Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ঢাকা থেকে কলকাতা রুটে এমভি মধুমতীর যাত্রা কাল ।। সম্ভাবনার নয়া দিগন্ত নৌপথে

আপডেটঃ 3:08 pm | March 28, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সব পথেই। রেল, সড়ক ও আকাশে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে আগেই। এখন নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে নৌপথের মাধ্যমে। এই পথে যাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সব পথ উন্মুক্ত হবে, যা দেশ দুটির সঙ্গে পারস্পরিক দায়বদ্ধতার জায়গাতেও নতুন সেতুবন্ধ স্থাপন করবে।

আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতী কলকাতার (বাংলাদেশের অংশে ঢাকা-বরিশাল-মোংলা-সুন্দরবন-আংটিহারা) উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। আর একই দিন ঢাকার (ভারতের অংশে নামা-হেমনগর-হলদিয়া-কলকাতা) উদ্দেশে ভারতের ক্রুজ জাহাজ এমএস আরভি বেঙ্গল গঙ্গা কলকাতা থেকে ছেড়ে আসবে। দুদেশের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে ছয় দিন। এর জন্য যাত্রীদের সিটভেদে ভাড়া গুনতে হবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার থেকে সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা। এর আগে স্বাধীনতা-উত্তর ৭০ বছর আগে ১৯ শতকে ঐতিহবাহী প্যাডেল স্টিমারের সহায়তায় দুদেশের মধ্যে নৌপথে যোগাযোগ সম্পর্ক ছিল নিবিড়।

জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর দু-তিন বছর সচল থাকলেও তৎকালীন সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতায় নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নতুন সম্পর্ক তৈরির আগে বিপথগামী কিছু হায়েনার হাতে সপরিবারে স্বাধীন বাংলার স্থপতি নিহত হন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর পর তারই গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনরায় ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করেন।

এ সময় ভারতের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগতে শুরু হয়। বর্তমানে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠন করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সমুদ্র বিজয়ের পর, স্থলপথেও (ছিটমহল ভাগ) সাফল্য দেখান ভিশনারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বাস্তবে রূপ দিয়ে দেশকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন।

এক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্য ৯ হাজার ৪৯২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৭২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৩ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নৌপথের কার্যক্রম ব্যাপক আকারে শুরু হলে পণ্য আদমানি-রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসির অতিরিক্ত সচিব) চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তার কারণে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সমুদ্র বিজয় করেছেন, বিজয় করেছেন স্থলসীমান্তও। এবার তিনি নৌপথ জয় করে যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার স্বাক্ষর রাখলেন। বিগত ৭০ বছরে যেটা সম্ভব হয়নি, মাত্র কয়েক বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুকন্যা করে দেখিয়েছেন, এটাই তার নেতৃত্বের বড় গুণাবলি, যা বর্তমান বিশ্বে বিরল।

তিনি বলেন, বর্তমান নৌপ্রতিমন্ত্রী এবং সচিবের অবদানও কম নয়। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা এবং তাদের প্রচেষ্টার সফল অর্জন আজ নৌপথের ঐতিহাসিক বিজয়। যেটি আগামীকাল শুভযাত্রার মধ্য দিয়ে সফল সমাপ্তি ঘটবে। এটাকে এগিয়ে নিতে সরকারের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরো নতুন পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে টিসির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু ঢাকা হয়ে কলকাতা নয়, সুদূর চেন্নাই পর্যন্ত এ পথকে অগ্রসর করা হবে। সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিসি এটার সফল বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে, যোগ করেন প্রশাসন সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, নৌপথের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে তিনটি ক্রুজ জাহাজ তৈরির পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, মার্চে উভয় দেশেরে মধ্যে পর্যটকবাহী নৌযান চালু হলে দুদেশের পর্যটকরা নৌপথে ভ্রমণ শুরু করবেন। তিনি বলেছিলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোয় একসঙ্গে কাজ করতে আমরা একমত। এতে উভয় দেশের বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রথম যাত্রায় মধুমতী জাহাজে ভিআইপিসহ সব মিলিয়ে ১১০ সিটের বিপরীতে ১০৬ যাত্রী হচ্ছেন। এর মধ্যে সাধারণ যাত্রীও রয়েছেন। এই জাহাজ চলাচলে ব্যয় হবে প্রায় ২০ লাখ টাকা, যার মধ্যে যাত্রী থেকে আয় ৫-৬ লাখ টাকা; বাকিটা ভর্তুকির মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। যাওয়া-আসায় ৬ দিন সময় লাগবে বিধায় কেবিন ছাড়া পরীক্ষামূলক এই জাহাজে ভারত যেতে ডেকে কাউকে স্থান দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিটিসির তথ্য মতে, নৌপথে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ক্রুজ জাহাজ চলাচলে লাভজনক হলে ভবিষ্যৎতে এটাকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী হলে তাদেরও সুযোগ দিতেও প্রস্তুতি রয়েছে সংস্থাটির। কারণ নৌপথে চলাচল নিরাপদ ও আরামদায়ক। জাহাজে ভারত-বাংলাদেশে চলাচলরত পর্যটকরা সুন্দরবনের নয়ানাভিরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। নদীর গতিপ্রকৃতি ও বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অবলোকন করার সুযোগ থাকবে। পর্যটকদের জন্যও নতুন অ্যাডভ্যাঞ্চার হবে জাহাজে ভারত ভ্রমণ।

সুবিধাসমূহ : ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ভ্রমণে যাত্রীসাধারণের জন্য দুজনের ফ্যামিলি স্যুট ১৫ হাজার টাকা, প্রথম শ্রেণি কেবিন ১ সিট প্রতিটি ৫ হাজার টাকা, ডিলাক্স ২ সিট প্রতিটি ১০ হাজার টাকা, প্রথম শ্রেণি সেমি ডাবল জনপ্রতি ৭ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ার প্রতিটি ২ হাজার টাকা এবং সুলভ শ্রেণি ও ডেক যাত্রীপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা। জাহাজে প্রাতরাস, মধ্যহ্নভোজ, বৈকালীন নাশতা ও নৈশভোজের ব্যবস্থা থাকবে। তবে, পর্যটকদের খাবার তালিকা অনুযায়ী আলাদাভাবে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে নৌপথে যাত্রী ও মালামাল বহনের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কেউ সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের ধারণা ছিল এই পথে লাভজনক হবেন কি না। কিন্তু পথ তো আমাদের দেখাতেই হবে। কারণ ৭০ বছর পর এ সুযোগটি পাওয়া গেছে।

এখন পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান আছে, সেখানে দেশের ৭০ শতাংশ রোগী চেন্নাইয়ে যায়। বাকি ৩০ শতাংশ কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যায়। কিন্তু চেন্নাই যেতে যে কষ্ট, সেদিক থেকে নৌপথ আরামদায়ক। কলকাতা থেকে ট্রেনে চেন্নাই যেতেও সময় লাগে ৩-৪ দিন। যদি নৌপথ চেন্নাই পর্যন্ত চালু হয়, তাহলে রোগীরা মাত্র ১৫০০ টাকায় সেখানে পৌঁছে যাবেন। প্রসঙ্গত, বিদায়ী বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌপথে যাত্রী চলাচল-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল।

//টি.কে/ওয়েভ-ইন//

Print Friendly, PDF & Email