Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ভালোবাসা দিবসের আড়ালে সবাই ভুলে গেছে রক্তে ধোয়া ১৪ ফেব্রুয়ারি’র কথা

আপডেটঃ 8:09 pm | February 14, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

ঐতিহাসিক ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ আজ। ১৯৮৩ সালের এ দিনে মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ১১ জন নিহত হন। তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে সেই শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয় এরশাদের সামরিক সরকার।

প্রতিবছরই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন দিবসটি পালন করে আসছে। দিবসটি স্মরণে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শিক্ষাভবন সংলগ্ন ‘শিক্ষা অধিকার চত্বরে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া বেলা ১১টায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে ছাত্র সংগঠনগুলো। বিকেল ৩টায় ডাকসুতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পরই ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। পাশাপাশি সামরিক সরকারও ছাত্রদের নির্মমভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

২৪ মার্চই কলাভবনে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগাতে গিয়ে গ্রেফতার হন কয়েকজন শিক্ষার্থী। দুদিন পরই ছাত্ররা সাভারে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী স্লোগান তুললে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

পরে ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ নির্বিচার লাঠিচার্জ করলে ১৪টি ছাত্র সংগঠন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলে। অন্যদিকে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনে শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণই ছিল এর উদ্দেশ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের অধিকারকে বিলোপ করতে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রণীত স্বায়ত্তশাসনের অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয় এতে। একইসাথে রেজাল্ট খারাপ হলেও যারা শতকরা ৫০ ভাগ শিক্ষার ব্যয়ভার দিতে সমর্থ, তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।

এর প্রতিবাদে ১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে এ শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো ঐকমত্যে পৌঁছে। এর ধারাবহিকতায় ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সগ্রাম পরিষদ মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দিমুক্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি ও গণমুখী, বৈজ্ঞানিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র সমাবেশ ডাকে কলা ভবনে।

সমাবেশ শেষে সচিবালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর মিছিল বের হলে হাইকোর্টের গেটের সামনে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে পড়ে। এ সময় পুলিশের বেপরোয়া গুলি ও বেধড়ক লাঠিচার্জে নিহত হন জয়নাল, জাফল, দিপালীসহ ১১ জন। আটক হন ১৩৩১ জন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কাঞ্চন। পরে দেশব্যাপী এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে বধ্য হয় এরশাদ সরকার।

//ডেস্ক ইনচার্জ//

Print Friendly, PDF & Email