Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

গৌরীপুরে ভালোবাসার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ।। এমন ভালোবাসা বদলে যেতে পারে দেশের বিদ্যাপীঠ!

আপডেটঃ 1:26 pm | February 14, 2019

প্রধান প্রতিবেদক  :
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি/১৯) বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিনটি এক সময় ছিলো প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের বন্দিশালার ফ্রেমে! এ ভালোবাসা দিবসের রঙ, ঢঙ ও পরিধি আজ বিস্তৃত। এ ফ্রেমে যুক্ত হয়েছে মায়ের সঙ্গে ভালোবাসা, পরিজনকে, মাতৃভূমি, মাতৃভাষাকে ভালোবাসা। আর কর্মক্ষেত্রকে ভালোবাসার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।
এমন এক ভালোবাসায় বদলে গেছে চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। শিক্ষার্থীদের পোষাক, বিদ্যালয় আঙিনা। একটু ভালোবাসা আর ভালো লাগায় বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি/১৯) বিদ্যালয়ের ১৫০জন ছাত্রছাত্রীকে পেলো স্কুল ব্যাগ। প্রত্যেকটি ব্যাগে বিদ্যালয়ের নামে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘আমাদের স্কুল আনন্দের রঙিন ফুল’ শ্লোগান। এ সবকিছু বদলে দেয়ার কারিগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বিনতে ইসলাম। স্কুল ব্যাগ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সহকারী শিক্ষক তামান্না বিনতে আজিজ, আজিজুন্নেসা, মুর্শিদা আক্তার, শিরিনা বেগম।
শুধু কী তাই; বদলে গেছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ। সবার জন্য এসেছে রঙিন পোশাক, নূতন জোতা। যা পেয়ে মহাউৎসবে মেতেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের মাঠে দুলছে দুলনা। রয়েছে সুসজ্জিত পাঠাগার। তৈরি করা হয়েছে ‘মহানুভবতার দেয়াল’ নামের একটি ব্যতিক্রমী স্টোর। তৈরি করা হয়েছে সততা স্টোরও। পাল্টে গেছে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান! বদলে গেছে বিদ্যালয়ের রঙ।
কর্মস্থলকে ভালোবাসার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত; ময়মনসিংহের গৌরীপুর চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ পাঠশালাটি জন্ম নেয় ১৯৭১ সনে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ২শ ৪৪জন। মাত্র ৯মাস আগে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব নিয়ে এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন নাসরিন বিনতে ইসলাম। তিনি স্বপ্ন দেখেন, বঞ্চিত, দারিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষায় এগিয়ে নিবেন। তার জন্য প্রয়োজন সকল শিক্ষার্থীদের একই পোশাক ও কিছু শিক্ষা উপকরণ।
প্রধান শিক্ষকের এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘প্লেন্ট এক্সচেঞ্জ গ্রুপ’। নাসরিন জানান, গ্রুপের এডমিন নাহিদ আহাম্মেদকে আমার স্বপ্নের কথাটি জানাই। তিনিই গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করে দেন। আর এখন নিজেদের ইচ্ছায় প্রত্যেক শিশুর জন্য দেয়া হয়েছে নতুন স্কুল ব্যাগও।
অপরদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের নূতন পোশাক ও শিক্ষা উকরণ তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রকে ভালোবাসা আর দৃঢ়মনোবল শূণ্যকেও এগিয়ে নেয় তারই নাম নাসরিন বিনতে ইসলাম। তিনি প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়! বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক মো. হাদিউল ইসলাম।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক ৩০জন, ১ম ৩৭জন, ২য় ৪২জন, ৩য় ৪৪জন, ৪র্থ ৪০জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৪৬জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। ২০১৭ সনে প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী শতভাগ পাস করে। ট্যালেন্টপুল ২জন ও সাধারণ গ্রেডে ২জন বৃত্তি অর্জন করে। ২০১৮সালেও শতভাগ পাসের কৃতিত্ব বজায় রাখে।
‘আমার যা দরকার নেই তা রেখে যাবো, যা দরকার তা নিয়ে যাবো’ শ্লোগানে চালু করা হয়েছে ‘মহানুভবতার দেয়াল’। এ দেয়ালে থাকছে চক, বই, খাতা, পুরাতন ড্রেস, কলম, জুতাসহ নানা শিক্ষা উপকরণ। ছাত্রছাত্রীদের যার প্রয়োজন সে ইচ্ছা করলেই সেই দেয়াল থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিতে পারছে। আবারও যেসব ছাত্রছাত্রীদের বাড়তি যা অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ রয়েছে, তা স্বেচ্ছায় এই দেয়ালে জমা দিচ্ছেন। এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে সততা স্টোর, যেখানে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে, পণ্য ক্রয় করছেন।
এ দিকে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বই পড়া আগ্রহী করতে চালু করা হয়েছে পাঠাগার। মাঠে শিশুদের জন্য খেলাধুলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য দুলনাও স্থাপন করা হয়েছে। প্রাক প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষকে শিশু বান্ধব করে সাজানো হয়েছে।


প্রধান শিক্ষক নাসরিন বিনতে ইসলামের যোগদানের পরে বদলে গেছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন একটি শ্রেণিকক্ষকে ডিজিটাল শ্রেণি কক্ষে রূপান্তর করতে মাল্টিমিডিয়া, প্রজেক্টারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। তাৎক্ষনিকভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জল হোসেন লাইব্রেরী কক্ষের জন্য বই প্রদান করেন। ত্রিশালের শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ ও গৌরীপুর শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খানও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আমুল পরিবর্তনে এবার এগিয়ে এসেছেন এলাকাবাসীও। তারাও তাদের সামর্থ্যনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন। সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকরণীয় এখন একটি বিদ্যালয়ের নাম ‘চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। কর্মক্ষেত্রকে ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধান শিক্ষক নাসরিন বিনতে ইসলাম।

//টি.কে/নাইন//

Print Friendly, PDF & Email