Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

জি কে শামীমের উত্থান যেভাবে

আপডেটঃ 11:00 am | September 21, 2019

বাহাদুর ডেস্ক :

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলে দাবিদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ক্ষমতার দাপট ছিল আকাশসমান। সব সময় সাতজন অস্ত্রধারী বডিগার্ড নিয়ে চলেন। গতকাল শুক্রবার নিকেতনে নিজ ব্যবসায়ী কার্যালয় থেকে আটক হন তিনি।

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এ শামীম ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। একসময়ের যুবদল নেতা ক্ষমতার পটপরিবর্তনে হয়ে যান যুবলীগ নেতা।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও তিনি। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সম্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মরহুম মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের পদ পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। দেশে কনস্ট্রাকশনের যত বড় বড় কাজ হয়, সব কাজ তার নির্বাচিত ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ করতে পারেন না। যদি কেউ জি কে শামীমকে না জানিয়ে দরপত্র ক্রয় করেন, তবে তার পরিণাম হয় ভয়ংকর। ওই প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রধারী তার ক্যাডার বাহিনী শুধু হামলাই করবে না, প্রয়োজনে তাদের মেরেও ফেলতে পারে।

জানা যায়, সাতজন অস্ত্রধারী দেহরক্ষীর প্রটেকশনে চলেন জি কে শামীম। সবার হাতেই শটগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। যাকে মাঝখানে রেখে তারা পাহারা দেন। তিনি উচ্চতায় পাঁচ ফুটের কিছু বেশি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতারও হয়েছিলেন জি কে শামীম।

বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শামীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। বাড়িটির ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার।

শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।

তবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় দফতর জানায়, জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পদে নেই। অনুমোদিত কমিটির কোথাও জি কে শামীমের নাম নেই। কেউ যদি মুখে মুখে নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলে থাকেন, সেটা তো হবে না।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email