Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

নববধূকে হত্যার লোমহর্ষক জবানবন্দি

আপডেটঃ 3:01 pm | March 13, 2018

 নিজস্ব প্রতিবেদক:

কর্মস্থল থেকে গভীর রাতে বাড়ি ফেরে নববিবাহিত অনিক। রাত ১১টায় বাড়িতে এসে স্ত্রীকে রান্না করতে বলে। কিন্তু স্ত্রী রান্না করে স্বামীকে ভাত দেয়নি। না খেয়েই রাত পার করতে হয় অনিককে। সকালে স্বামীর ফোন ছুঁতে চাইলে বাধা দেয় অনিক। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অনিকের বাবা-মা তুলে গালাগাল করায় তা বন্ধ করতে স্ত্রীকে অনুরোধ করে। কিন্তু স্ত্রী সালমা তা না শোনায় মুখ জাপটে ধরে। এতে শ্বাসরোধে মারা যায় সালমা। পরে সালমার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলানো হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে অনিক মিয়া।

রোবববার ময়মনসিংহ ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক নয়ন চন্দ্র মোদকের আদালতে হাজির করা হয় অনিক মিয়াকে। স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে গত বুধবার রাতে অনিক মিয়াকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন অনিকের। স্ত্রী হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার ময়মনসিংহ ৪ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় অনিক।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামের খোকন মৃধার মেয়ে সালমা আক্তার। সালমার সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেম চলে ঈশ্বরগঞ্জের রাজীবপুর ইউনিয়নের ভাটিরচর নওপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে অনিক মিয়ার। পরিবারের অমতে সালমা ঘর ছাড়ে অনিকের হাত ধরে। বিয়ের দেড় মাসের মাথায় ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর সালমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় আত্মহত্যা করেছে প্রচারণা চালালে অপমৃত্যু মামলা হয়। কিন্তু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গত বুধবার পুলিশের হাতে এলে জানা যায়, আত্মহত্যা নয় হত্যা করা হয়েছে সালমাকে। ওই অবস্থায় সালমার বাবা বাদী হয়ে অনিক মিয়াসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অনিক মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সজীব ঘোষ বলেন, কথা না শোনায় স্ত্রী শ্বাসরোধে হত্যা করে অনিক। তারপর লাশটি ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচারণা চালায়। রোববার আদালতে হত্যার স্বীকারোক্তি দিলে বিচারক অনিককে কারাগারে পাঠান।

Print Friendly, PDF & Email