Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ঈশ্বরগঞ্জের নিহতের পরিবারকে অটো কিনে দিয়ে আবারো মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এসপি নুরুল ইসলাম

আপডেটঃ 12:54 pm | July 12, 2018

এম এ আজিজ ॥

আবারো প্রমাণ করলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ পুলিশে মানবতার এক উজ্জল প্রতীক। জেলার ঈশ্বরগঞ্জের অটো চালক ফারুক হত্যাকান্ডের ঘটনায় অসহায় ফারুকের পরিবারটিকে কোন রকমে বাচিয়ে রাখতে নিজ অর্থায়নে একটি ব্যাটারী চালিত অটো প্রদান করে সহায়তা করলেন। গতকাল বিকালে পুলিশ সুপার নিহত ফারুকের অসহায় মা, স্ত্রী ও অবুঝ সন্তানদের হাতে এ াটো তুলে দেন। এ সময় জেলা ও ডিবি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

দশের লাঠি একের বোঝা, প্রবাদটির মর্ম কথা সব সময় মনেপ্রানে বিশ্বাস করে মানবতার প্রশ্নে একের পর এক অসহায় ও তিগ্রস্থদের সহায়তা করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মধ্যমণি, মানবিক গুলাবলীর অধিকারী সুযোগ্য পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বিপিএম(বার) পিপিএম। গুনী এ পুলিশ সুপার ঈশ্বরগঞ্জে ভূমিখোকোদের কাছ থেকে অসহায় বৃদ্ধা নারীর বসতভিটা উদ্ধার করে নিজ অর্থায়নে গৃহ নির্মাণ, ফুলপুরে অটো চালকের অটো চুরির পর গ্যারেজ মালিকের সহায়তায় তিগ্রস্থ অটো চালকের হাতে নতুন অটো ফেরত প্রদানসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য করে তোলা। যা ময়মনসিংহসহ আশপাশ এলাকায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সম হয়েছেন এ গুনী পুলিশ অফিসার।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, ময়মনসিসংহ জেলার ইশ্বরগঞ্জের উচাখিলা এলাকার জনৈক ফারুক (৩৫) ঋণ কর্জ করে করে একটি ব্যাটারী চালিত অটো কিনেন। ফারুক স্থানীয় এলাকায় ব্যাটারী চালিত ঐ অটো চালিয়ে স্ত্রীসহ তিনটি শিশু বাচ্চা ও বৃদ্ধ অসুস্থ মাকে নিয়ে কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। প্রতিদিনের ন্যায় জীবিকার তাগিদে গত ১০ এপ্রিল তার অটো নিয়ে জীবিকার তাগিদে বের হন। অজ্ঞাতনামা কতক দৃর্বত্তরা অটো চালক ফারুকে হত্যা করে অটোটি লুটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে নিহতের বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী সালমা খাতুন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে ফারুক হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন। তিন শিশু সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রমসহ তিনবেলা পেটে কিভারে ভাত দিবে সে চিন্তায় বৃদ্ধা মা ও বিধবা স্ত্রী বারবার মুর্ছা যাচ্ছে।
অপরদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পারুক হত্যাকান্ডে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে। ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান ও এলআইসি বিভাগের প্রধান এসআই পরিমল চন্দ্র দাস জানান, অতিদ্রুততম সময়ে এ হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারসহ মামলার রহস্য উদঘাটনে সম হবে।
এদিকে নিহত ফারুকের পরিবারের বিকল্প আয়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বৃদ্ধা মা, বিধবা স্ত্রী তাদের তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে জেলা পুলিশের কর্ণধার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম একজন মানবিক ব্যাক্তিত্ব হওয়ায় এবং তার অতীত মানবতার চিন্তা করে ডিবির ওসি আশিকুর রহমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়ান। এ অসহায় পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা মানবিক পুলিশ সুপারের কানে পৌছার পরপরই পুলিশ সুপারের নেতৃৃত্বে ডিবির ওসি আশিকুর রহমান ও ডিবির অন্যান্য অফিসার ফোর্সদের সমন্বয়ে নিজেদের মাঝে টাকা উত্তোলন করে একটি অটো কিনেন। পুলিশের টাকায় কেনা অটো নিহত ফারুকের অসহায় বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সালমা ইসলামের কাছে গতকাল মঙ্গলবার হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ সময় নিহত ফারুকের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও শিশু সন্তানরা উপস্থিত থেকে দুহাত পেতে আলার কাছে প্রার্থনা করেন। এ নিহতের মা ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এক পর্যায়ে মানবিক গুনে গুনানিত পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামও আবেগে আপুত হয়ে পড়েন।

Print Friendly, PDF & Email