Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

আমার শ্রদ্ধেয় বাবা আলাল উদ্দিন স্মরণে ॥ আমরা তো কখনও ভাবেনি এটিই আপনার শেষ আড্ডা, শেষ মিলনমেলা

আপডেটঃ 11:29 am | September 10, 2019

মো. রইছ উদ্দিন :
রাব্বির হা’হুমা-কামা- রাব্বাইয়ানী ছাগীরা। হে আমার প্রতিপালক! (পিতা মাতার) তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা দয়া, মায়া, মমতা সহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন৷ হে আল্লাহ, আমার বাবাকে বেহেশতের সর্বোচ্চস্থানে আসীন করুন। আমীন। পৃথিবীর সকল বাবাকেই সেখানে স্থান করে দিন। আমীন।
বটবৃক্ষের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে শান্তির স্বস্তি কতবার নিয়েছি; তা আজ জানা নেই! যাওয়ার সময় অবুঝ মনে ছিঁড়েছি সবুজায়নের পাতা, বালক মন, দুরন্ত সময়, হয়তো ভাবেনি সবুজ পাতা আমাকে অক্সিজেন দিয়েছে, বাতাস সৃষ্টি করেছে। শান্তির স্বস্তি দিয়েছে। এমন আচারণ; কেন করেছি? হ্যাঁ আজ ভাবছি, বাবার শূন্যতা! বাবা ছাড়া একটি বছর অতিক্রম করেছি। যে বাবা প্রতিদিন কমপক্ষে দুই/তিনবার মুঠোফোনে খবর নিতে, কোথায় আছি; কেমন আছি? আজ সেই নাম্বার আর বেজে উঠে না। কেউ বলে না, রিস্কা থেকে নেমে অফিসে কেউ আসে না, সেই চেয়ারটায় তোমার মতো করে কেউ বসে না। অপলক দৃষ্টিতে আমার আমার শরীরে তাকায় না, ভাবেও না। বাবা, তুমি চলে গেলে; এমনভাবে ভাবতেই মনের মাঝে তোমার ছবি ভেসে উঠে, দু’চোখ দিয়ে নি:শব্দে বেড়িয়ে আসে পানি।
মানুষ চলে যায়, অনেকেই চলে গেছে, আমরাও একদিন তোমার কাছে চলে আসবো! কিন্তু বাবা অবাক লাগে, তোমার মতো করে প্রস্থানের মঞ্চ বানাতে পারবো! স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই-দাবিতে কতোবার রাস্তায় দাঁড়িয়েছি, কতোবার শ্লোগান ধরেছি, তোমার মতো সেই প্রস্থান চাই বাবা, এভাবে আমাকেও নিয়ে যেও। স্বপ্নের মতো এখন ভাবনায় থাকি, সেই সকাল ১১টা তোমার ফোন বেজে উঠলো, বাজারে আসার অনুমতি নিয়ে চলে আসলে। দেখা হলো কথা হলো, এটাই যে এই শহরে (গৌরীপুরে) তোমার শেষ আসা; তা তো বাবা কখনও বুঝি নাই! রিক্শায় চড়ে মেহমানদারী করার জন্য সব আয়োজন করে, ফিরলে বাসায়, জীবনে কখনও বাড়িতে যেতে তাড়া করোনি। সেদিনই বললে, তাও ব্যস্ত না থাকলে একটু চলে আসো। কেন? বাবা; তুমি জোর করে বললে না, আজ কোথাও যেও না, আমি চলে যাবো! আমি যতবার তোমার পাশে বসেছি, তুমি অনেক সুস্থ্য, শরীর ভালো লাগছে বললেও। সেই প্রস্থানের দিনের বিকাল বেলায় বাড়ির উঠানে জমালে বিশাল আড্ডা, চায়ের সঙ্গে বিস্কুট আর পানের আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন আপনি। আমরা তো কখনও ভাবেনি… এটিই আপনার শেষ আড্ডা, শেষ….. মিলনমেলা।


একেএকে ডেকে সবাইকে দাঁড় করালে আমরাও দাঁড়িয়ে রইলাম। সবার কুশলাদি জিজ্ঞাসা আর আগামীদিনে পথচলার কথা বলতে বলতেই আরেকজনকে খোঁজে নিলে, আস্তে আস্তে সব প্রিয়জনের কাছে দাঁড় করালেন। আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম, আবারও সবাইকে মিষ্টিমুখ করাতে বললেন, তাও করা হলো। এরপর আবারও শুরু করলেন জীবনের গল্প। সবাইকে নিয়ে হাঁসি-আনন্দ, কখনও ভাবতেও দেননি; আপনি চলে যাবেন!
এখন মনে হয় সেই বটবৃক্ষের কথা, বাবা অবুঝ মনে হয়তো অনেক কষ্ট দিয়ে দিয়েছি। শীতল ছায়ায় থেকেও হয়েছি অশান্ত। ক্ষমা করবেন, ক্ষমা চাই, আজ নেই তাই হয়তো শূন্যতা অনুভব করছি। বর্ষার দিন চলে গেলো এখন আর আসে না, ছোট মাছের ব্যাগটা। কেউ ডেকে বলে না, কেমন আছে তরীটা।
বাবা, কি লিখবো; লিখতে পারি না। চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে না টাইপিংটা। কতোদিন শ্বাস কষ্ট নিয়ে তোমাকে যেতে হয়েছে, সেই কোর্টের বারান্দায়, কাঠগড়া দাঁড়িয়ে রয়েছো, বিচারের প্রতীক্ষায়। হয়তো সেদিন সুবিচার পাইনি বাবা, সন্তানের কঠিন বিপদে তুমি কেমন ছিলে তা শুধু দেখেছি বাবা। কোর্টের কাঠগড়ায় দু’সন্তানকে রেখে তোমার সেই দিনের দৌড়টা, ভুলতে পারি না। মানুষের সেবা করতে গিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোমাকে-আমাকে লড়তে হয়েছে ৬-৭টি বছর। আমাদের প্রতি কী; খুব অভিমান ছিলো বাবা! এতো দ্রুত চলে গেলেন, প্রস্থানের জন্য এমনভাবে সব আয়োজন জীবনে কাউকে করতে দেখেনি। মানুষ আসবে দেখতে, তাদের আপ্যায়নও আপনি প্রস্তুত করে গেলেন, চলে যাবেন সেটা তো একবারও বলেননি।


আমরা হয়তো আপনার শূন্যতা হারানোর কষ্টে কাঁদতে পারিনি। তাইতে সেদিন কেঁদে ছিলো আকাশ। শেষ বিদায়ে আকাশের কান্নায় পানিতে আমার ভিজে ছিলাম, হয়তো পাক-পবিত্রও হয়ে গেলাম। এতো কষ্টের মাঝে সেই মাঠে যারা ছিলো তারা আপনারকে ভালোবেসেই ছিলো। এমনভাবে ভালোবাসা-ভালোলাগা হয়তো আমরা কখনই পাবো না।
বাবা দিবস। এবারও এসেছিলো বাবা। সেই দিনে এবার নেই তুমি। ছোট্ট হৃদয়ে কাছে পেতেও চেয়েছিলাম…. খোঁজে পাইনি সেদিন। এখনও খোঁজি বাবা, আপনার সেই ভালোলাগা আর ভালোবাসা। বাবা। আমার বাবা। পৃথিবীর সকল বাবাই হয়তো এমন; যিনি সন্তানের জন্য জীবনের সবকিছু দিয়ে দেন। সন্তানের একটু হাঁসির জন্য মৃত্যুকেও মেনে নেন। বাবা, পৃথিবীর বটবৃক্ষের বিশাল ছায়াতল। যখন থাকে তখন বুঝি না, বুঝার জন্য চেষ্টাও করি না। বাবা আছেন, আছেই তো, তার প্রস্থানে বুঝা যায়, তিনি কে ছিলেন, কেমন ছিলেন, কি করেছিলেন? জীবনের জন্য কতটুকু প্রয়োজন!

লেখক : প্রকাশক, দৈনিক বাহাদুর ডক কম, উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর, আঞ্চলিক প্রধান প্রতিবেদক, দৈনিক স্বজন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, গৌরীপুর উপজেলা শাখা। সাধারণ সম্পাদক, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘ।

Print Friendly, PDF & Email