Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

জিতু বিতু ইতুর তুলকালাম

আপডেটঃ 8:37 pm | July 20, 2018

সেলিম আল রাজ
আমিন বলে মোনাজাত শেষ করলেন আঞ্জুমান আরা বেগম। বেশ কিছুদিন ধরে ভীষণ যন্ত্রণায় রয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ উন্মাদনার যে ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীতে তার সবচেয়ে বেশি উত্তাল ঢেউ এসে লেগেছে তাঁর ঘরে। স্বামী আতাউল ইসলাম চাকুরীজীবী। আঞ্জুমান আরা বেগম গৃহিণী। জিতু বিতু ও ইতুকে নিয়ে তার দিন কাটে। জিতু বিতু যমজ। ইতু দুই জনের ছোট। তিনজনই খুব দুরন্ত প্রকৃতির।
বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বেই তারা পাল্টে দিয়েছে বাসার চেহারা। ছাদে পতপত করে উড়ে তাদের প্রিয় দলের পতাকা। নিজেদের হাতে, মুখে, শরীরে ট্যাটু। পড়ার টেবিলে, দেয়ালে যেখানে খালি জায়গা সেখানেই পাল্টাপাল্টি করে চলে তাদের পছন্দের দল, খেলোয়াড়ের ছবি, স্টিকার, ফিকচার লাগানো কাজ। এক কথায় আঞ্জুমান আরা বেগমের সাজানো গুছানো ঘরটা ফুটবল জাদুঘরে পরিণত হয়েছে।
জিতু খেলাধুলার বিচিত্রা নিয়ে গবেষণায় মরিয়া। সব তথ্য তার নখদর্পে। বিতুও বসে নেই। দিনরাত পত্রিকা নিয়ে ঘাটাঘাটিতে ব্যস্ত। ইতু তার জোট বাড়ানোর জন্য ফন্দি আটে। মজার মজার কথা ভেবে লাফিয়ে পড়ে খাটে। সাথে একটা ডিকবাজি খেতেও ভুল হয় না তার। তারা এসবেই ক্লান্ত নয়। প্রত্যেকেই নিজেদের বন্ধু-বান্ধবের সমর্থন আদায়ের আশায় প্রচারণা, ফরম বিতরণ, ফেস্টুন, ব্যাঙ্গাত্মক ছবি, অতীত কিচ্ছা কাহিনী, আর কত কী!
প্রথম খেলা থেকে তাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ মুষ্টিযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বাড়ির সর্বত্র যুদ্ধক্ষেত্র। কথায় কথায় হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি। তাদের নিয়ে আর পারেন না আঞ্জুমান আরা বেগম। রাগান্বিত হয়ে উচ্চ স্বরে ধমক দেয়। ধমকে একদম চুপ জিতু বিতু ও ইতু। কিছুক্ষণ পর আবার ওরা ওদের মতো।
ঘরে টিভি রেখে ছুটে চলে বড় পর্দায়। আনন্দ উল্লাস উদ্দীপনায় ভাসে সবাই। খেলা শেষে একজন খিলখিলে হাসে আরেকজন চোখের জলে বুক ভাসায়। অন্যজন দর্শক। হাত তালি দেয়, ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়, ম্যাসেঞ্জারে ক্ষ্যাপায়। এই নিয়ে মধ্যরাতে তাদের মধ্যে তুলকালাম। বেশ কয়েকদিন চলল এ দৃশ্য। ইতোমধ্যে একে একে তিনজনেরই প্রিয় দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল। তাদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন আঞ্জুমান আরা বেগম। যতই খেলা ফাইনালের দিকে এগুছে তারাও ফুটবলের প্রকৃত সম্প্রীতি, ছন্দ, আনন্দ উপভোগ করতে লাগলো। আতাউল সাহেবও ছুটিতে বাড়িতে এলেন। বাবাকে পেয়ে বিশ্বকাপের আনন্দ আরো বেড়ে গেল তাদের। কাঙিক্ষত ফাইনাল খেলায় তারাও বিমোহিত

Print Friendly, PDF & Email