিনে নি:স্ব হতে গেলাম!
৭) কেন জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেছিলাম!
৮) কেন তদ্বীর/তেলবাজি ঠিকমত করতে পারলাম না!
৯) কেন সমর্থকদের বার বার কাঁদাচ্ছি!!
—সম্ভবত: এ সবই আমার ভুল/অপরাধ.. !
এজন্য আমার শাস্তি হওয়া উচিত।।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এম.পি। সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম। তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। স্বামী মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হন তার স্ত্রী নাজনীন আলম। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সম্পাদক। সেই থেকে আলোচনায় আসেন নাজনীন আলম। ক্যাপ্টেন (অব.) মুজিব দুর্গের ভীত কাঁপিয়ে সরব হন নাজনীন আলম। ছুটে চলেন তৃণমূল মানুষের দ্বারপ্রান্তে। সেই নির্বাচনে নাজনীন আলমের হরিণ মার্কা পরাজিত হলেও নির্যাতন-নিপীড়নেও মাঠ ছাড়েননি। ‘হরিণ’ আখ্যায় নাজনীন সমর্থকদের অনেকেই হামলা-মামলার শিকার হন। জেলও কাটতে হয়েছে অনেককে।
নাজনীন সমর্থকদের এক দুর্গও গড়ে তোলেন। তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনসহ নানা সংগঠনের ব্যানারে রাজনীতির মাঠে সেই সময় থেকে সরব ছিলেন নাজনীন আলম। সমর্থক ও দলীয় অসচ্ছল, ত্যাগী নেতাকর্মীদের দু:সময়ে পাশেও দাঁড়ান তিনি। ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির প্রয়াত হওয়ার পর উপনির্বাচনেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের মনোনয়ন চান। হন মনোনয়ন ‘বঞ্চিত’।

//টি.কে/নাইন//

Print Friendly, PDF & Email