Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

ব্রেকিং নিউজঃ

৯ বছর পর বিদেশে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

আপডেটঃ 3:33 pm | July 29, 2018

বাহাদুর ডেস্ক:

মাশরাফি বিন মুর্তজার অপ্রকাশিত কথাটা তাহলে এবার বলাই যায়। পরশু যখন অধিনায়ককে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড, তা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ এখানে এসেছিল ধবলধোলাই করতে, ২০১৪ সালে সেটি ঠেকাতে। এবার?

‘এবার আমরা জিতব’—না লেখার শর্তে বলেছিলেন মাশরাফি। কিন্তু এখন নিশ্চয়ই তাঁর আর আপত্তি নেই! বাংলাদেশ জিতেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়ে সেন্ট কিটসে আবারও বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে। বিদেশের মাটিতে নয় বছর পর পেয়েছে সিরিজ জয়ের স্বাদ। চোখজুড়ানো, মনকাড়া এই সেন্ট কিটসকে বাংলাদেশ ভুলবে কী করে!

১২ বলে দরকার ছিল ৩৪ রান। অবশ্যই কঠিন সমীকরণ। কিন্তু বোলিংয়ে রুবেল হোসেন এলেন বলেই বাংলাদেশ দলে শঙ্কার স্রোত। ডেথ ওভারে যেভাবে ডুবাচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলের পেসার, তাঁর বাজে বোলিং আজ আবার ক্যারিবীয় সাগরে না ডোবে বাংলাদেশ! রুবেল হতাশ করেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ যতটা রোমাঞ্চকর করে তুলেছিল, রুবেল সেটিতে বেশি দূর এগিয়ে নিতে দেননি। ৪৯তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে সমীকরণটা ভীষণ কঠিন করে তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর সতীর্থরা সবাই দৌড়ে এসে বাহাবা দিলেন রুবেলকে। যেন ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে গেছে ওই ওভারেই! শেষ দিকে ঝড় তোলা রোভমান পাওয়েলের তাই অসহায়ভাবে দলের হার দেখা ছাড়া উপায় ছিল না।

ওয়ার্নার পার্কের উইকেট যতই ব্যাটিংস্বর্গ হোক, এ মাঠে কখনো ৩০০ তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। সর্বোচ্চ ২৬৬ তাড়া করে রেকর্ড আছে, সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের (২০১৬ সালের জুনে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। কাল পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই খেলতে নেমেছিল উইন্ডিজ। ক্রিস গেইল-এভিন লুইস তাদের শুরুটাও ভালো এনে দিয়েছেন। ভুগতে থাকা লুইসকে (১৩) মাশরাফি ফেরালেও গেইল ভালো চেষ্টাই করেছেন। জ্যামাইকান ওপেনার উইকেটে থাকলে বড় বিপদ হবে, সেটি সতীর্থদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন অধিনায়ক। অধিনায়কের কথার মর্মার্থ অনুধাবন করে এগিয়ে এলেন রুবেল। লং অনে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন ৬৬ বলে ৭৩ করা বিস্ফোরক গেইলকে।

গেইল আউট হলেও উইন্ডিজের ‘হোপ’ হয়ে ছিলেন শাই হোপ। গেইলকে আউট করে যতটা প্রশংসা পেয়েছিলেন, রুবেল সেটি হারাতে বসছিলেন ৩২তম ওভারে হোপের ক্যাচটা হাতছাড়া করে। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের রান তখন ৩৬। শেষমেশ মাশরাফিই দায়িত্ব নিলেন ৬৪ রান করা হোপকে ফেরানোর।

তামিমের শতক বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করেছে। ছবি: এএফপি

তামিমের শতক বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করেছে। ছবি: এএফপি

হোপকে আউট করে বাংলাদেশ যখন জেতার আশা করছে, ৩৮তম ওভারে সাব্বির রহমান করে বসলেন আরেক ভুল। সময়টা তাঁর এতই বাজে যাচ্ছে, দলের দুর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাব্বির এখন ক্যাচও হাতছাড়া করছেন। পাওয়ালের ক্যাচটা যখন লং অনে হাতছাড়া করলেন, ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের রান মাত্র ২।

এই পাওয়েলই শেষ দিকে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের কাছে। ক্যারিবীয় লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান যেন ‘টার্গেট’ করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমানকে। যে চারটি ছক্কা মেরেছেন, প্রতিটি মোস্তাফিজের বলে। শেষ পর্যন্ত পারেননি পাওয়েল। ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানরেট যে বেড়েছে, সেটি আর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা নাগালে আনতে পারেনি। বৃথাই গেছে পাওয়েলের ৪১ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংসটা।

পাওয়েল নন, দিনটা ছিল তামিম ইকবালের। এ ম্যাচ থেকে যত রেকর্ড করা সম্ভব, তার প্রায় সবই করেছেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার। তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সফরকারী দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল ড্যারেন লেম্যানের (২০৫)। আগের দুই ম্যাচে ১৮৪ রান করা তামিম সেটা করে ফেলেছেন ইনিংসের দশম ওভারেই।

রেকর্ডের আগের বলেই উদ্বোধনী সঙ্গীকে হারিয়েছেন তামিম। ১০ রান করে যখন আউট হচ্ছেন এনামুল, বল খেলেছেন ৩১টি! এনামুলের বিদায়ের পর দায়িত্বটা সিরিজে তৃতীয়বারের মতো এসে পড়ল তামিম-সাকিব জুটির ওপর। সে দায়িত্বটা দুজন ভালোভাবেই বুঝে নিয়েছেন। তামিম আগের দুই ম্যাচের মতোই ধীরে-সুস্থে ইনিংস গুছিয়েছেন। অন্য প্রান্তে সাকিব যে খুব একটা ঝড় তুলেছেন তা নয়, তবে স্ট্রাইক রোটেট করেই প্রায় বলপ্রতি রান নিয়ে এগিয়েছেন। চিত্রনাট্যটা কেন যেন তাই আগের ম্যাচগুলোর মতোই হলো। ক্রমে চেপে বসা দ্রুত রান তোলার চাপ সরাতে গিয়ে ৩৭ রানে ফিরে গেছেন সাকিব। ৮১ রানে থামে দ্বিতীয় উইকেট জুটি। আগের দুই ম্যাচের ফর্মটা এ ম্যাচে টেনে আনতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। দলকে দেড় শ পার করে ফিরে গেছেন মুশফিকও (১২)।

সেন্ট কিটসে সিরিজ জেতার পর বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

সেন্ট কিটসে সিরিজ জেতার পর বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

সঙ্গীদের আসা-যাওয়ার এমন তাড়াহুড়াতেও তামিম ধীরস্থির হয়ে এগিয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ উইকেটে আসার পর রান তোলার গতিও বেড়েছে। ৩৯তম ওভারের মধ্যেই দুই শ ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারের ঝড় তোলার অপেক্ষা তখন। একে এক প্রান্তে ভালো ব্যাট করছেন মাহমুদউল্লাহ, অন্যদিকে এরই মাঝে ওয়ানডেতে ১১তম সেঞ্চুরি করে ফেলা তামিম। দলের দুই শ ছোঁয়ার পরের বলেই বিদায় নিলেন তামিম। ৭ চার ও ২ ছক্কার ইনিংসটি থেমে গেল ১২৪ বলে।

আগের দুই ম্যাচের কথা মানলে এখানেই থেমে যেতে পারত বাংলাদেশের ইনিংসের গল্প। কিন্তু সাব্বির-মোসাদ্দেককে বসিয়ে রেখে মাশরাফি নেমে গেলেন ব্যাট হাতে। সেটাই শেষ ১০ ওভারের রূপটা বদলে দিল। ২৫ বলে ৩৬ রান করলেন অধিনায়ক। ৭ ওভারে ৫৩ রানের জুটিটা মাহমুদউল্লাহকে এনে দিল শেষের ঝড় তোলার দারুণ এক ভিত্তি। শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশ তুলল ৪৮ রান। এর মাঝে ৪৯তম ওভারেই এল ১৯ রান। সাব্বিরের টানা দুই চারের পর শেষ দুই বলে ১ ছক্কা ও ১ চারে স্কোরকে ২৮৯ রানে নিয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারে মোসাদ্দেকের চারেই রেকর্ডটা হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের (২৯২) রেকর্ডটি পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ।

দলকে তিন শ পার করে তবেই মাঠ ছেড়েছেন মোসাদ্দেক (১১) ও মাহমুদউল্লাহ। কৃতিত্বটা অবশ্য মাহমুদউল্লাহরই বেশি। ৪৯ বলে ৬৭ রান তোলার পথে মেরেছেন ৫ চার ও ৩ ছক্কা। এর মাঝে দ্বিতীয় লং অন দিয়ে বল-হারানো ছক্কাতেই তুলে নিয়েছেন ৪৪ বলের ফিফটি। ওয়ার্নার পার্ককে এখন ‘প্রিয়’ মাঠ বললে আপত্তি করবেন না মাহমুদউল্লাহ। ২০০৯ সালে এই মাঠে হওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ৫১ করে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। দারুণ ইনিংসে দেখা গেল কালও। এই মাঠ শুধু মাহমুদউল্লাহর নয়, এখন বাংলাদেশেরও প্রিয়!

হবে না কেন? এ মাঠে এলেই তো বাংলাদেশ সিরিজ জেতে!

Print Friendly, PDF & Email