Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

মোহাম্মদ শহীদুল্লার ছোটগল্প ——- এক্সপায়র ডেট

আপডেটঃ 10:49 pm | June 20, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

লুলুর আব্বাকে দেখে হসপিটালের ডা.সিরাজ প্রেসক্রাইব করলেন এমডোকল টেন,ইনসুলিন নর্ডিস্ক। কিন্তু কি আশ্চর্য দ্বিতীয়টা চট করে মিললো,আর সহজ বানানের এমডোকল নেই। নেই মানে –নেই। কেন নেই? এইটা কোনো কোশ্চেন হলো? লুলুর দিকে দোকানের স্পাইক চুলঅলা ছেলেটা এমনভাবে তাকালো যেন লুলু এাটা জানতে চেয়ে পকেটমারার মতো অপরাধ করে ফেলেছে।

তারপর চরপাড়া,দূর্গাবাড়ি হালচাষ দেয়ার মতেো তোলপাড় করেও নিরাশ।আছে,তবে টেন নয়,ফাইভ। কিযে মুশকিল,লুলুর বাবার জন্যই টেন লাগবে।দুনিয়ার সব একদিকে,আর লুলুর বাবার বেলায় আরেক পাওয়ার।

কি আর করা।ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রত্যেকটা লাইনই তো পুলসেরাত পার হওয়ার সুপারিশ যেন। একজন বললো,সাগরে দেখছেন?কারো কাছে না থাকলে ওইখানে পাবাইন। মানে? সাগরে? আমি কি আপনার তালতো ভাই? আহা,গুসা করতাছুইন ক্যা?আমি কি বুল কইছি? সাগরে কি ঔষধ থাকে? আরে মিয়া,সাগর তো হেই সাগর না।আরে সাগর অইছে হার্মেসীর দোকানের নাম। নিজেকে আপসে আপ গুটিয়ে আনলো লুলু। সাগরে গিয়ে জিগ্যেস করতেই ওখান কার আশির মতো বয়েসী লোকটা তিলাভর্তি মুখটা খামচাতে খামচাতে যেন ঘুম থেকে জাগলেন। উনি জানালেন আছে।দাম ম্যালা। ম্যালা?মানে কত? প্রতি টেবলেট দশটাকা। মানে সাড়ে ছয়টাকা ছিলো তো। ছিলো।

রেইট বাড়ছে।দেখতেছেন না সাপ্লাই নাই। ভালো।সাপ্লাই নাই।ইমার্জেন্সির ঔষধ, সাপ্লাই তো থাকবেই না।এটা কি পেঁয়াজ রশুনের বাজার? দেখেন মিয়া, নিলে নেন।না নিলে না নেন। বুড়ো লোকটা পকেট চিরুনি বের করে করোটির ওপর শ্যাওলার মতো এক পরত চুল আঁচড়াতে শুরু করে। লুলু মনে হচ্ছিলো ওনার সামনের কাউন্টারটা এক ঘুষিতে ভেঙ্গে ফেলে।কোনো মতে রাগটাকে খপ করে ধরে গ্যাসপাইপের ভেতর চালান করার মতো ঠেসে দিয়ে বললো,দেন ভাই।

আমাদেরও নিতে তো হবে। করলিরে শালার নগরবাসী। গ্রামের সহজ সরল জীবনগুলোকে নাগালে পেয়ে ইচ্ছামতো ডলিউশন দিলি। ঔযধটা নিয়ে একটা কনফেকশনারী থেকে মিল্কভিটার প্যাকেট কিনতে হোলো।ইনসুলিনটা যেহেতু ঠান্ডা অবস্থায় নিতে হবে।এখন ফ্রিজঠান্ডা দুধের প্যাকেটই কাজে লাগবে। শম্ভুগঞ্জ ব্রীজের জ্যাম,ময়লার টালের দোযখের গন্ধ,রাস্তার সংস্কার,গরম বাতাসের ভাঁপের ভেতর দিয়ে সি এন জিটা গৌরীপুর পৌছুলো।

রাত হয়ে যাওয়ায় কালিখলা থেকে অনেক হাতপা ধরে রিকশায় করে বেখৈরহাটি। বাড়িতে আধো ঘুম,আধো জাগরণ মানুষগুলোর চোখে। ইনজেকশানটা পুশ করা হোলো।খাবারের পর এমডোক্যালের ফয়েল টিপে টেবলেটটা বের করতেই লুলুর কিশোরী মেয়ে তুর্ণা চমকে দিলো। আব্বু,টেবলেটের এক্সপায়ার ডেট দেখে আনছো? লুলুর ক্লান্ত বুকে কেউ যেন কারেন্টের শক দিলো।চমকে গিয়ে উত্তর দেয়—-না তো। টেবলেটের প্যাকেটটা পড়ে দেখলো—শেষ তারিখ মে দুহাজার উনিশ। মাস চলছে জুন,দুহাজার উনিশ। সারা শরীর ঘামছে লুলুর।এইটাই ঝামেলা।

আর কিছু না হোক,এমডোক্যাল টেন লাগবেই। বাবাও চোখ বন্ধ করে চুপ করে আছেন। নিজের বডির এক্সপায়ার ডেট নিয়ে চিন্তার গভীরে ঢুকতে চাইছেন হয়তো।কিন্ত মাথার টিস্যুগুলো কাজ করছেনা।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email