Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙ্গনের শিকার আটটি গ্রাম : তলিয়ে গেছে চারটি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর

আপডেটঃ 10:20 pm | July 27, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নে ব্র‏হ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির কারণে তলিয়ে গেছে চারটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার, পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে ৫শতাধিক পরিবার। অপরদিকে প্রবল শ্রোতে ভাঙনের মুখে অর্ধশত বাড়িঘর ৩দিন সরিয়ে নিতে হয়েছে। ৮টি গ্রামের ঝুঁকিতে আরও ৫শতাধিক পরিবার।

বানবাসী মানুষের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যার মোফাজ্জল হোসেন খান, ইউএনও ফারহানা করিম ও এমপি’র পুত্র তানজিন আহমেদ রাজিবের শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। তবে ৩বছরে ক্ষতিগ্রস্থ ভাঙ্গন কবলিত ৪শতাধিক পরিবার কোনরূপ সরকারি অনুদান পায়নি।
ব্রহ্মপুত্র নদের বাড়ি বৃদ্ধির কারণে মাঝের টেক, চরভাবখালী, অনন্তগঞ্জ ফেরিঘাট, উড়ান কাশিয়ারচরের দুই শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বয়ড়া বাজারের সঙ্গে ঘাটের সংযোগ সড়কটি তলিয়ে গেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বানবাসী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ৩টি গ্রামের এসব মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকের ঘরের ছালও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুন নূর খোকা বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও ব্যক্তি উদ্যোগে ভাঙনের শিকার ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল্য। তাই দুর্গত এলাকায় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় জানা গেছে, চলতি বছর বর্ষার শুরুতেই ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা ভাংনামারী ইউনিয়নের অনন্তগঞ্জ, ভাটিপাড়া, ভাংনামারীর চর, বয়রা, খোদাবক্সপুর, দূর্বাচর, গজারিপাড়া, খুলিয়ারচর ভাঙন শুরু হওয়ার পর অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, কালর্ভাট সহ সহ¯্রাধিক একর ফসলি জমি। ছয় বছর আগে চাঁদা তুলে নদে বাধ নির্মাণ করলেও পরের বছর তা নদে বিলীন হয়ে যায়। এ বছর বর্ষার শুরুতেই নদে ভাঙন দেখা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
নৌকায় ঘুুরে দেখা যায় ব্রহ্মúুত্র নদের পানিতে তলিয়ে গেছে অনন্ত ফেরিঘাট। অনেক মাঝির নোকৗ ডুবে যাওয়ায় আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। নদের পানিতে ডুবে গেছে বয়রা বাজারের প্রবেশ পথ।
ফেরিঘাটের নৌকার মাঝি রাসেল মিয়া বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে দুই সপ্তাহ আগে আমার ২টি নৌকা ব্রহ্মপুতে ডুবে গেছে। ওই নৌকা দুটিই ছিলো আয়ের একমাত্র অবলম্বন। এখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

এদিকে ভাটিপাড়া ও খোদাবক্সপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙতে ভাঙতে গ্রামবাসীর দুয়ারে চলে এসেছে। গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে নদে। ঘর হারানো পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্না করছে। নদে বিলীনের আশঙ্কায় গাছপালা কেটে ও ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রামবাসী। এরমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হুমকিতে আছে ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজাত মিয়া বলেন ১০ বছর আগেও নদ বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ছিলো। এখন ভাঙতে ভাঙতে ঘরের দরজায় চলে এসেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করা হলে আগামী বছর ভাটিপাড়া গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আমরা ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে দ্রুত জানানো হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email