Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

সংস্কার ও মেরামতকৃত নূতন সড়কে একি হাল! গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের বিশাল গর্ত-দু’পাশে ধস

আপডেটঃ 5:28 pm | September 27, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
রাতে চলা বিপদ; দিনেও ঝুঁকিপূর্ণ! সড়কের নাম গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। সংস্কার- মেরামতের পরপরেই ভেঙ্গে যাচ্ছে রাস্তার দু’পাশ। মাঝরাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল গর্তের। পুরো সড়কে কালোপিচ এখন বাঙ্গিফাটার ন্যায় ফেটে চৌচির। ধেবে গেছে কয়েকটি স্থানে।

এ সড়ক সংস্কার ও মেরামতের জন্য ২ কোটি ৭৭লাখ ৮৫হাজার ২৪১টাকার বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে.কে. এন্টারপ্রাইজ।

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ হয়ে গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ভায়া ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের আঞ্চলিক এ সড়কের বেহালদশায় আবারও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কে গৌরীপুর ভায়া হয়ে পুর্বধলা, দূর্গাপুর, নেত্রকোণার সঙ্গে কিশোরগঞ্জের জেলার উপজেলাগুলোতে যেতে কমে আসে প্রায় ৩০কিলোমিটার। রাস্তাটি সংস্কারের পরপরেই এমন অবস্থায় বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী।

এ সড়কটি নির্মাণকালে ধুলাবালি পরিস্কার না করেই চলে কার্পেটিং। ব্যবহৃত হয় পুরাতন পাথর ও কংক্রিট। নি¤œমানের নিমার্ণ সামগ্রী ব্যবহার আর ক্রটিপূর্ণ মেরামত ও অনিয়ম নিয়ে দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক স্বজন ও অনলাইন পোর্টাল ডেইলি বাহাদুর ডট কম-সহ একাধিক সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সরজমিনে তদন্ত করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি। ধুলা-বালির ওপর কার্পেটিং করার সত্যতা পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কর্তব্যে গাফিলতির জন্য তিরস্কারও করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ জানায়, সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮সালের ৭ মে। এ সড়কটি পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচী (এঙইগ) এর অধিনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রামগোপালপুর বাসস্ট্যান্ড বাজার থেকে শ্যামগঞ্জ জিসি সড়ক ভায়া গৌরীপুর জিসি মেরামত কাজের (৬৪৫০-১৩৭৫৩ মি) জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে.কে. এন্টারপ্রাইজ, পটুয়াখালীর সাথে ২ কোটি ৭৭লাখ ৯৯হাজার ৪৫৪টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর। ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি কাজটির উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর/১৯) সড়ক পরিদর্শনে দেখা যায়, গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্বকাউরাট এলাকায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাক আটকে যাচ্ছে। রাতে এ সড়কে যানবাহন চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দূর্গাপুর থেকে কিশোরগঞ্জ, ভৈরবগামী বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক এ সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করতে রাস্তার প্রবেশমুখে টাঙানো হচ্ছে সাইনবোর্ড। ‘১০টনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচল এ সড়কে চলাচল নিষেধ করা হয়েছে।

এ দিকে সড়কটির কাউরাট মোড়, পশ্চিমকাউরাট, গাভীশিমুল, ইটখলা এলাকায় ৩৭টি পয়েন্টে রাস্তা দেবে গেছে। কাউরাট মোড়ে, পূর্ব কাউরাট রাস্তা ও গাভীশিমুলের ৯টি স্থানে রাস্তা ধসে গেছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে ১৬টি স্থানে। পুরো সড়ক ধুলাবালির ওপর কার্পেটিং ও বিটুমিন অপর্যাপ্ততায় ভাঙিরমতো ফেটে গেছে। দু’প্রশন্তকরণ হলেও দু’পাশে মাটিভরাট না করায় রাস্তাটি ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র আইনজীবি আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ। তিনি বলেন, সরকারি অর্থের ব্যয় আছে, সেবা পাচ্ছে না। ব্যবহারের সঙ্গে এ সেবার মানদন্ডও নির্ধারণ করা উচিত।

কাউরাট গ্রামের আব্দুল কাদির, গাভীশিমুল গ্রামের নুর মোহাম্মদ জানান, রাস্তার কালো পুরাতন কার্পেটিংয়ের পাথর, কেরোসিন মিশ্রিত ট্যাককোড ও সিলকোড করা হয়েছে ধুলাবালিতে অপরিস্কারভাবে। কাঙ্খিত মাত্রার ভিটমিনও ব্যবহার করা হয়নি। নির্মানের সময়ই রাস্তা অসমতল বা মুসৃন দেখা গেছে।
রাস্তার তদারকি কর্মকর্তা উপপ্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, রাস্তাটিতে সর্বোচ্চ ১০টনের বেশি যানবাহন যেন না চলে সে জন্য সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিল নিয়ে গেলেও জামানতের টাকা রয়েছে। সড়কের ভাঙন দেখে ঠিকাদারকে পত্রাদেশ দেয়া হয়েছে। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রিফারিং করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

 

 

Print Friendly, PDF & Email