Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

গৌরীপুরে বিভৎস মঙ্গলীকে নিয়ে পথে বসেছেন নানী

আপডেটঃ 8:08 pm | September 30, 2019

মোখলেছুর রহমান, গৌরীপুর অঞ্চল :
শিশুটি পড়ে আছে ফুটপাতে। মাটিতে বিছানো ওয়েলক্লথে। তার মাথায় দৈত্যাকৃতির শিং। চোখ দুটো থেতলানো। নাক থেকে মাংসপিন্ড শুড়ের মতো বের হয়েছে। বিকৃত মুখটা বিভৎস। ভয়ঙ্কর অবয়বের প্রতিবন্ধী এই শিশুটিকে দেখতে ভীড় করেছে উৎসুক জনতা। আর শিশুটির পাশে থাকা এক নারী শিশুর খাবারের টাকা যোগাড় করার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ টাকা ছুড়ে দিচ্ছেন শিশুটির দিকে।

সোমবার বিকালে গৌরীপুরের শ্যামগঞ্জ বাজারে এই দৃশ্য ধরা পড়ে। প্রতিবন্ধী শিশুটির নাম মঙ্গলী। বয়স তার আড়াই বছর। শিশুটির সাথে থাকা বৃদ্ধা নারী সম্পর্কে তার নানী। তার নাম পারুল বেগম। তিনি বলেন, জন্ম থেকেই মঙ্গলীর বিকৃত চেহারা। সে তরল দুধ ও কলা ছাড়া কিছু খায় না। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ প্রতিদিন দুধ কলা কিনে খাওয়ানো সম্ভব না। তাই খাবারের টাকার জন্য নাতনিকে নিয়ে পথে পথে ঘুরি।

গৌরীপুরের মাওহা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে প্রতিবন্ধী মঙ্গলীর বাড়ি। তার বাবা ফারুক পেশায় রিকশাচালক। মা বন্যা আক্তার গৃহিনী। বিয়ের পর বন্যার প্রথম সন্তান জন্মের পর মারা যায়। এরপর বন্যার গর্ভে জন্ম নেয় শিশু মঙ্গলী। জন্ম থেকেই তার চেহারা বিকৃত ছিলো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চেহারা আরো ভয়ঙ্কর হতে থাকে। তবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে হাঁটতে পারেনা। মলমূত্র সব তার বিছানায় সারতে হয়।
ভয়ঙ্কর চেহারার কারণে প্রতিবেশীরা কেউ মঙ্গলীকে কোলে-কাঁখে নিতো না। পরিবারের কেউ মঙ্গলীকে নিয়ে বের হলে অনেকে কটূক্তিও করতো। কিন্ত মা বন্যা আক্তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। পরম যতেœ তিনি মেয়েকে বড় করে তুলেছেন।

জন্মের পর থেকেই মঙ্গলীকে বিশেষ ব্যবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো হতো। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় বিপাকে পরিবার। এই অবস্থায় মেয়ের খাবারের টাকা যোগাড় করতে পরিবারের সদস্যরা ভিক্ষাবৃত্তি করতে পথে নামে ।

প্রতিদিন গৌরীপুর ও আশেপাশের অঞ্চলের মঙ্গলীকে নিয়ে ভিক্ষবৃত্তি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। দিন শেষে আয় হয় ৭ থেকে ৮শ টাকা। এই টাকা থেকে কেনা হয় মঙ্গলীর নিত্যদিনের খাবার।
মঙ্গলীর মামা জামাল মিয়া বলেন, মঙ্গলীর চিকিৎসার জন্য আমার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। ডাক্তার বলেছেন উন্নত চিকিৎসা করলে ওর মুখ মন্ডল ঠিক করা যাবে। কিন্ত এরজন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের তো এতো টাকা নেই। তাই ভাগ্নিকে বাঁচাতে পথে পথে ঘুরছি।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email