Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

গৌরীপুরে চাঞ্চল্যকর কিশোর সাগর হত্যাকান্ডের পলাতক আসামী গ্রেফতার

আপডেটঃ 9:00 pm | April 17, 2019

 প্রধান প্রতিবেদক :
চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে-খুঁটিতে ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কিশোর সাগরকে। এ ঘটনাটি প্রিন্ট ও ইলেকট্টনিক্স মিডিয়ায় প্রচারের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যকর আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়। হত্যাকান্ডের ১ বছর ৬মাস ২২দিন পর পালিয়ে থাকা অন্যতম আসামী মো. রোকন উদ্দিন (৪০) কে গ্রেফতার করেছে গৌরীপুর থানার পুলিশ।
গৌরীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (১৬এপ্রিল/১৯) রাতে পালিয়ে থাকা আসামী মো. রোকন উদ্দিনকে গ্রেফতার করেন। তিনি জানান, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে রোকন উদ্দিন তার নিজ ঘরের খাটের নিচে বিছানায় লুকিয়ে ছিলো। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে পুলিশ স্কর্টে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে মামলার তদন্তকারী অফিসার ডিবি’র সাবইন্সপেক্টর মো. আলাউদ্দিন ও পরিমল চন্দ্র দাস গত ২১ আগস্টে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ পত্রে ৮জনের নামে হত্যাকান্ডে জড়িত মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাদের মধ্যে চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাজী মো. আতাব উদ্দিনের পুত্র মো. রোকন উদ্দিন (৪০) পলাতক ছিলো। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুরের মৃত শহর আলীর পুত্র মো. আক্কাছ আলী ওরফে আক্কা (৪০), হাসান আলী ওরফে হাসু (৩৮), জুয়েল (৩০), সোহেল (২০), তারাকান্দা থানার বাথুয়াদী মলামারা গ্রামের আব্দুল হেকিমের পুত্র কাইয়ুম (২০), চরশ্রীরাপুর গ্রামের মোসলেম খাঁর পুত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন খাঁ (৫২), মৃত বাদ মিয়ার পুত্র মো. ফজলুর রহমান (৫২)।
২০১৭সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে পানি উত্তোলনের পাম্প চুরির অভিযোগে খুঁটিতে ও গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে সাগরকে। সে ময়মনসিংহের রেলওয়েবস্তির মোঃ শিপন মিয়ার পুত্র। ওর লাশ পরের দিন হ্যাচারীর কাশবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাগরের বাবা শিপন মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ওইদিনই মামলা দায়ের করেন। মামলায় চরশ্রীরামপুরের মৃত শহর আলীর পুত্র আক্কাছ আলী ওরফে আক্কা (৪০) তার ভাই হাসু মিয়া (৩৮), আঃ ছাত্তার ওরফে ছত্তর (৩৫), জুয়েল মিয়া (৩০), সোহেল মিয়া (২০), তারাকান্দা উপজেলার মলামারার আব্দুল হেকিমের পুত্র আব্দুল কাইয়ুম (২০) ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬জনকে আসামী করা হয়। মামলা থেকে এজাহারভূক্ত আসামী আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছত্তরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
ঘটনার দিনে সাগরকে হত্যার পরেই মুঠোফোন (মোবাইল) বন্ধ করে দেয় হত্যাকা-ের মূলহোতা আক্কাছ আলী (৪০)। আত্মীয়-স্বজন ও তার ঘনিষ্টজনদের মোবাইলে আঁড়ি পেতে অবশেষ র‌্যাব-১৪’র জালে সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জে পালিয়ে যাওয়ার পথে ধরা পড়ে আক্কাছ। প্রধান আসামী আক্কাস আলীর অন্যতম সহযোগী কাউয়ুমও পালিয়ে যায়। পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের ৯দিন পর চরঈশ্বরদিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
কিশোর সাগর হত্যাকা-ের পরেই জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে চরশ্রীরামপুর এলাকাবাসী, গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদসহ কয়েকটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও।

//টি.কে/ওয়েভ-ইন//

Print Friendly, PDF & Email