Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

তিন বাড়িতে ভাঙচুর-হামলা, আ.লীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটঃ 7:43 pm | April 18, 2018

রাকিবুল ইসলাম রাকিব:
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তিনটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ সহযোগী সংগঠনের  নাম উল্লেখ ১৯জন নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।  বুধবার ভাঙচুরের শিকার ভুক্তভোগী দুলাল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে অতিথি না কারায় তাঁর সমর্থকেরা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তবে ভাঙচুরের শিকার হওয়া আরেক ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানিয়েছেন মেয়রকে অতিথি করা হয়নি বলে বাড়িঘরে হামলা হয়েছে এমন অভিযোগ সত্য নয়। স্থানীয় দ্বন্দের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখানো মেয়রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এজাহারে মেয়রের নাম নেতারা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন চকপাড়া এলাকায় স্থানীয় সংগঠন ‘ওরা ১১জনে’র ব্যানারে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া, জামাল হোসেন ও কামাল হোসেন নামের তিন ব্যক্তি ওই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহম্পাদক মোর্শেদুজ্জামান সেলিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সানাউল হক, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান সহ দলীয় অনেক নেতা-কর্মীকে অতিথি করা হয়। এদিকে অনুষ্ঠান আয়োজনের পর থেকে প্রতিবেশী আব্দুল হান্নানের সাথে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কামাল হোসেনের বিরোধ হয়। এরপর থেকে হান্নান পথে-ঘাটে কামালকে কটূক্তি করে বলতো-“বড় নেতারারের খাওয়াইয়্যা কি ত্ইু বড় নেতা সাইজ্যা গেছেস”। এই কটূক্তির জের ধরে গত সোমবার সকালে হান্নানের সাথে কামালের হাতা-হাতি ও বাক-বিতন্ডা হয়। পরে ওই ঘটনার জের ধরে ওই দিন দুপুরে হান্নান ও তার দলবল কামাল, জামাল ও দুলালের বাড়িতে দুই দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালায়। এসময় দু পক্ষের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে গতকাল বুধবার গৌরীপুর থানায় মামলা হয়।

আব্দুল হান্নান বলেন, বৈশাখের অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। জামাল, কামাল ও দুলাল মাদক ব্যবসা করে। আমি তাঁদের এই ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তাঁরা আমাকে মারধর করে। পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আমি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী দুলাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের নববর্ষে আমি ইচ্ছাকৃত ভাবেই কোন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়নি। যাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে তাঁরা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসার বিরোধের কারণে ভাঙচুর হতে পারে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহমদ মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়রকে অতিথি না করায় হামলা করা হয়েছে বলে মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মূহুর্তে আসামিদের নাম বলা যাচ্ছে না।

Print Friendly, PDF & Email