Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

উপজেলা নির্বাচন চতুর্থ ধাপে ভোটার কমার হার বেশি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ৮.৬৩, রাজশাহীর দুর্গাপুরে ৮৪.৫০

আপডেটঃ 9:52 am | April 02, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারখরা আরো বাড়ল; প্রথম তিন দফায় ভোটের হার ৪০ শতাংশের ওপরে থাকলেও চতুর্থ দফায় তা নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে। আর এই দফায় গড়ে ভোট পড়েছে ৬১.২৩ শতাংশ। এই ধাপে চেয়ারম্যান পদের ফল বিশ্লেষণে ভোটের হারে ব্যাপক তফাত ধরা পড়ে। এ পদে সবচেয়ে কম ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পড়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। আর রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় পড়ে সর্বোচ্চ ৮৪.৫০ শতাংশ ভোট।

ইসির তথ্য মতে, প্রথমধাপে ৭৮ উপজেলায় গড় ভোট পড়ে ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২ শতাংশ কমে এ হার দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ। একইভাবে, তৃতীয় ধাপে একটু বেড়ে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়। কিন্তু ৪র্থ ধাপে এসে ভোটের শতাংশ নেমে আসে ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশে। আর সব ধাপ মিলিয়ে চেয়ারম্যান পদে গড় ভোটের হার ৪১ শতাংশ। ভোটারের এমন খরার চিত্র গত কয়েক দশকের স্থানীয় নির্বাচনে আর দেখা যায়নি। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের তুলনায় এবার অনেক কম ভোট পড়েছে। তখন ছয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়। সে সময় প্রথম ধাপে ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৬৩ দশমিক ৩১ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৬৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ, পঞ্চম ধাপে ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ষষ্ঠ ধাপে ৫৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পড়ে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে। তার আগে ২০০৯ সালের নির্বাচনে পড়েছিল ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তুলনায় ভোটের শতাংশের হার সন্তোষজনক নয়, যা নির্বাচন কমিশনও (ইসি) পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপে ৩০টির মতো উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে।

কমিশনের ভাষ্য মতে, ভোটের শতাংশ কত দাঁড়াল, এ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা কম। কারণ, বিএনপি এবারের নির্বাচনেও অংশ না নেওয়ায় ভোটের শতাংশে প্রভাব পড়েছে। তবে, সহিংসতামুক্ত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ইসির যে চ্যালেঞ্জ ছিল সে ক্ষেত্রে তারা সফল—এটাই তাদের আত্মতৃপ্তি।

ইসিসচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গত রোববার চতুর্থ দফার ভোট শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে গেলে অনিয়ম বাড়ত। প্রতিটি ধাপে আমরা চেয়েছি ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয়; প্রাণহানি যেন না হয়; অনিয়ম যাতে না হয়। চার ধাপে একজনেরও প্রাণহানির ঘটনা হয়নি; এতে কমিশন সন্তুষ্ট।

ফল বিশ্লেষণে পাওয়া তথ্য মতে, প্রথম ধাপে দুটি উপজেলায় ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। ৩০ শতাংশ বা তার কম ভোট পড়েছে অন্তত ১৩ উপজেলায়। অন্যদিকে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ৪ উপজেলায়। ৬১টি থেকে ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৯টি উপজেলায়।

গত ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ বিভাগের ১৬ জেলার ১১৬টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়। সব মিলিয়ে পাঁচটি ধাপে ৪৮০টি উপজেলার নির্বাচন হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায়। সেখানে ভোট পড়েছে ৭৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খাগড়াছড়ির আরেক উপজেলা দীঘিনালায় ভোট পড়েছে ৭৮ দশমিক ১২ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। সেখানে ভোট পড়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সিলেটের আরেক উপজেলা জৈন্তাপুরে ভোট পড়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় পর্বের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৯টি উপজেলায় ভোটের হার ৪০ শতাংশেরও কম। পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ভোটের হার বেশি। বান্দরবানের সাতটি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। খাগড়াছড়ির উপজেলাগুলোয় সর্বনিম্ন ৪৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়েও ভোট পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। দ্বিতীয় ধাপে এ জেলার পাঁচটি উপজেলার চারটিতে ৫৬ থেকে ৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে। ঠাকুরগাঁও সদরে ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে উত্তরের জেলা বগুড়ার গাবতলী ছাড়া অন্য উপজেলাগুলোয় ভোট পড়েছে ১৩ থেকে ৪৮ শতাংশ। গাবতলীতে ভোটের হার ৬৫ দশমিক ৩২। আর বগুড়া সদরে ১৩ দশমিক ১৩। সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার উপজেলাগুলোতেও ভোটের হার তুলনামূলক কম।

গত ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপের ১১৬ উপজেলায় ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে। নির্বাচনে ৩০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে ৯টি উপজেলায়। ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে মাত্র ৪টি উপজেলায়।

তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৩৮টি উপজেলায় ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশের কম। এর মধ্যে ৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের হার ৩০ শতাংশেরও কম। উপজেলাগুলো হলো কুষ্টিয়া সদর (২০.২৭), কিশোরগঞ্জের সদর (২৯.৩২) ও পাকুন্দিয়া (২৭.৮৩), চাঁদপুরের শাহরাস্তি (২৬.১১), লক্ষ্মীপুরের সদর (১৯.২৬) ও রামগতি (২৭.৮৮), চট্টগ্রামের বোয়ালখালী (২৮.০০), চন্দনাইশ (২৬.৬২) ও বাঁশখালী (২৯.৭০)। সর্বোচ্চ ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ হারে ভোট পড়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া বাকি তিনটি উপজেলা হলো ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু (৬১.৯৩), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট (৬০.৭৭) ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া (৬২.২২)।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ চতুর্থ দফায় ১০৬টি উপজেলায় ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ ধাপে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮১ জন ভোটারের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৫ জন ভোট দিয়েছেন। এটা ভোটারের ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এ ধাপে সব থেকে বেশি ভোট পড়েছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় শতকরা ৭০ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই উপজেলার ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৭ জন ভোটারের মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৪২ জন ভোট দেন। সব থেকে কম ভোট পড়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। এই উপজেলায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। সেখানে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৯ জন ভোটারের মধ্যে ৪৭ হাজার ১৮ জন ভোট দেন। ভোটের হার ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

//টি.কে/ওয়েভ-ইন//

Print Friendly, PDF & Email