Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

প্রাকৃতিক গ্যাস ২০১৯ সালেই শীর্ষ আমদানিকারক হচ্ছে চীন

আপডেটঃ 6:43 pm | June 30, 2018

বাহাদুর ডেস্ক:

প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীন। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ২০২৩ সাল নাগাদ দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। নিজস্ব উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করে চীন। আগামী দিনগুলোয় অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধির জের ধরে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি এখনকার তুলনায় আরো বাড়বে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে দেশটি। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) বার্ষিক ‘গ্যাস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স ও ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউন।

আইইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতকের শুরু থেকে চীনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে তেজিভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার ঘনমিটারের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। আগামী দিনগুলোয়ও চীনে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহারে তেজিভাব বজায় থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক গড় ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ৩৭ হাজার ৬০০ কোটি ঘনমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে বেইজিং। প্রধানত পাইপলাইনযোগে (গ্যাসীয় অবস্থায়) প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে চীনে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা হয়। এছাড়া দেশটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমুদ্রপথে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য ২০১৭ সালে চীনা আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে দৈনিক ৫ হাজার ১০০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি আমদানি করেছিল। অভ্যন্তরীণ চাহিদার বাকি প্রাকৃতিক গ্যাস নিজস্ব কূপগুলো থেকে উত্তোলন ও গ্যাসীয় অবস্থায় আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ দেশটিতে এলএনজির দৈনিক গড় আমদানি ৯ হাজার ৩০০ কোটি ঘনমিটারে পৌঁছে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আইইএ।

চীনের অর্থনীতির গতি যত ত্বরান্বিত হচ্ছে, দেশটিতে জ্বালানি পণ্যের ব্যবহারও ততই বাড়ছে। বিশেষত দেশটির শিল্প উৎপাদন ও গৃহস্থালি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আগে দেশটিতে জ্বালানি হিসেবে কয়লার  ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় ছিল। তুলনামূলক সস্তা হওয়ার কারণে মানুষ বেশি বেশি কয়লা ব্যবহার করত। বর্তমানে পরিবেশ সুরক্ষা ইস্যুতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়ে যাওয়ায় কয়লার ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। তুলনামূলক সস্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হওয়ায় মানুষ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার ঝুঁকছে। এ কারণে দেশটির বাজারে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এ চাপ সামাল দিতে বাড়ানো হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিও। জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বৃদ্ধির বর্তমান হার বজায় থাকলে আগামী বছরই বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশের স্বীকৃতি পাবে চীন।

ব্যবহার ও আমদানি বৃদ্ধির জের ধরে চীনে প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণের সুবিধা বাড়ানো জরুরি বলে ইআইএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে সাকল্যে ১ হাজার কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে, যা জ্বালানি পণ্যটির অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের মাত্র ৫ শতাংশ। জার্মানি ও ইতালিও আমদানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে। জার্মানিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের ব্যবস্থা আছে। আর ইতালিতে এর পরিমাণ ৩৩ শতাংশ।

এদিকে ২০২৩ সাল নাগাদ প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক উত্তোলন বর্তমানের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে বছরে ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি ঘনমিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। এ সময় এলএনজির বৈশ্বিক ব্যবহার ও বেচাকেনা রেকর্ড পরিমাণ বাড়বে। আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী এলএনজির বেচাকেনা দাঁড়াবে বছরে ৫০ হাজার ৫০০ কোটি ঘনমিটারে। এর ৬০ শতাংশই সম্মিলিতভাবে জোগান দেবে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। এ সময় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ কাতার বছরে ১০ হাজার ৫০০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি জোগান দেবে। তালিকায় পরের অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া যথাক্রমে ১০ হাজার ১০০ কোটি ঘনমিটার ও ৯ হাজার ৮০০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি জোগান দেবে।

Print Friendly, PDF & Email