Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ঘুষের টাকা না চাঁদাবাজি! গৌরীপুরে শিক্ষা অফিসারকে হোটেলে আটকালো চেয়ারম্যান!!

আপডেটঃ 10:39 pm | May 02, 2019

স্টাফ রিপোর্টার :
হোটেলে খাবার খাওয়া হলো না ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খানের। মধ্যাহ্নভোজ করতে এসে বৃহস্পতিবার (২ মে/১৯) ‘টাকা না দিলে যেতে পারবেন না’ ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের সাফ কথা। এ উপজেলায় ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে ঘুষের বোমা ফাটল খাওয়ার হোটেলে! ঘুষের টাকা ফেরত চাইলেন চেয়ারম্যান।
দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে টাকা নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা বলে জানান উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগ করেন, অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম অন্তর তার নিকট ৭লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিলো। ৪/৫দিন আগেও মুঠোফোনে আবারও চাঁদার টাকা চেয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অচিন্তপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মাছুয়াকান্দার হোটেল ব্যবসায়ী মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র আব্দুল কাদির ওয়াসিম জানান, বৃহস্পতিবার আড়াইটার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইকবাল হোসেন ও মো. হাদিউল ইসলাম খেতে আসেন। খাওয়ার মাঝখানেই সঙ্গে দু’জনকে নিয়ে খেতে আসেন অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম অন্তর। শহিদ চেয়ারম্যান এ সময় বলেন, আপনি টাকা দিবেন, দিবেন বলে ৪/৫টা তারিখ করেছেন। টাকা দেননি, আজ টাকা দিয়েই যেতে হবে। আগে খান। তারপর কথা হবে। এ সময় শিক্ষা অফিসার মুঠোফোনে কারকার সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এ দোকানের কর্মচারী তারা মিয়া বলেন, খাওয়ার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আর শিক্ষা অফিসারসহ সবাই খাবারেই হাত ধোয়ে ফেলেন। তবে সব বিল দিয়ে গেছেন শহীদ চেয়ারম্যান।
খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান। তিনি জানান, শিক্ষা অফিসারের নিকট টাকা পাবেন এ বিষয়টি শহিদুল ইসলাম অন্তর আগেই জানিয়েছিলো। তবে হোটেলে চেয়ারম্যান আর শিক্ষা অফিসারের বাকবিত-া দু:খজনক। দু’জনকেই ফিরিয়ে দিয়েছি। অফিসিয়াল আলোচনা অফিসে হলেই ভালো বলে দিয়েছি।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে হোটেল আটক আর মারধরের খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ ওই হোটেলের দিকে ছুটে যান। থানায়ও যান অর্ধশত শিক্ষক। পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস বলেন, একজন শিক্ষা অফিসার হোটেলে খেতে গেছেন। সেখানে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দু:খজনক ও নিন্দনীয়।
এ দিকে শহরে এখন প্রধান আলোচসূচীতে পরিণত হয়েছে ‘ঘুষ না চাঁদা’! এটা এখন সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা?

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email