Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

গৌরীপুরে হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ করতে মধ্যরাতে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব-লুটপাট

আপডেটঃ 10:04 pm | February 13, 2018

মো. রইছ উদ্দিন :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দলিত সম্প্রদায়ের হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি/১৮) গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজারের ঋষিপল্লীর মোহন লাল রবিদাসের স্ত্রী জাসিয়া রবিদাস (৬০) জানান, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাংচুরের বিকটে শব্দে জেগে উঠে দেখি, বাড়ির চারপাশে মুখোশপড়া ৩০/৪০জন সন্ত্রাসী। তাদের প্রত্যেকের হাতে দা, লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র। ফেরাতে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। হরি লাল রবিদাসের স্ত্রী শান্তি রানী রবিদাস (৩৪) জানান, সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘর-দরজা ভেঙ্গে দিয়েছে। ঘরের খুঁটিগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এদিকে মোহন লাল রবিদাসের পুত্র সুনিল রবিদাস (৩০) মামলায় উল্লেখ করেন গোবিন্দপুরের আব্দুল কাদিরের পুত্র মো. বিল্লাল হোসেন (২৫), কুল্লাতলী গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র মো. অপু মিয়া (২৪), চল্লিশা কাউরাট গ্রামের মীর হোসেরন পুত্র মো. মাহাবুর রহমান (৩০) ও টিকুরী গ্রামের আহাম্মদ আলীর পুত্র মো. রুবেল মিয়া (২৮) এর নেতৃত্বে রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি/১৮) রাত ২টার দিকে পূর্ববিরোধের জের ধরে রামদা, লোহার রড, দা ও লাঠিসোটাসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা হরি লাল দাসের বসত ঘরের টিন, দরজা, জানালা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। বসতঘরের সিমেন্টের খুঁটি ও টিন লুট করে নিয়ে যায়। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ জানান, মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা ও ঘটনার তদন্ত চলছে। মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ জানান, মোহন লাল রবিদাস একজন গ্রাম পুলিশ। তাকে উচ্ছেদ করতে মধ্যরাতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক। জাসিয়া রবিদাস আরো জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের ছেলেমেয়েরা ঘরের বাহিরে যেতে পারছে না। ভাঙ্গা ক্ষত-বিক্ষত বসতভিটায় পলিথিন টাঙিয়ে দু’দিন ধরে জীবনযাপন করছি।
অপর একটি সূত্র জানায়, ১নং খাস খতিয়ানের সরকারি এ ভূমি ২০০৫-০৬ ও ২০০১-২০০৫অর্থ বৎসরে ৯৪/১২৮ দাগের ১০শতাংশ জমি মোহন লাল রবিদাস লীজ নেন। ভোগদখলসহ ১৭৭নং খতিয়ানের সরকারি পাওয়ানাদিও পরিশোধ করছেন। বাজার সংলগ্ন এ ভূমিটি খাস ভূমি হিসাবে একটি প্রভাবশালী মহল নেয়ার জন্য মইলাকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে। ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনুপ কুমার ঘোষ-ওই প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে মোহন লাল রবিদাসের জমির লীজের কাগজপত্র চান। অভিযোগ রয়েছে অনুপ কুমার ঘোষ প্রচার দেন যে, মোহন লাল রবিদাসের কোন কাগজপত্র নেই। এই সুযোগেই প্রভাবশালী মহল জমি দখলে নিতেই ঋষিপল্লীতে মধ্যরাতে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তবে অনুপ কুমার ঘোষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোহন লাল রবিদাসের জমির কাগজপত্র চেয়েছিলাম, একটু বিলম্বে দিয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী মালিকানাও সঠিক রয়েছে। এদিকে ঋষি পল্লীর এসব জমি দখলে নিতে ইতোপূর্বেও কয়েকবার হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তবে ঋষি পল্লীর প্রায় অর্ধশত পরিবার শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে।

Print Friendly, PDF & Email