Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

বাংলাদেশে নারী ফুটবলের জাগরণ চলছে বললেন কলসিন্দুর কন্যা সানজিদা

আপডেটঃ 9:04 pm | October 28, 2019

মোখলেছুর রহমান, গৌরীপুর প্রতিনিধি।
ফুটবল মাঠে তার পায়ের কারুকাজ মুগ্ধ করে সবাইকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দিয়ে গোল উযাপন করেন দুর্দান্ত ভঙ্গিমায়। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ফুটবল পেলেই স্থির থাকতে পারেন না। মেতে উঠেন ফুটবল নিয়ে। সোমবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বেড়াতে এসে শিশু-কিশোর ভক্তদের সাথে ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য সানজিদা আক্তার। খেলা চলে প্রায় আধা ঘন্টার মতো। প্রিয় তারকাকে কাছে পেয়ে খেলার ফাঁকে ফাঁকে চলে ভক্তদের সেলফি উদযাপন।

মাঠে ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ছুটে চলা ফুটবলার সানজিদা আক্তার মাঠের বাইরে অত্যন্ত কোমল। কথা বলেন সহজ সরল ভঙ্গিমায়। তিনি বলেন, জাতীয় দল থেকে ছুটি পেয়ে গৌরীপুরে এক আতœীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। আজ বিকালে এই গৌরীপুর স্টেডিয়ামে এসে দেখি শিশু-কিশোররা মাঠের এক প্রান্তে ফুটবল নিয়ে খেলা করছে। আমাকে দেখেই ওরা হু-হুল্লোড় শুরু করলে আমিও ওদের সাথে ফুটবল নিয়ে মেতে উঠি।
সানজিদার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামে। গ্রামের নানা প্রতিবন্ধকতা ও সামাজিক বিপত্তি পেরিয়ে ফুটবল খেলেই জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে। মাঝ মাঠের খেলোয়ার হিসাবে প্রতিপক্ষের জালে দুর্দান্ত সব গোল করে নিজের প্রতিভা জানান দিয়েছেন অনেক আগেই।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ অনুর্ধ-১৬ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে পড়েছে সানজিদাদের জাতীয় অনূর্ধ ১৬ দল। তাই দেশে ফিরে ছুটি কাটাকে গৌরীপুরে বেড়াতে এসেছেন। তবে ছুটি কাটানো শেষেই পরবর্তী প্রতিযোগিতার আসরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে ক্যাম্পে যোগ দিবেন এই ফুটবলকন্যা।

সানজিদা আক্তার বলেন, ফুটবল দলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আসর থাকায় সময় বের করা হয়না। এবার বাছাই পর্ব শেষে একটু লম্বা ছুটি পেয়েছি, তাই আতœীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি।
খেলাধুলার পাশপাশি ফুটবল কন্যা সানজিদা অধ্যয়ন করছেন কলসিন্দুর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে দ্বিতীয় বর্ষে। তবে পড়াশোনার চেয়ে তার স্বপ্ন বেশি ফুটবলকে ঘিরেই।দেশের পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েরা আগামী দিনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে এমনটাই স্বপ্ন দেখেন তিনি।

সানজিদা আক্তার বলেন, আমরা যখন প্রথম ফুটবল নিয়ে মাঠে নামি তখন গ্রামের লোকজন বিষয়টি বাঁকা চোখে দেখতো। সেদিন বদলে গেছে। এখন আর সেই পরিবেশ নেই। এখন গ্রামের মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করার সাথে পরিবারের লোকজন একটা ফুটবলও কিনে দেয়। ফুটবলের জাগরণ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ এক সময় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে, জিতবেও। সেইদিন খুব দুরে নয়। আমরা সূচনা করেছি। বাছাই পর্বে দুবার খেলেছি।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email