Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

বজ্রপাতে করণীয় ও পালনীয় বিষয়

আপডেটঃ 8:43 pm | April 30, 2018

বাহাদুর ডেস্ক:

আমাদের দেশে মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রসহ ঝড় হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে গড়ে দুই থেকে তিনশ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এ বিষয়টির কথা চিন্তা করেই আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে BMD Weather App নামে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বজ্রপাতের অন্তত ২/৩ ঘন্টা আগে পূর্বাভাস পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে অ্যাপসটি মোবাইল ফোনে ইন্সটল করলে যেসব জেলায় বজ্রপাত হওয়ার আশংকা রয়েছে সেখানে Thunderstorm লেখা থাকবে।

এছাড়াও ১০৯৪১ নম্বরে ফোন করে বজ্রপাতের ৫/৬ ঘন্টা আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বজ্রপাতের তথ্য পাওয়া যাবে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা জনমনে বড় ধরণের শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জনসচেতনতা তৈরিতে কিছু করণীয় ও পালনীয় বিষয় নির্ধারণ করেছে।

জনস্বার্থে সংযুক্ত সতর্কতামূলক বার্তাটি নিম্নরূপ :

বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে নিজে জানুন, অন্যকে জানান।

* এপ্রিল-জুন মাসে বজ্রবৃষ্টি বেশি হয়, বজ্রপাতের সময়সীমা সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এসময়টুকু ঘরে অবস্থান করুন।

* ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে ঘর থেকে বের হবেন না, অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পড়ে বাইরে বের হতে পারেন।

* বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, খোলা মাঠ অথবা উঁচু স্থানে থাকবেন না।

* বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলা মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি পায়ের আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকুন।

* যতদ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। টিনের চালা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

* উঁচু গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার বা ধাতব খুটি, মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে
থাকুন।

* কালো মেঘ দেখা দিলে নদী, পুকুর, ডোবা বা জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।

* বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না, সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

* বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি ও বারান্দায় থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।

* বজ্রপাতের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন, টিভি, ফ্রিজসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং এগুলো বন্ধ রাখুন।

* বজ্রপাতের সময় ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করবেন না। জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন।

* বজ্রপাতের সময় শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেরাও বিরত থাকুন।

* বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে যাবেন না, তবে এসময় সমুদ্র বা নদীতে থাকলে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।

* বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। প্রতিটি বিল্ডিং-এ বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন।

* খোলাস্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।

* কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

* বজ্রপাতে কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মত করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। বজ্র আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও স্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

* আর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে অধিক সংখ্যক তালগাছই বজ্রপাতের পরিমাণ কমাতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমার থাইল্যান্ড এর সফলতা পাওয়া গেছে সুতরাং বেশি করে তাল গাছ লাগাতে হবে আর সতর্ক থাকতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email