Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

খালেদার প্যারোল ও নির্বাচিতদের শপথ সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি

আপডেটঃ 4:04 pm | April 11, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোল আবেদন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার ইস্যুটি দলীয় সিদ্ধান্তহীনতায় কার্যত ঝুলে পড়েছে। জানা গেছে, আজকের মধ্যেই কারান্তরীণ চেয়ারপারসনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার কথা ছিল। এ জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে এক ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। দলের নির্বাচিত সদস্যরাও সংসদে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। শপথের ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে নির্বাচিত বাকি পাঁচ সদস্যের সঙ্গে একটি মিটিংও করেছেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবেই বিএনপির হাইকমান্ড উভয় সমঝোতা থেকে পিছুটান দিয়েছে।

চেয়ারপারসনের মুক্তি ও নির্বাচিতদের শপথ ইস্যুকেন্দ্রিক সমঝোতা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া নেতারাও বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক কী কারণে ‘ইউটার্ন’ নিল বিএনপি। তবে দলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়াই প্যারোল নিয়ে জেলখানা থেকে বের হতে চান না। এ ক্ষেত্রে তার মুক্তির বিনিময়ে বর্তমান এ সরকারকে বৈধতা দেওয়ার কাজটিও তিনি করবেন না। মূলত এমন একটি জায়গা থেকে চেয়ারপারসনের ইচ্ছার বাইরে কেউ আর সামনে এগোতে পারছেন না। ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সংসদে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি এখন দারুণ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

দলীয় সূত্র জানায়, জেলখানায় বন্দি চেয়ারপারসনের শরীর দিন দিন খারাপের দিকে যেতে থাকায় দলের একটি অংশ তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে প্যারোলের আলোচনা তোলে। এমন আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকেও সায় দেওয়া হয়। কিন্তু বিনিময়ে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়টি সরকার সামনে আনলে তাতে সায় দেন দলীয় নেতারা। নেতারা ধারণা করেছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদার মুক্তি বেশ সময়সাপেক্ষ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরে বন্দি থেকে তার শরীর অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও দলের নেতাদের কাছে তার কষ্টের কথা বলেছিলেন। আর তাই খালেদা জিয়ার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট নেতারা সম্পূর্ণ আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। তারা যেকোনো মূল্যে চেয়ারপারসনের মুক্তির কথা চিন্তা করতে থাকেন। তা ছাড়া দীর্ঘদিন দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে একটি বড় অংশের দল ত্যাগের খবরও রাজনৈতিক অঙ্গনে চাউর হয়। তাই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় মত দেন দলের কট্টরপন্থিরাও।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ডেইলি বাহাদুরকে  নিশ্চিত করেছে, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কোনো আপস প্রস্তাবে রাজি হবেন না। স্বাভাবিক নিয়মে জামিন হতে যা করা লাগে সে জন্য কাজ করতে দলীয় আইনজীবীদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। চেয়ারপারসনের এমন মনোভাবেই মূলত প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি হঠাৎ থমকে যায়। আর সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও আপাতত ঝুলে গেছে।

এ নিয়ে গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচব রিজভী আহমেদ বলেছেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিয়ে ভয়ংকর অবস্থানে রয়েছে। সরকারের আচরণে স্পষ্ট হয়েছে, জনপ্রিয় এই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার আয়োজন করে যাচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, এই ব্যাপারটি নিয়ে সরকার রসিকতা করছে। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ তাদের নেতারা খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে অস্থির। তিনি তো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াতেই জামিনে মুক্তি পাবেন, তাহলে ক্ষমতাসীনদের এ প্যারোলের কথা বলাটা তো দুরভিসন্ধিমূলক।

দলের অপর নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছোট করার জন্য সরকার নাটক করছে। উচ্চ আদালত জামিন দিলে তো চেয়ারপারসন বের হতে পারেন। তিনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসতে পারেন, তাহলে প্যারোলের কথা আসছে কেন? তিনি আরো বলেন, প্যারোল বাদ দিয়ে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন। রাজবন্দিদের মুক্তি দিন। এ দেশের ডান-বাম সবাই এখন গণতন্ত্র চায়। তাদের সঙ্গে বসেন, আলোচনা করেন।

এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বেগম জিয়ার মুক্তি পেতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এ জন্যই দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৪০টি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারেক রহমান। দল গোছানোর পাশাপাশি নিজের মায়ের মুক্তি আন্দোলন নিয়েও কথা বলছেন তিনি। আগামী তিন মাসের মধ্যেই দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো গুছিয়ে তুলতে চান তারেক রহমান। বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে। ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিও শিগগিরই দেওয়া হবে। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও কাজ চলছে। কৃষক দল, তাঁতি দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, ড্যাব ও এ্যাবের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের অসম্পূর্ণ কমিটিও দেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দল গুছিয়েই আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে যাব। তার নেতৃত্বেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করব।

//টি.কে/ওয়েভ-ইন//

Print Friendly, PDF & Email