Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

দল ও সরকারে পদপদবি নিয়ে আলোচনা

আপডেটঃ 10:31 am | August 01, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বে কারা আসতে পারেন—এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার শেষ নেই। জল্পনা-কল্পনার সঙ্গে চলছে বিশ্লেষণ। তবে আলাপ-আলোচনার মূল বিষয় দলটির ২১তম সম্মেলনের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্য।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সরকার ও দলের কার্যক্রম আলাদা রাখতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলের অপর এক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় সফল অনেকের জন্য ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের নেতৃত্বকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি আলোচনাতেই রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সফল ও জনপ্রিয় কয়েকজন তৃতীয় মেয়াদের সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে আগের মতো তারা সময় দিতে পারছেন না। সরকার ও দলের দায়িত্বশীলরা আলাদা ব্যক্তি হলে নিজেদের কর্মকান্ডে সবার জন্যই কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড সূত্র জানায়, এবারের জাতীয় সম্মেলনের পর মন্ত্রিসভায় আরেক দফা রদবদল আসতে পারে। সম্প্রসারণ হতে পারে মন্ত্রিসভার আকারও। অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে দলের সভাপতিমন্ডলী ও সম্পাদকমন্ডলীতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। দলীয় পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন বর্তমান কমিটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। অনেককে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে, আবার কারো কারো পদাবনতি ঘটতে পারে। সম্মেলন শেষে দলীয়ভাবে যারা পদ পাবেন না, তাদের কয়েকজনক মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এমন আলোচনাও রয়েছে দলে। সে হিসেবে আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ নভেম্বরের শেষদিকে কিংবা ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে বাদ পড়েন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর, অর্থ সম্পাদক আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইয়াফেস ওসমানসহ আরো কয়েকজন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও নূরুল ইসলাম নাহিদ। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্যের মধ্যে মন্ত্রিসভায় রয়েছেন দলীয় প্রধান ও প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাকসহ মোট তিনজন।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনকালেও দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনেকে বাদ পড়েন। আসন্ন জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়েও এমন পরিকল্পনা আসতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এখন কয়েকজন আছেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে। তবে দলীয় পদ থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়। দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র এসব তথ্য জানায়।

আওয়ামী লীগের তথ্যমতে, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ-মুজিববর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। তাই দলকে নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি সরকারের দক্ষতা ও পারদর্শিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার বিষয়টি আলোচনা রয়েছে। সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই হবে যার উদ্দেশ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে বিষয়টি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন এক মুখপাত্র এবং একই সঙ্গে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ মদদদাতা হিসেবে প্রায় ৬০ জন এমপি-মন্ত্রী অভিযুক্ত। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দল। সেক্ষেত্রে দলে ও সরকার সমান্তরাল করা হলে দলে আরো সাংগঠনিক গতি আসতে পারে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সরকার ও দলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারে থাকলে দলে থাকতে পারবেন না বা দলে থাকলে সরকারে থাকতে পারবেন না—এ ধরনের কোনো নীতিমালা আওয়ামী লীগের নেই।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email