Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ময়মনসিংহে আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে বিকাশে টাকা গ্রহণকারী ডিবি’র অভিযানে প্রতারক গ্রেফতার

আপডেটঃ 2:54 pm | March 10, 2019

স্টাফ রিপোর্টার ॥

ময়মনসিংহে ভুয়া ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে মানসম্মানহানী ও সমাজে হ্যায় করার মত প্রতারণার কৌশলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম আব্দুল্লাহ আল মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে নাঈম। সে নান্দাইলের শিবনগর গ্রামের খাইরুল আলমের ছেলে। শুক্রবার তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে ময়মনসিংহ শহরের ৫নং ভাটি কাশরের মাসুদুর রহমানে বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বিরুদ্ধে ধারা-৩৯৫/ পেনাল কোড তৎসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সনের ২৩(২)/২৪(২)/২৯(১) ধারায় কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৩৯(৩)১৯ দায়ের হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে নাঈম তার নামে শরিফুল আলম নামে ভুয়া ফেইসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। গত কয়েক দিন আগে মেডিকেল পড়ুয়া এক ছাত্রীর আইডিতে ডুকে প্রথমে নানারকমম চেটিং করতে থাকে। এক পর্যায়ে ঐ মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রীর নগ্ন ছবি তৈরী করে করে এবং তার ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট করে। এ ঘটনায় ঐ ছাত্রী ৯/৭/১৭ তারিখে কোতোয়ালী মডেল থানায় জিডি নং ৭৪৯ দায়ের করে। এর ফলে বেশ কয়েকদিন প্রতারক নাঈম নীরব থাকলেও আবারো প্রতারক নাঈম তার আইডি থেকে তৈরীকৃত নগ্ন ছবি পোষ্ট করে ঐ ছাত্রীর মেসেঞ্জারে। এ সময় প্রতারক তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। অন্যথায় ঐ ছবি পরিচিতজনসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। নিরূপায় মেডিকল ছাত্রী টাকা দিতে রাজি হলে ঐ প্রতারক বেশ কয়েকটি বিকাশ নাম্বার দেয়। এক পর্যায়ে মেডিকেল ছাত্রী তার কাছে মাত্র ১৬৭০ টাকা রয়েছে ঐ টাকা এখন পাঠাবে এবং বাকি টাকা পরে পাঠাবে দাবী করলে আবারো প্রতারক তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে প্রতারক ঐ টাকা নিতে রাজি হলে মেডিকেল পড়–য়া ছাত্রী ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশকে অবহিত করে। ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দের পরামর্শে মেডিকেল পড়–য়া ছাত্রী প্রতারকের সাথে চেটিং করে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতারকের কাছ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর দাবী করে আবারো বিকাশ নম্বর নিয়ে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে মেসেঞ্জারে চেটিং করতে থাকে। শুক্রবার রাতে প্রতারক নাঈম বাঘমারা ভাই ভাই টিলিকম নামক বিকাশের দোকানে টাকা তুলতে যায়। এদিকে আগে থেকেই ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসির পরামর্শ ও সহযোগীতায় এলআইসি বিভাগের এসআই পরিমল চন্দ্র সরকার তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঐ বিকাশ নম্বরের ঠিকানা সংগ্রহ করে সহযোগী এএসআই জুয়েল, কন্সটেবল সাহেদ, রুহুল সহ অন্যান্যদের নিয়ে বাঘমারায় উৎপেতে থাকে। প্রতারক নাঈম ঐ বিকাশে টাকা তুলতে গেলে ডিবি পুলিশের জালে টাকা আটকা পড়ে। ডিবি পুলিশের এসআই পরিমল জানান, গ্রেফতারকৃত প্রতারক নাঈম পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে ফেইক আইডি খুলে প্রতারণা, আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ঐ মেডিকেল ছাত্রীর মানসম্মানহানী ও সমাজে হ্যায় করার মত জঘণ্য অপরাধের দায় স্বিকার করেছে। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

//টি.কে/ওয়েভ-ইন//

Print Friendly, PDF & Email