Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়ক সংস্কার ॥ পঁচা সুরকীর সঙ্গে ব্যবহার হচ্ছে রাবিশও!

আপডেটঃ 8:44 pm | April 30, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের সংস্কার ও মেরামত কাজে অনিয়মের অভিযোগ। ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন পাথর। ত্রুটিপূর্ণ মেরামত-অনিয়মের কারণে সংস্কার-মেরামতকৃত এসব সড়ক বছর যেতে না যেতেই ভাঙছে। একই সড়ককে বারবার বরাদ্দ দিয়েও টিকসই হচ্ছে না। এছাড়াও রাস্তার দু’পাশে নূতন মাটি ভরাট ছাড়াই সংস্কার করায় ধসে পড়ার শংকাও রয়েছে।
অপরদিকে সড়ক সংস্কার ও মেরামত কাজের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও নেই কোন সাইনবোর্ড। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ জানে না এলাকাবাসী। গুজিখা গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, রাস্তা বড় করা হচ্ছে। দু’পাশে কোন মাটি ভরাট করা হয়নি। এমন সময় কাজ করা হচ্ছে যে সময় দু’পাশেই পাকা ধান। তাঁতকুড়া গ্রামের আবুল হাসিম জানান, রাস্তার পুরাতন ইট, পাথর মেশিয়ে দেয়া হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কালো পুরাতন কার্পেটিং উঠিয়ে সেই পাথর দিয়েই নূতনকরে চলছে কার্যক্রম। ব্যবহৃত ইটের সুরকিও অত্যন্ত নি¤œমানের। কোথাও কোথাও সুরকি নয়, এ যেন রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। অত্যন্ত নি¤œমানের সুরকী ব্যবহারের কারণে রোলার দেয়ার পর এসব সুরকী পাউডারে পরিণত হয়েছে। বাতাসের সঙ্গে উড়ছে রাবিশের পাউডার!
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, মেসার্স ইসতিয়াজ আহমেদ এ সড়ক সংস্কার ও মেরামত করছেন। ৩হাজার ৮৩০মিটার রাস্তার ব্যয় প্রাক্কলিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২০লাখ ১৫হাজার ৪৩৬ টাকা। রাস্তায় নি¤œমানের সুরকী ও ইটের ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক। তিনি জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বারবার মানসম্মত ইটের খোয়া আনার জন্য বলা হয়েও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকৌশল বিভাগের নির্দেশ না মানায় সড়ক সংস্কার ও মেরামত কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।


এদিকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ সড়কের রামগোপালপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের বালুয়াপাড়া পর্যন্ত ৮৩লক্ষ ৮৬হাজার ৬২৬টাকায় মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজ ৫ ফেব্রুয়ারি/১৪ তারিখে সংস্কার ও মেরামত করে। একই সড়কে শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত ৫জুন/১৪তারিখে ১ কোটি ৮৫লক্ষ ৬০হাজার ৬৫২টাকায় সংস্কার ও মেরামত করে সমিরণ চৌধুরী। এ সড়কের দেড় কিলোমিটার ৪৩লাখ টাকায় ২০১৬-১৭অর্থবৎসরে মেরামত ও সংস্কার করা হয়। বারবার মেরামত করা হলেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এছাড়াও পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচী (এঙইগ) এর অধিনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রামগোপালপুর বাসস্ট্যান্ড বাজার থেকে শ্যামগঞ্জ জিসি সড়ক ভায়া গৌরীপুর জিসি মেরামত কাজের (৬৪৫০-১৩৭৫৩ মি) জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে.কে. এন্টারপ্রাইজ, পটুয়াখালীর সাথে ২ কোটি ৭৭লাখ ৯৯হাজার ৪৫৪টাকায় কাজ সম্পন্ন করেন। এ কাজটি শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানের পাথর উঠে গেছে। গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, অর্থের অপচয় নয়। প্রয়োজন সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য সুপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প। একই সড়ক কেন বারবার ভাঙছে; তা নিরুপণ করে প্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ সড়ক সংস্কার ও মেরামত প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক আরো জানান, সকল নির্মাণ ও মেরামত কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখভাল করা হচ্ছে। রাস্তায় চলাচলকারী অভারলোড গাড়ী যা এসব রাস্তার ধারণ ক্ষমতার দুই/তিন গুণ বেশি। ফলে দ্রুত নির্মিত সড়ক ভেঙ্গে যাচ্ছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

 

Print Friendly, PDF & Email