Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

মায়ের প্রশ্ন : নামাজে গেলো আকুয়া, লাশ কেন ত্রিশালের নদে? গৌরীপুরে নানা-নানীর কবরের পাশে শায়িত হলো নিহত কলেজ ছাত্র বাপ্পী

আপডেটঃ 7:56 pm | July 08, 2019

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ত্রিশাল উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত কলেজ ছাত্র শামীম আফতার বাপ্পী দাফন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার লামাপাড়ায় রোববার (৭ জুলাই/১৯) সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের দাবী বাপ্পীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেই লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদে। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা: শাম্মিয়ারা খানম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সোমবার (৮ জুলাই/১৯) হত্যাকারীদের খোঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তার পালিত মা রৌশন আরা খানম। তিনি গৌরীপুর স্বজন মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বুকে নি:সন্তানের কালিমা মুছে দিয়েছিলো বাপ্পী। ২৯টি বছর ধরে বুকে জড়িয়ে ওরে আমি বড় করেছিলাম। ওর কাঁধে আমি লাশ হয়ে কবরে যাবো। ওর লাশ আমার কাঁধে কেন? সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার মোর্ছাযান তিনি। জিজ্ঞাসা করেন, আমার ছেলে গেলো ময়মনসিংহের আকুয়া বড়বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়তে। ত্রিশালের নদে ওর লাশ গেলো কিভাবে? ওকে মেরে নদে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।
মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাপ্পী নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার আলমপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের সন্তান। শাম্মিয়ারা খানমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় এক বছর বয়স থেকেই বাপ্পীর ঠিকানা হয় তার খালু (পালিত বাবা) মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে জবান আলী ও মাতা রৌশন আরা খানম। ডৌহাখলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জবান আলী গৌরীপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও ছিলেন। নি:সন্তান হওয়ায় বাপ্পীই তাদের সন্তান হিসাবে বড় হন। সকল সনদে পিতা-মাতার নামাঙ্কেও অলংকিত। তবে এখন থাকতো ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায়। নাসিরাবাদ কলেজের বাউবি শাখার বিএ’র শেষ বর্ষের ছাত্র।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া হাজী বাড়ি মসজিদে জোহরের নামাজের কথা বলে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায় বাপ্পী। ওই দিন তিনটায় মায়ের সঙ্গে শেষ কথা মুঠোফোন। তখন সে গাঙ্গীনারপাড়ে ওষুধ ক্রয় করছে বলে জানায়। এরপর থেকে মুঠোফোন বন্ধ দেখায়। শনিবার তার লাশ ভেসে উঠে ব্রহ্মপুত্র নদের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া বিয়ারা নামক এলাকায়। অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১১সালে ত্রিশালে রাতুল নামের এক মেয়েকে বিয়েও করেছিলো বাপ্পী। সেই বিয়ের বিচ্যুতিও ঘটে ২০১৫সালে।
ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকালে ডৌহাখলা ইউনিয়নের পায়রা গ্রামে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়ায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে তার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খান ও নানী জুলেখা খানমের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন কলেজ ছাত্র বাপ্পী।
ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খোঁজে বের করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

Print Friendly, PDF & Email