Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

৪২ শিক্ষার্থীর জামিন, ঈদের খুশি পরিবারে

আপডেটঃ 3:31 pm | August 20, 2018

বাহাদুর ডেস্ক:

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র ইকতিদার হোসাইন অয়নের বাবা এবাদত হোসেন তালুকদারের চোখে আনন্দাশ্রু। আদালত এলাকা থেকেই ছেলের জামিন হওয়ার খবর মোবাইল ফোনে জানাচ্ছিলেন স্বজনদের। কণ্ঠস্বর কাঁপছিল খুশিতে। খবর দিতে দিতেই তিনি ছেলেকে মুক্ত করতে রওনা হলেন কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়জন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বাকিরাও আজকালের মধ্যে মুক্তি পাবেন।

শুধু অয়ন নন, গতকাল রোববার ঢাকার তিনটি আদালত থেকে জামিন মিলেছে ৪২ শিক্ষার্থীর। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাংচুরের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এখন নতুন মামলায় গ্রেফতার না দেখালে জামিনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। জামিনের সংবাদে ‘ঈদের খুশি’ ছড়িয়ে পড়েছে তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে।

ঢাকার থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাংচুর, উস্কানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ৫২ শিক্ষার্থী।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, বুধবার ৪২ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তারা সবাই জামিনও পেয়েছেন।

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীদের জামিন-সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পরপরই তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। এরই মধ্যে গতকাল রোববার রাতে নয়জন মুক্তিও পেয়েছেন।

বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেফতার মেহেদী হাসানের জামিনের সংবাদ শুনে তার বাবা এম এ মাসুদ খান আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আজ তার আনন্দের দিন। ছেলে গ্রেফতার হওয়ায় পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছিল। ঈদের আগে ছেলে জামিন পাওয়ায় তারা খুশি।

শিক্ষার্থী জাহিদুল হক জামিন পাওয়ায় তার বোন জাফরিন হকের খুশি ছিল দেখার মতো। জাফরিন চিৎকার করে বলছিলেন, ‘ভাইয়ার জামিন হয়েছে। ভাইয়াকে এখন মুক্ত করতে পারব।’ এরপরই আদালত এলাকায় আনন্দে কেঁদে ফেলেন জাফরিন।

শিক্ষার্থীদের জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকায় গতকাল সকালেই আদালত চত্বরে চলে আসেন তাদের স্বজন ও সহপাঠীরা। গ্রেফতার শিক্ষার্থীরা একে একে জামিন পাওয়ায় তাদের সহপাঠীরা উল্লাস প্রকাশ করেন।

ধানমণ্ডির মামলায় গ্রেফতার হন দুই ভাই মাহমুদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান। মাহমুদ পড়েন ইউল্যাবে আর মাহবুব বিএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জামিন হওয়ার খবর শুনেই তাদের স্বজনরা জানান, দুই ভাইয়ের জামিন হয়েছে। এতে তারা খুশি। কারণ, একসঙ্গে ঈদ করতে পারবেন তারা।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো ও ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মঈনউদ্দিন সিদ্দিকী ৪২ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঈদ ও পরীক্ষা- এ দুই দিক বিবেচনা করে বিচারকরা আসামিদের জামিন দিয়েছেন।

জামিন পাওয়া ৪২ জনের মধ্যে ২২ জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আফতাবনগরের ইস্ট ওয়েস্ট, বসুন্ধরা এলাকার নর্থ সাউথ, তেজগাঁও এলাকার সাউথইস্ট ও মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা তিন মামলায় গ্রেফতার নয় শিক্ষার্থীরও জামিন হয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন হয় তাদের। তারা হলেন- সোহাদ খান, মাসরিকুল ইসলাম, তমাল সামাদ, মাহমুদুর রহমান, ওমর সিয়াম, মাহাবুবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, নাইমুর রহমান ও মিনহাজুল ইসলাম।

গত ৪ আগস্ট বিকেলে জিগাতলা ও ধানমণ্ডিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অফিস ভাংচুরের ঘটনার মামলায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই আন্দোলন চলার সময় রাজধানীর শাহবাগ, উত্তরা (পশ্চিম), নিউমার্কেট ও কোতোয়ালি থানায় করা পৃথক মামলায় গ্রেফতার আরও সাতজনের জামিন হয়েছে।

বাড্ডা থানার মামলায় জামিন পাওয়া ১৪ ছাত্র হলেন- রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান।

অন্যদিকে, ভাটারা থানার মামলায় জামিন পাওয়া আট ছাত্র হলেন- আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।

রোববার সকালে আদালতের কাছে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। অ্যাডভোকেট কবীর হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া, আক্তার হোসেন জুয়েল, মিজানুর রহমান, আদনান রোজীসহ কয়েকজন আইনজীবী এ আবেদন করেন।

শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও অনেকের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে গেলেও বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের চেষ্টা করেন। পরদিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা।

Print Friendly, PDF & Email