Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

৭ লাখ মানুষের জন্য ২জন চিকিৎসক

আপডেটঃ 11:39 pm | July 20, 2018

রফিক বিশ্বাস, তারাকান্দা(ময়মনসিংহ)থেকে ।
ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা। ২জন ডাক্তার রয়েছে । ফলে  সরকারী সুযোগ সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে  দুই উপজেলার বাসিন্দারা। প্রতিদিন শত শত রোগীর চাপে ডাক্তাররাও অতিষ্ঠ। সময় মতো খেতে-ঘুমোতে পারছেন না। মানবিক কারণেই পারছেন না বিশ্রাম নিতে। জানা যায়, ২০১৪ সালে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন মেডিকেল অফিসার ছিলেন। গত ৪ বছরে তা কমে এখন মাত্র ২জন দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ওই অসুস্থ্য হাসপাতাল। এই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রাণেশ চন্দ্র প-িত বলেন, আমি ২০১৪ সনে এই হাসপাতালে যোগদান করি। তখন এতে ৩০ জন মেডিকেল অফিসার ছিলেন। তারপর ওই বছরই কয়েকজন সিনিয়র ডাক্তার বদলি হয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান। এরপর ছিল ২৩ জন। ওই ২৩ জন মেডিকেল অফিসার টানা ২ বছর কর্মরত থাকার পর সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক গ্রামের হাসপাতালে থাকার নির্দেশ দেন। এরপর তারা তাদের পছন্দমত মেডিকেল কলেজে ট্রেনিং ও উচ্চ শিা গ্রহণের জন্য কেউ কেউ নিজের এলাকায় অথবা বাসার নিকটবর্তী হাসপাতালে বদলি হন। এভাবে বদলি হতে হতে গত ২০১৭ পর্যন্ত কর্মরত মেডিকেল অফিসারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ জনে। আর এ বছর দুই উপজেলার চিকিৎসাসেবার জন্য এখন ডাক্তার রয়েছেন মাত্র দুই জন। চলতি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই ছয়জনের একজনকে খালিয়াজুড়ি বদলি করা হয়।
আরেকজনকে গত সপ্তাহে বিভাগীয় অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ১৭ জুলাই আরেকজন উচ্চতর শিা (কোর্স) গ্রহণের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে বদলি হন। এখন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রাণেশ চন্দ্র প-িতসহ ১৮ জুলাই থেকে ৩ জন ডাক্তার থাকলেও প্রাণেশকে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও নানা ধরনের ট্রেনিং পরিচালনাসহ অফিসিয়াল বিভিন্ন কার্যক্রমে বাহিরে সময় দিতে হয়। ফলে ডাক্তার জাকির হোসেন ও ডাক্তার লতিফুল আলম খান এই দুইজন ডাক্তার দিয়ে চলছে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার ৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা। এ প্রতিনিধির কাছে প্রশ্ন রেখে ডাক্তার প্রাণেশ বলেন, দুইজন ডাক্তার দিয়ে দুই উপজেলার শত শত মানুষের চাপ সামলানো কিভাবে সম্ভব, বলুন? ৩০ জনের স্থলে মাত্র ২জন! হাসপাতাল নিজেই এখন অসুস্থ্য। ফলে সামান্য কোন জটিল রোগী আসলেই সোজা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। এতে রোগীরা শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আব্দুল বারির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর চেয়ে বেশি আমাদের কিছু করার নেই। সরকার যে পরিমাণ ডাক্তার আমাদের দিয়েছেন আমরা তা দিয়েই চালাচ্ছি। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা বাবু পরিমল চন্দ্রপাল এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মোবাইল ফোন রিসিপ না করায়  কথা বলা সম্ভব হয়নি।
Print Friendly, PDF & Email