Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

| |

বাংলাদেশের ৭৫% মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে :বিশ্বব্যাংক

আপডেটঃ 7:48 pm | September 27, 2018

বাহাদুর ডেস্ক:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের তাপমাত্রাও বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০৫০ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যার চার ভাগের তিন ভাগ বা ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই সংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ। আর্থিক মূল্যে ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন- জিডিপির অন্তত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে গতকাল এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘দক্ষিণ এশিয়া উষ্ণায়ন :তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের প্রভাবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সমস্যা মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞ সমাধান এবং আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা সফররত সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টিং সেফার। তিনি বলেছেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় কৃষিবহির্ভূত খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বাংলাদেশকে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও মনোযোগ বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবেলায় অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানে সহজ শর্তের ঋণ প্রয়োজন। বেশিরভাগ ঋণই কঠিন শর্তের। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির সহযোগিতা চাওয়া হবে। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দারিদ্র্য কমছে। সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে বিদেশি বিনিয়োগও বেড়েছে। এসবের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ হতে পারে বলে তিনি জানান।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফ্যান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত এক ডজন দ্বীপাঞ্চল বিলীন হয়ে গেছে। অনেক এলাকা লবণাক্ত পানির নিচে। এতে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক থেকে এরই মধ্যে দেড় বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং বদ্বীপ পরিকল্পনায় সহযোগিতা দেবে বিশ্বব্যাংক।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর পরিবেশগত পর্যালোচনা-সংক্রান্ত ঢাকায় প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশদূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের ৮০ হাজার মানুষ মারা গেছে। দূষণের কারণে সৃষ্ট রোগ-বালাইয়ে প্রতিবছর সারাদেশে মারা যায় ২৮ শতাংশ মানুষ। পরিবেশগত বিপর্যয়ে এ দেশে বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৬৫০ কোটি ডলার বা ৫৪ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এ হিসাব শুধু শহরাঞ্চলের। সারাদেশের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ অনেক বেশি।

গতকালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৬০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু চুক্তির সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তাপমাত্রা বছরে এক থেকে দেড় ডিগ্রি বাড়তে পারে। যদি ওই চুক্তির সুপারিশ অনুসরণ না করা হয়, তা হলে তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিভাগকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০ জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাই সাতটি। এ বিভাগের কক্সবাজার ও বান্দরবান দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। এ দুই জেলার পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও নোয়াখালী।

প্রতিবেদনের লেখক এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার লিড ইকোনমিস্ট মাথুকুমারা মানি বলেন, জলবায়ুর এই পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলের মাথাপিছু ভোগক্ষমতা কমে যেতে পারে। আবার বেড়ে যেতে পারে দারিদ্র্য, যা বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম অঞ্চলে পরিণত করতে পারে দক্ষিণ এশিয়াকে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক :প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে সোনারগাঁওয়ে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং প্রথমবারের মতো ঢাকা সফরে আসা বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টিং সেফার। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন হার্টিং সেফার। তারা কক্সবাজার সফর করেছেন, সেখানে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাবনা দেখে এসেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন এখন আর ঢাকা-চট্টগ্রামকেন্দ্রিক নয়। সারাদেশেই বিনিয়োগ হচ্ছে। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলেও সেসব প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন তিনি। তবে রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি বলে জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে হার্টিং সেফার বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন তিনি। এসব শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ অনেক কিছুই করছে। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক মহল সেই স্বীকৃতি দেয়। এ দেশের বৃহৎ এবং দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি-না- এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি।

Print Friendly, PDF & Email