Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

বনপ্রহরী পদে এত মধু! : অল্প দিনেই কোটিপতি আমিন উল্লাহ খন্দকার

আপডেটঃ 10:13 am | August 05, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

আমিন উল্লাহ খন্দকার। একজন বনপ্রহরী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক গাজীপুরে কর্মরত। দু-চার বছর নয়, টানা ৯ বছর একই কর্মস্থলে তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। একজন ‘বনপ্রহরী’ কীভাবে এত বছর এক স্থলে—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ডালপালা মেলেছে। অনেকেই বলছেন, বনপ্রহরী পদে এত কী মধু! যেখানে বদলির নিয়ম অনিয়মে পরিণত

হয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন এক কর্মস্থলে থাকায় আমিন উল্লাহ গাজীপুর সাফারি পার্কে নিজস্ব শক্তিবলয় কায়েম করে ফেলেছেন। তাকে ম্যানেজ ছাড়া কর্তব্যরত বড় বাবুর যেমন দেখা পাওয়া অসম্ভব। একইভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই পার্কের বড় বাবু তিনি নিজেই। কারণ তাকে মাসোহারা না দিয়ে কাজ ভাগ্যে জুটে না কারোরই। কেননা পার্কের বড় বাবুকে ম্যানেজ করার দায়িত্বও ওই বনপ্রহরীর বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, একজন বনপ্রহরীর বেতন সর্বসাকুল্যে কত টাকা—এটা যেমন কারো অজানা নয়। ঠিক একইভাবে এ পদে চাকরি করার সুবাধে তিন-চার সদস্যের পরিবার চালানোর পর কি তার সঞ্চয় থাকতে পারেÑ এটাও সবার জানা। কিন্তু সব কিছুকে হার মানিয়েছেন এই বনপ্রহরী আমিন উল্লাহ খন্দকার। বনে গেছেন কোটিপতি। চাকরির সুবাধে এখন তিনি অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক, পাশাপাশি হায়েস গাড়ি রয়েছে তার একাধিক। এত সম্পদ ও বিত্তবৈভবের পেছনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং অবৈধ উপায়ে টাকা অর্জন। বিষয়টি এমন—অল্প দিনেই হাতে পেয়েছেন ‘আলাদিনের চেরাগ’, যা গাজীপুর সাফারি পার্কে চাকরিরতদের মুখে মুখে খবরটি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’।

আমিন খন্দকারের বেপরোয়া আচরণে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ক্ষুব্ধ। একটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে আমিন উল্লাহ খন্দকারের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছে এ অভিযোগে। কমিটি অভিযোগটি আমলে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী যেকোনো একটি সভায় অভিযোগ উত্থাপনসাপেক্ষে বনপ্রহরীর সম্পদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ জানাতে পারেন বলে জানা গেছে।

বনপ্রহরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে গত ২৮ জুলাই পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে অভিযোগ দাখিল করেছে ঢাকার মিরপুরের মেসার্স সিকু বিল্ডার্স। অভিযোগে দেওয়া সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বনপ্রহরী আমিন উল্লাহকে আমি চিনি। কিন্তু যেহেতু ঠিকাদারি করি, তাই তার সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়াতে চাই না। আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন বিস্তারিত আলাপ হবে, ফোনে আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমার বক্তব্য পুরোটাই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছি, যোগ করেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগ বিষয়ে জানতে বনপ্রহরী আমিন উল্লাহ খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে পাওয়া তথ্যমতে, বনপ্রহরী হিসেবে চাকরির সুবাধে মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে তিনি নিজে ধনী বনে গেছেন তা নয়, স্ত্রীর নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে দুটি ফ্ল্যাট আছে। উত্তরায় রয়েছে প্লট। আর সম্প্রতি তিনি নতুন দুটি হায়েস গাড়ি ক্রয় করেছেন, যা বর্তমানে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন।

সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আরো জানা যায়, অনিয়ম এখন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। তাই নানাভাবে উপার্জন করছেন অবৈধ অর্থ। তিনি সাফারি পার্কের প্রাণী খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার হতে প্রতি মাসেই বিল প্রস্তুত ও সহি করানোসহ নানা অজুহাতে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। প্রকল্প পরিচালককে বশে আনতে হবে—এ ধরনের ধূম্রজাল ও বলয় তৈরি করে ঠিকাদারদের জিম্মি করে এখান থেকে আয় করেন মোটা অঙ্কের অর্থ। আর দরপত্র আহ্বানের পর যেই আমির উল্লাহকে খুশি করতে পারেন, কাজটি সেই পেয়ে যান, যা রহস্যঘেরা। সাফারি পার্ক প্রকল্পে কোটেশনে যত কাজ তার ন্যূনতম ১০ শতাংশ টাকা আমিন উল্লাহকে দিতে হয়। এভাবেই অল্প দিনেই বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন তিনি। দম্ভোক্তি করে প্রায়ই তিনি বলেন, আমি সিএফ ও সিসিএফসহ অনেকেই ম্যানেজ করে ৯ বছর যাবৎ একই স্থানে বহাল আছি। আমাকে কেউ সরাতে পারবে না, যা পার্কে কর্মরতদের মুখে মুখে। খোঁজ নিয়েও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, আমিন খন্দকার একই কর্মস্থলে রয়েছেন টানা ৯ বছর। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বদলির আদেশের ক্ষেত্রে ২০০৪ সালের পবম/শ-২/বন-২৯/২০০৩/২০৫৫ স্মারকে প্রণীত নীতিমালায় বলা আছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই বছর অন্তর বদলি করতে হবে। কিন্তু আমিন উল্লাহ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, ৯ বছরেও তার কোনো বদলি নেই। সে কারণে গাজীপুর সাফারি পার্কের সবাই বলছেন, ‘বনপ্রহরী পদে এত মধু’ যে, আমিন উল্লাহ খন্দকার এ জায়গায় চাকরি করছেন ৯ বছর।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email