Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম এমপি’র ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেটঃ 12:15 pm | August 08, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট/১৯) বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম সরকার এমপি’র ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার নামে ১৯৯৪সালে গড়ে উঠে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২৫বছর ধরেই এমপিওবিহীন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন বিনাবেতনে পাঠদান করছেন। স্বীকৃতি মিললেও জুটেনি কোন ভবন! তবে শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে রয়েছে অনন্য দৃষ্টান্ত। ভাংগা টিনের ঝুপড়ি ঘর, আসবাবপত্র নেই, নেই ছাত্রছাত্রীদের পর্যাপ্ত ফ্যানও।
অথচ দলমত নির্বিশেষ জনমানুষের নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর প্রেমেই হ্যামিলিয়নের বাঁশিবাদকের ন্যায় নৌকায় তুলে ছিলেন লাখো জনতা। এখনও দ্বিতীয় টঙ্গীপাড়াখ্যাত সহনাটী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে ভোট পায় ৮২ভাগ। তাঁর স্ত্রী রওশন আরা নজরুলও এমপি নির্বাচিত হন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম সরকার ১৯৯১সনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ অধিবেশন শেষে মোটর সাইকেল যোগে গৌরীপুরে আসার পথে ১৯৯২সালের এই দিনে ৮আগস্ট ময়মনসিংহ-ঢাকা সড়কের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সামনে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তার স্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৯৪সালে নজরুল ইসলাম সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলে মো. মজিবুর রহমান। বর্তমানে মো. আবুল কালাম আজাদ।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৯০জন, ৭ম শ্রেণিতে ১১৭জন ও ৮ম শ্রেণিতে ৬৯জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। এ বিদ্যালয়টি ২০১৮সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৮০জন অংশ নিয়ে ৭২জন উর্ত্তীণ হয়। জিটিএ-৫ পায় ১জন। পাসের হার ৯০শতাংশ। ২০১৭সালে ৫৭জনের মধ্যে ৫৬জন পাস করে। ১৫জন জিপিএ-৫সহ পাসের হার ৯৮.২৫শতাংশ। ২০১৬সালে ৩৬জনের মধ্যে ৩৪জন পাস করে। সেবছর ১জন জিপিএ-৫সহ পাসের হার ৯৪.৪৪শতাংশ। ২০১৫সালে ৬২ ও ২০১৪সালে ৫৪জন সবাই পাস করে। পাশের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পায় ৬জন। এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর চেয়ে এ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। তবে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক হেলেনা আক্তার, অফিস সহকারী রোমন মিয়া, পিয়ন আবুল হোসেনের ভাগ্যে ২৫বছরেও জুটেনি বেতন-ভাতা। এমপিওবুক্ত না হওয়ায় এ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে থাকা অধিকাংশ শিক্ষকই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী নিয়ে চলে যাচ্ছেন। একমাত্র হেলেনা আক্তারও ছেড়ে যাননি বলে জানান প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের শেষপ্রান্তে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। যার সীমানাঘেঁষে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ভূইয়ারবাজার। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস চলছে টিনের ভাংগা ঝুপড়ি ঘরে। নেই সিলিংয়ের কোন ব্যবস্থা। ঘার্মাত শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ফ্যানও। দরজা-জালানাবিহীন বিদ্যালয়ে যে দু’চারটি ফ্যান আছে, তাও নিরাপত্তার ভয়ে প্রতিদিনই খোলে নিয়ে যেতে হয়। ফ্লোরবিহীন কক্ষটিতে উড়ছে ধুলাবালি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টেও ভুগছে। বেঞ্চ, টেবিলের অভাবে গাঁধাগাঁধি করে বসতে হচ্ছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার জানায়, আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। এ ক্লাসের অপর শিক্ষার্থী উম্মে হানিফা চুমকি জানায়, বৃষ্টিতে বই-খাতাও ভিজে যায়। ক্লাসে বসাও যায়না।
এ দিকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার জানান, একটি ভবন আর শিক্ষা উপকরণের অভাবে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বারবার আবেদন-নিবেদন করেও সাড়া মিলেনি। প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিনাবেতনে ২৫বছর পাঠদান, এবার এমপিওভুক্তি না হলে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে আমাদের পথে বসতে হবে। পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার শংকা রয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email