Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের জাহিনের ছোট্ট গল্প || ছেলেবেলার বন্ধু

আপডেটঃ 1:50 am | July 08, 2019

আমার নাম আমিন৷ আমি একটি সরকারি চাকরি করি৷ মাইনে মোটা অংকের না হলেও আমি আমার চাকরিটা খুবই পছন্দ করি৷ যখন আমি কোন চাকরি করতাম না তখন আমি বেশ ঘরুয়া ছিলাম৷ বাইরে তেমন চলাফেরা ছিল না৷ তবে চাকরিটা করতে করতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেলাম৷

আমি টান্সফার হলাম শোভনপুরে৷ প্রথমে বেশ বিরক্তি লাগল৷ আমি ট্রেন থেকে লামলাম জায়গাটা বেশ অন্ধকার ওপরে বড় বড় করে লেখা ” শোভনপুর রেলওয়ে স্টেশন”৷ আমি নেমে কুলি খোঁজলাম কিন্তু পেলাম না৷ জনপদের খুবই কম বিচরণ৷ হঠাৎ করে কে যেন বলল, “তুই শরিফ না?

আমি ঝটকা মেরে পেছনে ফিরলাম আর দেখলাম কালো একটা শার্ট পরা, সাদা বেল্ট পরা, প্যান্ট পরা, চোখে গোল গোল মোটা ফ্রেমের চশমা পরা৷ আমি বললাম, জ্বি আমি শরিফ আহমেদ, ডাক নাম আমিন৷ বয়স ২৫! আপনি কে? লোকটি হেঁসে বলল, চিনতে পারস না?? স্কুল লাইফের বন্ধু রফিক৷ আমি আবচাভাবে বললাম, ওহ! কী খবর? কেমন আছিস? রফিক বলল, এই তো চলছে! দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তার পর বলল বিয়ে-সাদী করেছিস না সিঙ্গেল! আমি বললাম, এইতো করেছি৷ চল আমার বাড়ি চল, বলল রফিক, আমি ভাবলাম হোটেল ভাড়াটাও দিতে হবে না আর এই শোভনপুরে চেনা কাউকে পাওয়াটা সত্যি সৌভাগ্যের৷

আমি চললাম, বেশি দূরে নয়৷ বাড়িটা বেশ পরিস্কার৷ রফিক বলল তুই ওই কলঘর থেকে ফ্রেশ হয়ে নে আমি খাবার রেডি করি৷ কলঘরটাও বেশ পরিস্কার৷ কোন ময়লা নেই৷ বের হয়ে দেখি খাবার রেডি৷ বেশ রাজকীয় খাবার, কোরমা, গরুর ঝাল মাংশ, পোলাও, খাসির মাংস, শরবত৷ খাওয়া শেষ হলে আমি শুয়ে পরি৷

রফিক হঠাৎ বলল, আমি একটু বাইরে থেকে আসি, তুই থাক৷ বাইরে তালা দিয়ে যাচ্ছি দরকার হলে তুই পেছনের দরজা দিয়ে বের হোস৷ এই বলে রফিক চলে গেল৷ মধ্যরাতে আমার ঘুম ভাঙ্গে দেখি আমি মেঝেতে শুয়ে আছি৷ চারদিকে তেলাপোকা, শেওলা, বেশ নোংরা৷ আমি ভয় পেয়ে বাইরে গেলাম৷ দেখি এক বৃদ্ধ লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম চাচা এটা রফিকের বাড়ি না? লোকটি বলল, হ্যাঁ, কিন্তু রফিক সেই কবে মারা গেছে৷

লেখক : জোহায়ের মোকাম্মেল জাহিন
চতুর্থ শ্রেণী
গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, ময়মনসিংহ৷

Print Friendly, PDF & Email