Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

গৌরীপুরে এলেন না ডক্টর মঈন খান-ইফতার অনুষ্ঠান স্থগিত! ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল গ্রুপের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বাঁধা-মঞ্চ ভাংচুরের অভিযোগ

আপডেটঃ 12:24 am | June 04, 2018

স্টাফ রির্পোটার :
বিএনপিতে গৌরীপুরে অভ্যন্তরীন কোন কোন্দল নেই। পুলিশের বাঁধা ও মঞ্চ ভাংচুর, নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চেষ্টার কারণেই বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৩ জুন/১৮) আলোচনা সভা, ইফতার ও গণভোজের অনুষ্ঠান পালন করতে পারেনি বিএনপি। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন ময়মনসিংহ প্রেসকাবে রোববার (৩ জুন/১৮) এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আনেন। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান স্বৈরাচার সরকার মানুষের জন্য একটু ইফতার ও আলোচনা সভাও করতে দেয়নি। এই অনুষ্ঠানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর মঈন খান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শরাফ উদ্দিন খান পাঠান ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল হক বক্তব্য রাখেন।
এ দিকে বোকাইনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ গৌরীপুর প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ‘দেশের গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে বিনা উস্কানীতে পুলিশী বাঁধায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পন্ড হয়ে যায়।’ পরবর্তীতে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সরজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ প্রেসকাবে ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরা দলীয় কোন কোন্দল নেই বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন! ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ গ্রুপের কাছে দফায় দফায় ধরাশায়ী হয়েছেন ইকবাল গ্রুপ।
সর্বশেষ এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মতবিনিময় অনুষ্ঠানেও হামলা-ভাংচুরের শিকার হন ইকবাল গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার (৩১ মে/১৮) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের ধানমহালে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন গ্রুপের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ গ্রুপের লোকজনের হামলা-ভাংচুরের শিকার হন। হামলায় ইকবাল গ্রুপের পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ আহতও হন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ দিকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর মঈন খানের আগমনকে ঘিরে গৌরীপুরে শনিবার থেকেও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রেজভী’র স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় বিগত উপজেলা নির্বাচনের সময় ইঞ্জিনিয়ার এম.ইকবাল হোসাইন বরখাস্ত হন। এমন আরো একটি প্রতারণা জন্ম দিয়েছেন উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ জানান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর মঈন খানকে না জানিয়েই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব, সংঘাত সৃষ্টির জন্যই ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল সাংগঠনিক ব্যানার ব্যবহারের চেষ্টা করছে। মঈন খান আমাদের নিশ্চিত করেছেন তিনি কোন সাংগঠনিক ব্যানারের অনুষ্ঠানে আসবেন না।
এ বিষয়ে রোববার রাতে উপজেলা বিএনপির রিয়াদুজ্জামান রিয়াদের ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে ডক্টর মঈন খান জানান তিনি গৌরীপুরে আসবেন ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের বাড়িতে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে। ভিডিও’র বক্তব্য ও ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল গ্রুপের আয়োজন নিয়ে এবার বিএনপি’র নেতাকর্মী ও প্রশাসনের মাঝে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়।
এ দিকে প্রশাসনকে না জানিয়ে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গৌরীপুর পৌর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদকে আটক করে পুলিশ।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ জানান, এটা দলীয় প্রোগ্রাম ডক্টর মঈন খান এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে থাকার কথা ছিলো। পুলিশের বাঁধার কারণে আমরা অনুষ্ঠান করতে দেয়নি।
এ দিকে রিয়াদুজ্জামান রিয়াদের ফেসবুকে দেয়া ভিডিও ও ছবিতে অসংখ্য শেয়ার, মন্তব্য ও লাইক পড়েছে। তার কমেন্ট বক্সে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান আকন্দ সুমন লিখেছেন ‘ইকবাল গৌরীপুরের রাজনীতে একটা কুলাঙ্গার এবং প্রতারক একে জনগন জুতাপিটা করবে ৩ তারিখ।’ মতবিনিময় অনুষ্ঠানেই হামলা ও ফেসবুকে ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর হুশিয়ারীতে সংঘর্ষের আশংকা ছিলো, ছিলো আতঙ্কও।
তবে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ জানান, গৌরীপুর ঈদগাহে বিএনপির অনুষ্ঠান করার জন্য কেউ কোন অনুমতি নেয়নি। তবে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দাবী তারা প্রশাসনকে অবহিত করেই অনুষ্ঠান আয়োজন করছিলেন।
২৯ মে গৌরীপুর পৌরসভার মেয়রের নিকট থেকে ‘ইফতার মাহফিল করার জন্য ঈদগাহ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি’ চান ইফতার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ। এ অনুমতিপত্র সংযোজন করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ‘অবগতি করণ’ বিষয়ক পত্র দেন তিনি।
তবে অবগতি করণ পত্র, ঈদগাহ মাঠ ব্যবহারের অনুমতিপত্র ও সাংবাদিকদের নিকট দু’দফা সংবাদ সম্মেলনে দেয়া প্রেসরিলিজে কোথাও ‘ডক্টর মঈন খান’ এ অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ নেই। ‘প্রধান অতিথি ডক্টর মঈন খান’ ধু¤্রজালেই রয়ে গেলো।

Print Friendly, PDF & Email