Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালের ১৪তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৌরীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন

আপডেটঃ 2:13 pm | February 04, 2018

আনোয়ার হোসেন শরীফ, ইমতিয়াজ আহমেদ আরিফ :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালের ১৪তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি/১৮) রাতে ৪১তম বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদির।
বক্তব্য রাখেন বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিব উল্লাহ, প্রেস কাবের কোষাধ্যক্ষ মো. শামীম খান, সাবেক সভাপতি কমল সরকার, বেগ ফারুক আহাম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শাহীন, মো. রইছ উদ্দিন, মশিউর রহমান কাউসার, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান রাজন, আনোয়ার হোসেন শরীফ, ইমতিয়াজ আহমেদ আরিফ প্রমুখ। এ ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে ৭৬২জন জনের চোখ অপারেশনের সুযোগ পান।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদিরের তত্ত্বাবধানে উদ্বোধনী ক্যাম্পে অংশ নেন ডা.মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ রবিউল হাসান, সার্জন ডা. মাসরুফ ওয়াহিদ, মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ হোসেন, ডা. মঞ্জুরুল হাসান, ডা. তাসমেরী খায়রুন নাহার। ২০০৪সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদির ও তারই সহধর্মিণী ডা. মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় নিজ জন্মভূমিতে ২০০৪সনে গড়ে তোলেন এ হাসপাতাল।


ডা. মুকতাদির ১৯৭৭সন থেকে ২০০৩ইং সন পর্যন্ত গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে চু অপারেশন ক্যাম্পে ২৫হাজার ৫শ ৩৫জনের অপারেশন সম্পন্ন করেন। দৈনন্দিন অপারেশন করা হয়েছে ছানি অপারেশন ১৬হাজার ৮শ ৩০০জন, নালি অপারেশন ৪হাজার ১১৮জন, চোখের মাংস বৃদ্ধির অপারেশন ১হাজার ৫৮৯জন, গ্লোকোমার ১হাজার ৯৮৫জন, নেত্রনালির ১হাজার ৮৫৭জন, চোখে পাথর সংযোজন ৬১৮জন, চোখের পাতার অপারেশন ৭২৪জন, গুটি অপারেশন ৪৯৬জন, টিউমার অপারেশন ৫৮৩জন, টেরা চোখ অপারেশন ৭৩জন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে আগত রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশন ও তাদের দৈনিক খাবারের ব্যবস্থাও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আরেক কর্মকর্তা মোঃ আলম খাঁন জানান, বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদিরের বিনামূল্যে এ চিকিৎসা কার্যক্রমের জন্য তিনি ভারতের তিরুচিরাপল্লীতে এ্যাসোসিয়েশন অফ কমিউনিটি অফথ্যালমলোজি ইন ইন্ডিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ্যাওয়ার্ড, ২০০২সালে লায়ন্স এফ্রিসিওয়ান এ্যাওয়ার্ড, ২০০৫সালে এএফএও কর্তৃক ডিসটিংগোয়িং সার্ভিস এ্যাওয়ার্ড, একেদাস এ্যান্ডওমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, ২০১৫সালে ভারতে গোল্ডমেডেলসহ দেশ ও বিদেশে ১৯টি এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গৌরীপুরের সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা ডা. একেএমএ মুকতাদির ২০০৪সনের ২৬মার্চ মাত্র ১০শয্যা নিয়ে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের নয়াপাড়া নিজ গ্রামে যাত্রা শুরু করেন। সময়ের প্রয়োজনে ক্রমে ক্রমে আরও বর্ধিত করা হয় ৩০টি শয্যা। চাহিদার প্রয়োজনে ৪তলা ভবনে নতুনভাবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার কলবরে ১০০শয্যার নতুন হাসপাতালটি এখন মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। হাসপাতালে ভিআইপি রোগীদের জন্য ৩টি এসি কেবিন, ৬টি নন এসি কেবিন, মহিলাদের পৃথক নামাজখানা, রেস্ট রুম, ষ্টাফ ক্যান্টিন, হাসপাতালের আগত রোগী ও আত্মীয় স্বজনের জন্য একটি পৃথক ক্যান্টিন, ডাক্তারদের রেস্ট রুম, ২টি অপারেশন থিয়েটার, মনিটরের মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটারের দৃর্শ্য সরাসরি আত্মীয় স্বজনদের দেখার সুবিধা, প্রতি তলায় আনন্দ বিনোদনের জন্য অপেমান আগতদের জন্য রঙিন টেলিভিশন। সার্বনিক ৩জন মেডিকেল অফিসার রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতি শুক্রবার সার্জিক্যাল টিমের মাধ্যমে ল্যান্স সংযোজন, ছানি অপারেশন ব্যবস্থা। আগত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে ৩২জন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। হাসপাতালে গড়ে তোলা হয়েছে অত্যাধুনিক পরীাগার। হাসপাতালেই ইসিজি, রক্ত পরীা, ডায়াবেটিকস, প্রেসার, বায়োমেট্টি, এসপিটিসহ বিভিন্ন পরীা-নিরীা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এ.কে.এম এ মুকতাদির জানান, জীবনের সমস্ত অর্জন দিয়ে তিলে তিলে এহাসপাতালটি গড়ে তোলেন। দেশের রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে বিদেশী রোগীরাও এক সময় এদেশে আসবে।
৪একর জমির মাঝখানে হাসপাতাল ভবন, সামনে দর্শনার্থীদের জন্য নয়নাভিরাম পার্কের ব্যবস্থা। পাশেই বায়তুল আমান জামে মসজিদ। একটু এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে চোখে জুড়ানো হরিণের পাল। পুরো হাসপাতালে ধাপে ধাপে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দেশী-বিদেশী কাচ, টাইলস, সৌন্দর্যবর্ধন চিত্র।

Print Friendly, PDF & Email