Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

কি অদ্ভুত আমার মা || ইমন সরকার

আপডেটঃ 2:44 pm | May 12, 2019

না না, আমি মা দিবসে মা নিয়ে আবেগ ঝাড়ছিনা। তবু মা দিবস তো একটা উপলক্ষ যখন মা কে নিয়ে কিছুটা অনুভব করার সুযোগ হয়। নয়তো স্বার্থের পৃথিবীতে মা কে নিয়ে ভাবার সময় খোজার সময় কই? আজ মা দিবস, মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সব মেয়েদের নাম তো এক – মা! তবু পৃথিবীতে কতো রকমের মা আছে তাইনা? সেকেলে মা, আনস্মার্ট মা, স্মার্ট মা, কর্মজীবী মা, বেকার মা, অত্যাচারিত মা, বিধবা মা, ডিভোর্সি মা, অত্যাচারী মা, নিপীড়িত মা! এতো এতো সামাজিক নামাঙ্কিত স্তরের মাঝে যতো মা আছে তারা সবাই শুধুই একটি জায়গায় এক। তারা তাদের সন্তানদের জীবন দিয়ে ভালোবাসে।

আমার মা কে কোন প্রকারে ফেলবো তা আমার জানা নেই। তবে সে তো কিছুটা অত্যাচারী বটেই! সংসারের অভাব অনটনে হাল না ছাড়া আমার সংগ্রামী মা। কি অদ্ভুত সে আমি আজও বুঝে উঠিনা!

সামান্য কিছু চালের ক্ষুদ ঘরে থাকা অবস্থায় আমার মা দিব্যি হলুদ, তেলে ভেজে এই ক্ষুদ চাল রান্না করে বলে দিতো বৌভাত রান্না হয়েছে। খেয়ে স্কুলে যাও। ঘরে চাল নেই তা বোঝার উপায় ই ছিলোনা। আনন্দে আর সানন্দে সে বৌভাত খেয়ে স্কুলে গেছি কতোবার। আর এখন বস্তা বস্তা চাল ঘরে, আমি আমার মা কে বায়না করি মা সেই বৌভাত রান্না করে দিবা?

স্কুলে এক বন্ধুর সাইকেল টা চাইলাম। ও আমাকে চালাতেও দিলো। বাসায় এসে মাকে বললাম – মা, আমাকে একটা সাইকেল কিনে দিবা? শোন বাবা! এখন তুমি ছোট। রাস্তা এতো এতো গাড়ি। তুমি সাইকেল চালিয়ে বাসা থেকে বের হলে আমার অনেক চিন্তা হবে। বড় হলেই কিনে দিব। আর তুমি বড় হলে কতো সাইকেল তুমিই কিনতে পারবা? খুব বুঝে যেতাম ঠিক ই তো! আমার বন্ধুদের বলতাম সাইকেল যে চালাও একসিডেন্ট করবা। ওরা বলতো কিনতে পারিস না তাই এসব বলিস। আমি ওদের বোকা ভেবে হাসতাম। কয়েকদিন আগে মা কে বললাম – মা একটা সাইকেল কিনব? মা বলে মটর সাইকেল চালানোর ই তো সময় পাস না!

একটা টিনের চালা ঘর ছিল। দু ভাই, মা-বাবা! সে ঘরেও দারুন সুখ। আমার মা একলা হাতে সব সামলে দিতো আমাদের। একদিন ঝরের রাত- প্রচন্ড তুফান। সে সময় ঝড়ের নাম জানা হতোনা খুব। আমাদের চালা ঘরের টিন উড়িয়ে নিলো। আমার মা দুই ভাই কে বুকের দুপাশে জাপটে আছে। ঝড় চলছে, বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাচ্ছে ঘর। এর মাঝেই মা কাথায় মুড়ে এক কোনে চেপে ধরে বলছে ভয় পায়না বাবা! আমি ভুলিনি সেসব মুহুর্ত। আমার বাবা আপ্রান চেষ্টা করছে পানি ঠেকাতে। কোথাও পলিথিন, কোথাও বালতি ধরে পানি ঠেকাচ্ছে আমার সরল সহজ বাবা। পরদিন সকালে টিন খুজে পাওয়া গেল পাশের বাড়ির বাশ ঝাড়ে। মা কে আকুতি করে বললাম- একটা ভাল ঘর বানাও না মা! মা বললো ঘর কেন আমি বানাবো বাবা? আমার স্বপ্ন তোমরা দুই ভাই মিলে মা বাবার জন্য দারুন একটা ঘর বাধবে! সেদিন ঘুর্নিঝড় ফনি এলো! মা বলছে আজ আর টিন উড়ানোর ভয় নেই কিন্তু ঈশ্বরের দুনিয়ায় সব ই তো ভেসে যেতে পারে তার ইশারায়। আমি বললাম- সেই ঘরটাই সুখের ছিল মা! কারও হিংসা মনের রক্তচক্ষু দেখতে হতোনা অবিরাম।

এই আমার মা- একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাকে কি লেখা যায়? আমার মা- আমার বন্ধুদেরকেও নিজের সন্তানের মতো দেখেছে সবসময়। নিজে না খেয়ে খাবার তুলে দিয়েছে আমাদের মুখে অবিরাম। নিজের ছেড়া শাড়ি লুকিয়ে পড়েছে তবু আমাদের ছেড়া পোশাকে রাখেনি কোনদিন। আমার সরল আর একরোখা বাবা পৃথিবীকে ভয় পেয়ে পেয়ে পাড়ি দিয়েছে এতোদিন। মা শুধু ভালোবাসা দিয়ে ধরে রেখেছে আমাদের সংসার। অনেক অভাব ছিল সে অভাব আমার মা কে ছুয়েছে কিন্তু আমাদের ছুতে পারেনি।

শৈশবে নিজের মা কে হারানো আমার মা। ভাই এরা ভিনদেশের অধিবাসী। দেশে থাকা তিন বোনের এক বোন বহু আগেই গতো হলেন! সেলাই মেশিন আর আমার মায়ের দুহাতে চলেছে টিকে থাকার সংগ্রাম। আমার ওই সংগ্রামী মায়ের এই সংগ্রাম মনে হলেই আমার বুকের পৃষ্ঠে খুব বেশি যন্ত্রনা হয়। এমন যন্ত্রনা দেয়া মা কে অত্যাচারী মা না বলে উপায় কি?

আমি সংগ্রামী মায়ের সন্তান। তাই সন্তানদের জীবন ধরে রাখতে যারা অবিরাম জীবন বাজি রাখেন সেসব মায়েদের অপরিসীম শ্রদ্ধা!

মা দিবস টিকে থাকুক অন্তত একটি দিন মা কে আলাদা করে ভাবার জন্য।

এখন আমার মাঝ রাতে জেগে উঠে মা কে খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে – মা! ভালো আছো কি?

লেখক: ইমন সরকার, উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী৷
গৌরীপুর, ময়মনসিংহ৷
Imon.ugdp@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email