Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

বাংলাদেশে এই প্রথম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমার্জেন্সি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু

আপডেটঃ 3:45 am | November 20, 2017

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে এই প্রথম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভা বহুল প্রতীক্ষিত ইমার্জেন্সি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে। এই সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
রোগীদের ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালের এই ইমারজেন্সি ওয়ান স্টপ সার্ভিসে যুক্ত করা হচ্ছে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ইসিজি, প্যাথলজি ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার স্থাপনসহ ১৬ শয্যার পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড ও ছয় শয্যার ডে কেয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোসার্জারি, শিশু, পেডি সার্জারি এবং এনেসথেসিওলজি এ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নার্স, প্যারামেডিক ও সাপোর্ট স্টাফ দেয়া হয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিসে।
ইমার্জেন্সি ওয়ান স্টপ সার্ভিস উদ্বোধন করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদ জানান, দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে এই প্রথম চালু হয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। পূর্ণাঙ্গ সুবিধার এ ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ কমার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও অনেকটা কমে আসবে বলে জানান তিনি। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ এর আশপাশের প্রায় তিন কোটি মানুষ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করে পরিচালক।
ওয়ান স্টপ সার্ভিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ নূর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যপিক ডাঃ আ.ন.ম ফজলুল পাঠান. বিএমএ ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ এ গোলন্দাজ তারা, হাসপাতালের উপ-পরিচালক লক্ষী নারায়ন মজুমদার, অধ্যাপক ডাঃ সত্য রঞ্জন সূত্রধর, অধ্যাপক ডাঃ আশরাফ উদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ তাইয়্যেবা মির্জা, নার্সিং সুপার শাহিদা বেগম, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, কালের কণ্ঠ স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামূল কবির সজল, ময়মনসসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমাদের সময় স্টাফ রিপোর্টার মো. নজরুল ইসলাম প্রমূখ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন যুগান্তকারী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যপিক ডাঃ আ.ন.ম ফজলুল পাঠান জানান, ওয়ান স্টপ সার্ভিসে মারামারী, দুর্ঘটনায় আহত ও প্রসূতিসহ যে কোন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজন হলে কেবল কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীকে ভর্তির জন্য হাসপাতালের ওয়ার্ডে পাঠাবেন। এতে ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ কমার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিও কমে আসবে বলে মনে করছেন এ চিকিৎসক নেতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষীয় সূত্র জানায়, ওয়ান স্টপ সার্ভিসে প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারি ও সিজারসহ মারামারি, কাটা-ছেঁড়া, দুর্ঘটনায় আহতদের অপারেশন সুবিধা থাকছে। এছাড়া কার্ডিয়াক ও শ্বাসকষ্ট, বুকেব্যথাসহ যে কোন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও জীবনরক্ষাকারী সব ওষুধ প্রদান করা হবে। ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে পানি জমার মতো জটিল সমস্যার দ্রুত সমাধানে ইন্টারভেনশন চিকিৎসা সুবিধাও যুক্ত থাকছে এতে। এছাড়া প্রি-অপারেটিভ ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডও রাখা হয়েছে এখানে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক হাজার শয্যার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ রোগী ভর্তি হয়। এছাড়া জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ আর বহির্বিভাগে আরও প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসক ও নার্সসহ বিদ্যমান জনবল দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে এক হাজার শয্যার বাইরেও হাসপাতালের মেঝে আর বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এতই বেশি যে, কারও পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত থাকে না। কখনও কখনও রোগীদের ডিঙিয়ে চিকিৎসকদের সেবা দিতে হয়। এসব কারণে হাসপাতালের ভেতরে ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবার কোনও পরিবেশ নেই বলে মনে করেন চিকিৎসক ও নার্সসহ রোগীর স্বজনরা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি বরাদ্দের শতভাগ ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহসহ নামমাত্র ফি’তে সব পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকায় এখানে রোগীর চাপ বাড়ছে দিন দিন। এছাড়া প্রয়োজন নেই এমন রোগীরাও ভর্তি হয়ে সরাসরি ওয়ার্ডে চলে আসায় চাপ বাড়ছে।

Print Friendly, PDF & Email