Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

মে দিবসেও খোলা ছিলো গ্রামীণ ব্যাংকের কমিউনিকেশন শাখা

আপডেটঃ 9:14 pm | May 02, 2019

প্রধান প্রতিবেদক:
নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের কমিউকেশন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মে দিবসেও ছুটি পায়নি। সব সেন্টারেই চলেছে কার্যক্রম। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়ে বুধবার (১ মে/১৯) দেখা যায় অফিসের প্রধান ফটকের ভিতর দিয়ে ছিটকারী আটকিয়ে চলছে কার্যক্রম। তবে কর্মচারীরা কাজ করলেও উধ্বর্তন কর্মকর্তারা ছিলেন পরিবার-পরিজন নিয়ে মহাফূর্তিতে!
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাহির দিক থেকে বন্ধ থাকলেও ভিতরে কার্যক্রম চলছে ঠিকই। মহান মে দিবসের রাষ্ট্রীয় ছুটিও পায়নি এ বিভাগে কর্মরত কর্মচারীগন। চাকুরী বাঁচাতে কর্মচারীরাও প্রতিষ্ঠান নয়, নিজেদের ওপর দায় নিলেন। এ অফিসের ইউনিট লিডার নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার রাজেন্দ্র চন্দ্র দাসের পুত্র পরিতোষ চন্দ্র দাস জানান, আমাদের কাজ তাই করছি। সরকার যেহেতু ছুটি ঘোষণা করে তাহলে তো বন্ধই! তবে এ কর্মকর্তা অফিসের পক্ষ নিলেও প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সরকারি ছুটি ঘোষণার কোন আদেশ দেখাতে পারেননি।
অপরদিকে এ বিভাগে কর্মকর্তা ভৈরবের এক কর্মচারী মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই আমরা জিম্মি, সরকারি ছুটি বলে এ অফিসে কিছু নেই। যে দাবিতে মে দিবসের জন্মনিলো আমরা তার স্বাদ ভোগ করতে পারছি না। ছুটি আর কর্মঘন্টা বলে এ প্রতিষ্ঠানে কিছু নেই। এ অভিযোগের সূত্রধরে কিশোরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখ, শবে বরাত, শবে কদর, বড়দিন কোন সরকারি ছুটিই এ প্রতিষ্ঠানের কেউ ভোগ করতে পারে না।
গৌরীপুরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়ার মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র মো. বিল্লাল হোসেন জানান, শুক্র ও শনিবারও অফিস খোলা। বন্ধ পাই রোব ও সোমবার, সেদিনও ৩জনের মধ্যে একজনকে অফিসেই থাকতে হয়।
এ অফিসের আরেক কম্পিউটার অপারেটর রুজিনা আক্তার জানান, আমাদের কথা কিছু লিখবেন না, চাকুরীটার ওপর সংসার চলে।
চাকুরী হারানোর ভয় আর আতঙ্কে এ বিভাগের শাখা অফিসের কর্মকর্তা ও আর কর্মচারীদের দিনকাল। নিপীড়িত নির্যাতন মুখ বুঝেই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভাগ্যে এখানো পৌঁছেনি মে দিবসের মর্মবাণী আর কর্ম ঘন্টার ৮ঘন্টা হিসাব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাদের কষ্টে কথা তুলে ধরতে অনুরোধ জানান। তাদেরই একজন বলেন, ১২বছর যাবত এ অফিসে কাজ করি। সরকারি ছুটি কী; তা পেলাম না।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরসহ এ অঞ্চলের ৫১টি শাখার দায়িত্বে রয়েছে নেত্রকোনা জোনাল অফিস। এ অফিসের জোনাল সুপারভাইজার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, মে দিবসের ছুটিতে ঘুমাচ্ছি। শাখা অফিস খোলা প্রসঙ্গে বলেন, অফিস বন্ধ, কেউ পার্সোনাল কাজ করতে আমাদের কী? অফিসে পার্সোনাল কাজ বলতে কী; এ প্রশ্নের কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ জোনাল অফিসের নিয়ন্ত্রনাধীন ৫১টি অফিসই কাজ চলছে। ছুটির কোন নির্দেশনা কোন অফিসেই নেই।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, মহান মে দিবসেও অফিস করতে বাধ্য করা অত্যন্ত দু:খজনক। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email