Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

গৌরীপুরে পেট্টোল দিয়ে আসামীর বাড়ি ও গোয়ালঘর জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগে মামলা

আপডেটঃ 10:07 am | May 14, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের হামলা-সংঘর্ষের মামলার আসামী আলি নেওয়াজের গোয়ালঘর ও মোস্তফা বসত ঘরে শুক্রবার (১০ মে/১৯) রাতে অগ্নিকা- সংঘটিত হয়। অগ্নিকা-ে পুড়ে গেছে ৪টি গরু আর ৩টি ছাগলসহ প্রায় ৬লাখ টাকার মালামাল ভস্মিভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী কোনাপাড়া গ্রামের মোস্তফার স্ত্রী মনি আক্তার (২৫) জানায়, রাতে কয়েকজন লোক ঘরের পিছনে দেখতে পান। চিৎকার দেয়ার মুর্হূতেই দেখেন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে। আগুনের লেলিহান শিখায় শরীরের কিছু অংশও পুড়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে ঘরের বাহিরে আসতে আসতেই দেখেন পুরো ঘরটি জ্বলছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
অপরদিকে আলী নেওয়াজের পুত্র মজিবুর রহমান জানান, মো. কলিম উদ্দিনের পুত্র সাইদুল ইসলাম (২৫) তার নিকট থেকে ২০হাজার টাকা ধার নেয়। এ টাকা চাওয়ায় তাদেরকে মারধরের হুমকি দেয়। এরপর পুলিশ ডেকে এনে আমাদের লোকজনকে ধরিয়ে দেয়। এরপর নিজের দোকান ভাংচুর করেই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়। এখন প্রতিশোধ নিতে আবার পেট্টোল দিয়ে ওরাই আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা।
এদিকে বাড়িতে খোঁজে পাওয়া যায়নি সাইদুল ইসলামকে। তার মা মজিলা খাতুন জানান, ১৫হাজার টাকা তার ছেলে সুদে এনে ছিলো। তার আসল ও লাভের কিছু টাকাও দিয়ে দিয়েছে। আর কিছু বাকী আছে। সেই টাকা আমার স্বামীকেও জানিয়ে দেয়নি। অথচ এ টাকার জন্যই আমার স্বামীকে ওরা মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। আমরা অসহায় নিঃস্ব।
এলাকাবাসী জানায়, আলী নেওয়াজ ও কলিম উদ্দিনের পরিবারের মাঝে টাকা নিয়ে দ্বন্ধ চলচিলো। ঠিক সময় অর্থাৎ গত ২৪এপ্রিল রাতে গৌরীপুর থানার এএসআই আব্দুল আউয়াল ও এএসআই রুহুল আমিন গংদের নেতৃত্বে কলিম উদ্দিনের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬জনকে ইষ্টু (ক্রিকেটে বাজি) খেলার অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সঙ্গে কলিম উদ্দিনের দোকানের টেলিভিশনও জব্দ করা হয়। আলী নেওয়াজ গংদের অভিযোগ কলিম উদ্দিনই পুলিশকে খবর দিয়ে তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছে। যদিও এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে কলিম উদ্দিনের স্ত্রী। রাতেই পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করো ছাড়া পেয়ে সকালে কলিম উদ্দিনের দোকানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
এ দিকে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে অগ্নিকা-ের ঘটনায় মো. নবী নেওয়াজ বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মৃত রহিম বক্সের পুত্র মো. কলিম উদ্দিন (৬৫), মো. কলিম উদ্দিনের পুত্র মো. মজিবুর রহমান (৩৫), মো. মঞ্জুল হক (৩০), মো. আজিজুল হকের পুত্র মো. জালাল উদ্দিন (২২), মো. জয়দুল্লা (১৯), মো. বিল্লাল মিয়া (২৫), মো. আসিম উদ্দিন ফকিরের পুত্র মো. আজিজুল হক (৫০), মো. সিরাজুল হক (৫৫), মৃত হজর আলীর পুত্র মো. মিলন মিয়া (৪০), মো. রিপন মিয়া (৪৫), মো. রিপন মিয়ার পুত্র মো. খাইরুল ইসলাম (২২)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২জন আসামী করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারাই বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা দেখেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (১২ মে/১৯) গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অগ্নিকা-ের ঘটনায় বেআইনি জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করিয়া বসতঘর ও গোয়াল ঘরে পেট্টোল ঢালিয়া অগ্নিসংযোগ করিয়া আসবাবপত্র ও গবাদি পশু পুঁড়াইয়া হত্যা করিয়া ক্ষতি সাধন করার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email