Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

গৌরীপুর শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ!

আপডেটঃ 9:05 pm | May 05, 2019

মোস্তাফিজুর রহমান বুরহান:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে এবার বিধি বহির্ভূত ও অনিয়মের ১৮টি ধরণের অভিযোগ দেন সহকারী শিক্ষক কয়েস আল কায়কোবাদ লাজুক। তিনি উপজেলার ৫০নং ধূরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। অভিযোগপত্রটি সোমবার (২৯ এপ্রিল/১৯) উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম গ্রহণ করেন।

জনশ্রুতি রয়েছে সরকারি বিধিবিধান ভঙ্গ করে বদলি বাণিজ্যে কোটি টাকা লুট করেছে একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ছুটির দিনে অফিসের দরজা বন্ধ করে বৈঠকের অভিযোগ রয়েছে এ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে গৌরীপুর ছিলো ৩১মার্চ সাধারণ ছুটির দিন। ওই দিনে একাধিক স্মারক ব্যবহার করে নিয়মবর্হি:ভূত আদেশ জারীর অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, তিনি কি স্কুলে যান? এ শিক্ষক বিদ্যালয়ে যান না, ক্লাস নেন না। বদলি বাণিজ্যে কারা টাকা নিয়ে তা অনুসন্ধান করুন! আমি কারো নিকট থেকে টাকা নিয়ে এ কথা কেউ বলতে পারবে না।

এ দিকে শিক্ষা অফিসের সদ্য নিয়োগকৃত ৬০জন দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে চার কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ এনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন গৌরীপুর সচেতন নাগরিক সমাজ। সংগঠনের আহ্বায়ক আহাম্মদ উল্লাহ ওরফে আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্ব এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন পরিচালনা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান। প্রতিটি বিদ্যালয়ের ৫ থেকে ৮লাখ করে টাকা নেয়ার অভিযোগ করা হয়।

অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে উপকরণ মেলা, শিশুদের নাস্তার টাকা লুটের অভিযোগ নিয়ে তদন্তে যার সত্যতা পান তদন্ত কমিটিও। ভুলেভরা প্রশ্নপত্র নিয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস। তদন্ত কমিটি এক প্রশ্নে ‘৮৪টি’ ভুলের সন্ধান পান।

অভিযোগ ও শিক্ষকদের সূত্র জানায়, ২জানুয়ারি ৫৬টি বিদ্যালয়ে ২২জন প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ৯জন ও সহকারী শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) ৩১জনের পদ শূন্য ঘোষণা করে ২০ জানুয়ারি মধ্যে আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেন। নিজের আদেশ ভঙ্গ করেই ২০জানুয়ারির পরেও ঘাটেরকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, লামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া আক্তার গ্রহণ করেন। এছাড়াও একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে গোপনচুক্তিতে আবেদন গ্রহণ করেন তিনি। প্রত্যেকটি বদলীর জন্য উৎকোচ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
অপরদিকে প্রশ্ন উঠেছে ৩১মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গৌরীপুর উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নির্বাচন কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বকালে তিনি নির্বাচনে নিয়োজিত শিক্ষকদের ওইদিনই কিভাবে কর্মবিমুক্ত ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের কাজে নিয়োজিত শিক্ষকদের এ ধরনের আদেশ নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে নিয়ম অনুযায়ী বদলীর আবেদনকৃত শিক্ষকদের আবেদনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সুপারিশ বাধ্যতামূলক। গোপন বাণিজ্যের কারণে এ নিয়মের তোয়াক্কাও করা হয়নি বদলির আদেশে। পৌর শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, এক শিক্ষকের বদলীতে যেখানে ২লাখ ৭০হাজার টাকা নেয় হয়। সেখানে সুপারিশের স্বাক্ষর নেয়ার সময় কোথায়?

অপর দিকে অফিসে গোপনীয় বা নিয়মতান্ত্রিক রেকর্ডে বদলির আবেদন ডকেটভুক্ত হয়নি, তারিখ ও রিসিভ নেই। কোন বিদ্যালয়ের জন্য কারা আবেদন করেছেন তাও জনসম্মুখে প্রকাশে ব্যর্থ হন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। মানা হয়নি সিনিয়র আর জুনিয়র নিয়মনীতি ও বদলীর নীতিমালাও বদলি ফাইল অফিসে নয় শিক্ষা অফিসার ময়মনসিংহের বাসায় নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ৩১মার্চের মধ্যে বদলি কার্যক্রম শেষ করার বিধান থাকলেও বদলিকৃত অধিকাংশ শিক্ষক ১৫এপ্রিলের পর এসব বদলীর গোপন আদেশ প্রকাশ পায়।

অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে অফিস নথিতেও অসংখ্য নিয়মের চিত্র। ২৮মার্চের ১১১/২১১ স্মারকে গোলকপুরের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রতনকে শেখ লেবু স্মৃতিতে বদলী প্রস্তাব, ওই স্মারকেই অবমুক্ত করেন। আবার এ স্মারকেই ভোলার আলগীর সহকারী শিক্ষক দিলরুবা নাসরিনকে বদলীর আদেশ দেন। এসব বদলীর আবেদন ও আদেশে অফিস সহকারীর নেই অনুস্বাক্ষর। এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, তিনি কাউকে কিছু না বলেই অফিসে আসেননি। বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার জন্য তো কাজ বন্ধ করে রাখা যাবে না।
অপরদিকে অফিস সহকারী মো. বাসির উদ্দিন জানান, বদলির এসব নথিপত্র শিক্ষা অফিসার অফিসে রাখেননি। আমি একদিন উনার অফিসে গিয়েছি। তখন আমাকে দেখে দরজার সিটকারি লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এসব আবেদন বা আদেশ আমার কোন অনুস্বাক্ষর বা অফিসিয়াল স্মারক ও বিধি, কাগজ কিছুই আমার জানা নেই।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম। তিনি জানান, অভিযোগটি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email