Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

বাবার স্মৃতি; ঈদে শূন্যতা

আপডেটঃ 7:40 pm | August 11, 2019

মো. রইছ উদ্দিন :

শূন্যতা! শূন্য হলেই অনুধাবনে আসে। বাবাকে নিয়েই কেটেছে আনন্দময় ঈদোৎসব। সেই আঙ্গুলে ধরেধরে ঈদগাহে আসা শুরু। এরপর আমার বাইকে চড়ে বাবাকে নিয়ে আসা। এবারের ঈদুল ফিতর ছিলো ‘বাবাকে ছাড়া প্রথম ঈদ’। পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের প্রথম লাইনে বসতেন, আমি পাশে বসতাম। বারবার পেশাগত কাজের জন্য উঠেও যেতে হতো। বাবাই জায়নামাজটা পেতে বসে থাকতেন। বাবা ইশারা করতেন, চলে এসো। তড়িঘড়ি করে এসে আমিও নামাজে দাঁড়াতাম। নামাজ শেষে বুকে জরিয়ে রাখতেন। এ যেন পৃথিবীর মহানন্দের স্বর্গ। সেই স্বর্গের ছোঁয়া এবার অঙ্গে মাখেনি।

প্রার্থনা করি “রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা” -হে আমার আল্লাহ! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করো, যেমন তারা দয়া, মায়া, মমতা সহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।
বাবা নেই তাই ওই লাইনে দাঁড়ালাম না। আরো দুই কাতার পরে দাঁড়ালাম। বারবার মনে হচ্ছিল ওই লাইনেই বাবা দাঁড়িয়ে আছে। নামাজ শেষ! সবাই কুলাকুলি করছে; আমি স্তম্ভিত, নীরব, শুধু দু’চোখে অশ্রুবন্যা। বাকরূদ্ধ আমার ঈদ!

এ দিক-সেদিক তাকালাম, বাবার বয়সী আরো বেশি বয়সী অসংখ্য নামাজ। বাবার মতো দাঁড়িওয়ালা, উচ্চতার আর সেই রঙের পাঞ্জাবী পড়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। শুধু প্রিয় মানুষটি নেই। হৃদয়ে শূন্যতার অনুভূতি, এভাবে কান্নার রহস্য অনেকই জানতে চাইলেন। কিছু বলতে পারছি না, বাবা-সে তো বাবাই; অসংখ্য আবদার, পৃথিবীটাই যেন আমার। আজ সেই আবদারের ভান্ডারশূন্য, তিনি নেই। চলে গেলেন বাবা। শব্দটা কঠিন হয়ে গেলো। স্মৃতিপাতায় এখন জন্মদাতার সংলাপগুলো জমে আছে। সাদা দাঁড়িতে স্পর্শ করার সেই বাবা; আজ নেই। চলে গেছেন ২০১৮সালের ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার। দিনভর সবাইকে হাঁসালেন। হাঁসির মানুষগুলোকে কাঁদিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহে ….রাজিউন।

মুঠোফোনে আজ আর সেই রিংটোন বাজে না। বাবা লিখা শব্দটাও ভেসে উঠে না। বাবা ছিলেন, সবসময় হৃদয়ের কাছে, জীবনের পাশে। বাবা নামের সেই বটতলার ছায়াতলে ছিলাম। তখন বুঝি নাই। তাই বাবাকে বাবা হিসাবে যা করার হয়তো সেইটুকু করতে পারি নাই। আজ আপসোস লাগে, কেন? বাবাকে জড়িয়ে আরও কিছু সময় থাকতে পারলাম না। এতো ব্যস্ত; সেই ব্যস্ততা আজ কোথায় লুকিয়ে গেলো, অনেক দিন তো চলে গেলো হিসাবের জীবন খাতা থেকে, বাবাকে জড়িয়ে ধরতে পারছি না, তারপরেও সময়তো থেমে নেই। চলে যাচ্ছে।

রিস্কা থেকে নেমে ধীর পায়ে এসে সেই চেয়ারটায় আর কোনদিন বসতে আসবেন না। তারপরেও বাবার বয়সী কেউ পরন্ত বিকালে আমার অফিসের দিকে এলেই চমকে যাই, আজ যিনি বিকালে আসবেন, বাবার একটি পাঞ্জাবীর রঙের পাঞ্জাবী পড়ে। সেই ছোট দাঁড়ি, তাকিয়ে ছিলাম; বাবাকে এভাবে কোনদিন কী? তাকিয়ে দেখেছি! বাবা, বাবা বলে আজ চিৎকার করতে ইচ্ছে করে, বাবা তুমি আর একবার এসো। আগের মতো জড়িয়ে ধরো, এ বাঁধন ছিঁড়তে দিবো না। ভালো থেকো বাবা; হে আল্লাহ বাবাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করুন।

বাবাকে ছাড়া ঈদ এখন শূন্যতায় রূপ নিয়েছে। মায়ের মুখে বারবার, বাবার পছন্দের জিনিস আর খাবারের কথা বলতে থাকেন, আঁচলে চোখ মুছেন। শূন্যতায় অনুভবে বাবাকে ছাড়া স্মৃতিময় ঈদ এখন ‘ঈদে শূন্যতা’ রূপ নিয়েছে। সবাইকে ঈদ মোবারক।

আবারও প্রার্থনা করি “রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা” -হে আমার আল্লাহ! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করো, যেমন তারা দয়া, মায়া, মমতা সহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন। আমার বাবাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করুন। আমীন।
লেখক : মো. রইছ উদ্দিন, সাংবাদিক, গৌরীপুর।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email