Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

গৌরীপুর ডাকঘরে টাকার জন্য গ্রাহকদের দুর্ভোগ

আপডেটঃ 5:42 pm | November 07, 2019

প্রধান প্রতিবেদক :
সঞ্চয়ের টাকা দিয়েও চিকিৎসা করাতে পারছেন না। জমি ক্রয়ের বিশৃঙ্খলা, সংসারে নানা ঝামেলার কারণও এখন গৌরীপুরের ডাকবিভাগ। কথা বলছিলেন সঞ্চয়পত্রের টাকা উত্তোলন করতে আসা নারী গ্রাহক রোজিনা খাতুন। তিনি জানান, ১০লাখ টাকা পোস্ট অফিসে জমা। ৩বার এসেছি, তাও টাকা তুলতে পারছি না।

এ বক্তব্যের সত্যতাও স্বীকার করেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর ডাকঘরের ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার মোঃ বজলুল হক। তিনি জানান, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ থাকায় টাকায়, টাকার যোগান কমে গেছে। গত জুলাই মাস থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ডাকঘরে টাকা না থাকায় সঞ্চয়পত্র, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সহ বিভিন্ন অ্যাকউন্ট থেকে থেকে গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারছেন না। প্রতিদিন ডাকঘরে দীর্ঘ অপেক্ষার খালি হাতে বাড়ি ফেরায় গ্রাহকদের মাঝে অসেন্তাষ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, লাভের আশায় গ্রাহকরা এখানে সঞ্চয়পত্র সহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট করেন। বিপদগ্রস্থ হলেই গ্রাহকরা নিজেদের নামের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যান। কিন্তু চলতি মাসে টাকা উত্তোলন করতে না পারায় গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে ডাকঘর থেকে জানানো হয়েছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ। তাই আয় একদম তলানিতে ঠেকেছে। এ কারণে সব গ্রাহকের সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না।বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ডাকবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগে চিঠি আদান-প্রদানের কাজ ছিলো ডাক ঘরের আয়ের উৎস। কিন্ত বর্তমানে আয়ের উৎস্য হলো সঞ্চয়পত্র বিক্রি, স্থায়ী আমানত (এফডিআর), সঞ্চয়, ডাক জীবনবিমা, রাজস্ব টিকিট ও ডাকটিকিট বিক্রি। সবচেয়ে বেশি আয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে। কিন্তু ৩১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ থাকায় ডাকঘরের আয় কমে গেছে।

গৌরীপুর ডাকঘরে পরিবার সঞ্চয়পত্র রয়েছে ২হাজার ৭১১জনের, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র রয়েছে ২হাজার ৮৮জনের ও পেনশনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৪৯১জন গ্রাহকের। এছাড়াও স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট আছে গ্রাহকের। নির্দিষ্ট সময়ে এখান থেকে গ্রাহকরা তাদের জমানো ও মুনাফার টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু জুলাই মাস থেকে গৌরীপুর ডাকঘর থেকে গ্রাহকরা তাদের টাকা তুলতে পারছেন না। এমনকি মুনাফার টাকা উত্তোলন করতে গিয়েও হয়রানি হচ্ছেন।
বুধবার গৌরীপুর ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় টাকা উত্তোলনকারী উত্তোলনকারী গ্রাহকদের ভিড়। টাকা না পাওয়ায় বেশ ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত গ্রাহকদের সাথে ডাক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরদের বাক-বিতন্ডা হচ্ছে। এই নিয়ে বেশ বিব্রত কর্মকর্তারাও।

সেবা নিতে আসা গ্রাহক সাইদুর রহমান লিটু বলেন, জরুরী প্রয়োজনে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু পোস্টমস্টার সাহেব আজ না কাল টাকা দিবেন বলে ঘুরাচ্ছেন। কিন্তু টাকা দিচ্ছেন না। সেবার এই নমুনা দেখে আমি হতাশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারী গ্রাহক জানান, পরিবারের চিকিৎসার জন্য জরুরী টাকার প্রয়োজন। পোস্ট অফিসে এসে অনেক টাকার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করলেও টাকা দেয়া হয়নি। বলেছে এক সপ্তাহ পরে এসে যোগাযোগ করতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর ডাকঘরের ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মোঃ বজলুল হক বলেন, গ্রাহকদের টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। গ্রাহকদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email