Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

সমাজ ও ধর্মীয় কূপমন্ডুকতা || আল ইমরান মুক্তা

আপডেটঃ 11:19 pm | March 09, 2019

আল ইমরান মুক্তা

বিশ্বাস সমাজ গড়ার কারিগর। কেননা বিশ্বাস সমাজকে চিত্রায়িত করে। তাই মানুষের বিশ্বাস কেমন এবং কোন ধারায় প্রবাহিত এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বিশ্বাস মানুষকে সঠিক বা ভুল উভয় পথে পরিচালিত করে। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিশ্বাসের পরিমণ্ডল রয়েছে। বিশ্বাস মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যভাবে বলতে গেলে, মানুষ বিশ্বাসের দাস। বিশ্বাস সব সময় আদর্শিক নাও হতে পারে। কখনও এর ভয়ঙ্কর দিকটি স্বরূপে আসতে পারে। মানুষ যা বিশ্বাস করে তা জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে প্রয়োগে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। বিশ্বাস গড়ে উঠে দুটি দিক থেকে। জ্ঞান কিংবা অজ্ঞতা থেকে। জ্ঞান সুন্দর ও সঠিক বিশ্বাস জাগ্রত করে। কিন্তু অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অন্ধতা বিশ্বাসের টুটি চেপে ধরে। সত্যিকার অর্থে, অজ্ঞতা অন্ধকূপে নিমজ্জিত করে। মানুষকে অন্ধ করে দেয়। মানুষ তখন মিথ্যা বিশ্বাসের প্রতি অনুরাগী হয়ে উদ্ধত আচরণে গা ভাসায়। মোটের উপর এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ও জ্ঞানহীনতায় মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন ঘটে। তখন মানুষ বিভিন্ন কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস স্থাপন করে, সংশয় হয় না। এমনও হয় যে, মোরগ কে বাবা বলার মত বাক্যও তার মুখে আটকায় না। আরও কত বাবা এর সমাহার! কি বলবো? ছাগল বাবা। খাজা বাবা। রশি বাবা। কবুতর বাবা। আরও কত কী? নাওজুবিল্লাহ! অথচ নিজের বাবা-মার কোন খবর নেয় না।

বিশিষ্ট উপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ এর ‘লালসালু’ গ্রন্থে সমাজের বিকৃত স্বরূপটি ফুটে উঠেছে। আধুনিকতার এই সময়েও আমরা সেই বৃত্তে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে, যা ভাবতেই শিহরিত বিস্ময়ের ঝাপটা লাগে। দিনদিন এর কালো ছাঁয়া চারদিক ভারী করে তুলছে।

অতি সাম্প্রতিক গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের আজিম শাহের মাজারে মোরগের আবির্ভাব রূপকথাকেও হার মানিয়েছে। ধর্মান্ধ মানুষ বাছবিচার না করেই খানকার কর্মীর হাতে টাকা দিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে, অদৃষ্ট নিয়তিবাদে জড়ায়। আহা একি ধর্ম! ইসলামের কোথায় এটি রয়েছে? যদি থাকে তাহলে যথার্থ প্রমাণ উপস্থাপন করার অনুরোধ করছি। তা-না হলে এমন অপকর্ম বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি। হায় আল্লাহ্‌! আর কত কাল ধর্মের দোহাই দিয়ে অধর্মের কাজ চলবে! আর কত কাল কবর পূঁজিকরে ব্যবসা হবে! উরস নামের আস্তানাতে নোংরা কর্ম গাজার আসর বসবে! আর কত দিন ধর্মসভায় এ অকথ্য বিদ্রুপ চলবে! তবে অন্যায়ের প্রতিবাদ শোভনীয় ভাষায় হলে কোন আপত্তি নাই। আর কত কাল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেরর টাকা আত্মসাৎ করা হবে! এগুলো কি ধর্মের কাজ? এর নাম কি ইসলাম? আমরা শান্তি চাই। ইসলাম শান্তির কথা বলে। ইসলামের সুভাসে পৃথিবী সুন্দর হোক। মানুষ বর্বরতাকে পাশ কাটিয়ে সঠিক পথে চলুক।

লেখকঃ শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও সাধারণ সম্পাদক, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, গৌরীপুর পৌর শাখা |

//আর/জিরোফোর//

Print Friendly, PDF & Email