Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

“আবোল তাবোল কথকতা! ছেলে জিতলে জিতে যায় মা!” -রেবেকা সুলতানা

আপডেটঃ 9:09 pm | March 29, 2019

টিভিতে এড দেখছিলাম – “আমি জিতলে জিতে যায় মা!” মনে হলো কি দারুন সত্যি কথাটি বিজ্ঞাপনে যুক্ত হয়েছে | সত্যিই তো সন্তান জিতলে জিতে যায় মা! ঠিক একইভাবে সন্তান হাসলে মা হাসে, সন্তান কাদলে মা কাদে!!

আমার ছোট ছেলে জাহিন তার থিয়েটারের গুরু মুনসুর ভাই এর সাথে বরিশাল, পটুয়াখালি ও কুয়াকাটা ভ্রমনে যায়। ওহ মুনসুর ভাই? অনসাম্বল থিয়েটারের কর্নধার | যাওয়ার দিন জাহিন স্কুলে ছিল। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া আমার ছোট্র বাচ্চাটি জানতোনা স্কুল থেকে ফিরতে না ফিরতেই তাকে রওনা করতে হবে ভ্রমনে। তার মঞ্চপ্রিয় গুরু ফোন করে বললেন জাহিন কে নিয়ে ট্যুরে যাব তাকে রেডি করুন | আমরা ঠিক তিনটায় রওনা করবো। ভাবলাম মায়ের নিত্য অফিস আর বাবার দূরে থাকার ছেলে একলা ঘরে বড় হওয়া ছেলেটা নিশ্চয়ই আনন্দ পাবে। তাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুহুর্তে বাজারে ছুটে সমুদ্র স্নান উপযোগী কাপড় চোপড় রেডি করে তাকে স্কুল থেকে আনতে গেলাম তখন বাজে তিনটা। রাস্তায় যখন বললাম তুমি এখনই ট্যুরে যাবে বাবা সে তো অবাক!! তারপর ঝটিকা প্রস্তুতি আর মনসুর ভাই ততোক্ষনে দরজায় কড়া নাড়লেন।

ব্যস জাহিন এর যাত্রা শুরু!! ছেলেটার মুখে দারুন এক হাসি তখন ফুটে উঠলো- আমার চোখ তখন অশ্রুসজল। আনন্দ কিংবা দুঃখ, কারন কিংবা অকারন, সম্মান কিংবা অসম্মান সকল ক্ষেত্রেই কান্নাই আমার আবেগ প্রকাশের ভাষা। কাঁদতে আমি ভীষণ ভালোবাসি। একমাত্র প্রিয় অথবা অপ্রিয় কারও মৃত্যুতে আমি কান্না করতে পারিনা, কেমন যেন থমকে যাই। তারপর সেই ক্ষন কাটিয়ে ধীরে ধীরে সে মানুষকে মনে করে বছর কে বছর একা একা কাদতে পারি! সেসব কথা যদিও আলোচ্য নয়। ফিরে আসি আবোল তাবোল কথকতার বাকি অংশে!!

জাহিন চলে গেল মহানন্দে। অনসাম্বল থিয়েটারের চ্যাটিং গ্রুপে খানিক সময় পর পর ওদের নানান জায়গার ছবি আসছে। নানান কাজে ব্যস্ত ছবি, জাহাজের ক্যাবিনের ছবি, খাওয়ার ছবি, নাওয়ার ছবি, ঘুমের ছবি- প্রতি মুহুর্তে তাদের অবস্থান তারা জানান দিচ্ছে! কিন্তু আমার মন খচখচ করছে ততোক্ষনে। ছেলেদের নিয়েই আমার যাপিত জীবন। তাই ওদের ছেড়ে থাকা হয় নিতান্তই কম। ভালো কিংবা মন্দ, সুমানুষ কিংবা অমানুষ ওরা যাই তৈরি হোক এটুকু বলতে পারি মা হিসেবে ওদের অভাব দিয়েছি কিন্তু মমতার কমতি দেইনি কোনদিন!! তাই ওরাই আমার সঙ্গী, ওরাই আমার সব! জাহিনের একদিকে ট্যুরে যাওয়ার আনন্দ অন্যদিকে ওকে দূরে রেখে আমার বাকি দুই ছেলেকে নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া! বারবার চোখ মুছেছি। ছেলেটার প্রতি মনসুর ভাই এর যত্ন অপরিসীম। সত্যি বলতে মনসুর ভাই ওনার থিয়েটারের প্রত্যেকটা ছেলে মেয়েকে আত্মার বাধনে বেধে রাখেন। সত্যি গুরু এমনই হওয়া উচিত!! ওনার সাথে যতোগুলো ছবি আসছে দেখছি আমার ছোট বাবাটা হাসছে। ভাবছিলাম একলা ঘরে ভাইয়েদের খুনসুঁটি আর মন খারাপের জগত ছেড়ে ভালোই আছে আমার ছোট সোনা ছেলেটা! আমার চোখে তবু জল নামে!

আজ আমার ছেলে ফিরে এলো তার মহানন্দের ট্যুর কাটিয়ে। আমি তাকে কাছে ডাকলাম। ও আমাকে বললো ” আমরা সবাই মিলে কেন এভাবে বেড়াতে যাইনা??” পরিবার কখনো চূড়ান্ত ঠিকানা নয়। তবু সুন্দর আর ভাল সবকিছুই পরিবারের সাথে ভাগ করার একটা বাসনা জাগে মানুষের। ছোট্র জাহিনের হয়তো এই আনন্দ তার ভাই-মা-বাবার সাথেও ভাগ করার ছিল! আমি চোখ মুছলাম জানিনা ও বুঝতে পারলো কিনা? জাহিনের হাসিমাখা ছবিগুলো দেখে শুধুই মনে হলো – “বাবারে! তুই জিতলে জিতে যায় মা!!

লেখকঃ রেবেকা সুলতানা, উন্নয়নকর্মী ও নির্বাহী পরিচালক, অন্যচিত্র উন্নয়ন সংস্থা |

//আর/জিরোফোর//

Print Friendly, PDF & Email