Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

গৌরীপুর জংশন যেনো গোচারণ ভূমি : নিরব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

আপডেটঃ 2:23 pm | October 08, 2019

স্টাফ রির্পোটার
কোথাও গরু বাঁধা রেল লাইনের পাশে। কোথাও গরু বাঁধা রেললাইনের স্লিপারে। কোথাও আবার রশিতে বাঁধা গরু দুই রেললাইনে মাঝে চড়ে বেড়াচ্ছে গরু। ট্রেন আসার হুইসেল শুনলেই আতঙ্কে ছুটাছুটি গরুগুলো। দুর্ঘটনা এড়াতে গরুর মালিক দৌড়ে এসে রশি টেনে গরুকে রেললাইন থেকে সরিয়ে আনেন।

প্রতিদিন ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় এই দৃশ্যের দেখা মিলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে রেলওয়ে জংশন এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৮৬১ সালের ৫ নম্বর আইনের ১২ নম্বর ধারা মোতাবেক রেললাইনের দু’পাশে ১০ ফুট করে এলাকার মধ্যে রেলের কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ কিংবা গবাদিপশুর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওই এলাকায় সব সময়ই ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ওই সীমানার ভেতর কাউকে পাওয়া গেলে আইনের ১০১ ধারায় যে কাউকে গ্রেফতার করা যায়। কিন্তু এই আইন মানা হচ্ছেনা গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর জংশন হয়ে প্রতিদিন তিনটি রুটে প্রতিদিন আন্তঃনগর, কমিউটার, মেইল ও লোকাল ট্রেন সহ ৩২ ট্রেন আসা যাওয়া করে। কিন্ত প্লাটফরমের ট্রেন চলাচলের লাইনে গরু চড়ানো কারণে ট্রেন আসা যাওয়ার সময় যেকোনে মুহূর্তে দুঘর্টনার আশঙ্কা রয়েছে
গতকাল বুধবার বিকালে রেলওয়ে জংশনে গিয়ে দেখা যায় স্টেশনের প্লাটফরম থেকে উত্তর দক্ষিণ পার্শ্বের আউটার সিগন্যাল এলাকা তিনটি রেললাইনের বিভিন্নস্থানে প্রায় ২০ টি গরু রশিতে বেঁধে চড়ানো হচ্ছে। গরুগুলো সব স্টেশন ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের।

বুধবার বিকাল ৫টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা জারিয়াগামী ট্রেনটি স্টেশনের দুই নং লাইনে প্রবেশ করতেই রেললাইনের পাশে বাধ গরুগুলো ছুটাছুটি করতে শুরু করে। দূর থেকে ট্রেন দেখে দৌড়ে এসে নিজের একটি গাভীর রশি টেনে ধরেন গরুর মালিক নূর কাশেম।

রেললাইনে গরু চড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নূর কাশেম বলেন, স্টেশনের রেললাইন এরিয়ায় গরু চড়াতে আমাদের কেউ নিষেধ করেনি। রেললাইনের পাশে ঘাস আছে বলেই গরু চড়াই। ট্রেন আসার শব্দ শোনলে আমরা দুর্ঘটনা এড়াতে গরুর রশি ধরে রাখি।
স্টেশন ঘুরে দেখা যায় প্লাটফরমের মসজিদের সামনে ৩ নং লাইনের পাশে রশি দিয়ে বাঁধা লাল রঙের একটি গরু। বিকাল ৫টার নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি হুইসেল বাজিয়ে গৌরীপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে গরুটি আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করে। এসময়ে ট্রেনে উঠতে গিয়ে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। তবে ওই সময় গরুর মালিককে পাওয়া যায়নি।

গৌরীপুর পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, রেল আইনের প্রয়োগ না থাকায় স্টেশন এলাকায় অবাধে গরু চড়ানো হচ্ছে। শুধু তাই নয় আইন অমান্য করে পথচারীরাও রেললাইনের উপর বসে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ কিংবা জনসচেতনতা বাড়ানোর কোন উদ্যোগ নেই। তাই যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দু রশিদ বলেন, স্টেশনের এলাকার উত্তরে রেললাইনের পাশে স্থানীয়রা অনেক সময় গরু বেঁধে রাখে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email